দেশের দক্ষিণ-পশ্চিঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যশোর-খুলনা মহাসড়কের ৩৮ কিলোমিটার অংশ বছরের পর বছর ধরে ভোগান্তির মহাসড়কে পরিণত হয়ে আছে। গত ৯ বছরে এই সড়ক সংস্কার ও পুনর্নির্মাণে সরকারের খরচ হয়েছে ৫৫৪ কোটি টাকারও বেশি। সংস্কার কাজ শেষ হতে না হতেই আবারও ভাঙন শুরু হয়, শুরু হয় ফের সংস্কার কাজ। একই সড়ক বারবার সংস্কার হলেও তা চলাচলের উপযোগী না হওয়ায় সরকারি অর্থের কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন মহাসড়ক ব্যবহারকারীরা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ধমনি যশোর-খুলনা মহাসড়ক। যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর, সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর এবং মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে সড়ক, রেল ও নৌপথে খাদ্যশস্য, সার, কয়লা, শিল্প-কলকারখানার কাঁচামালসহ বিভিন্ন আমদানিপণ্য যশোরের নওয়াপাড়া নৌবন্দরে আসে। পরে এখান থেকে এসব পণ্য সড়ক ও রেলপথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এসব পণ্য সরবরাহ করা হয়। এই সরবরাহ লাইনের সবচেয়ে বড় ধমনি যশোর-খুলনা মহাসড়কের যশোর-নওয়াপাড়া অংশের ৩৮ কিলোমিটার। অথচ গত ৯ বছরেরও বেশি সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে আছে। সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ভাঙাচোরা, কোথাও কাঁদা, কোথাও ধুলা। স্বাভাবিকভাবে গাড়ি চালানো যায় না। ধীরগতিতে হেলেদুলে বড় বড় যানবাহনগুলো বাধ্য হয়ে চলাচল করছে। এভাবে চলতে গিয়ে অনেক স্থানে যানবাহন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সড়কের ওপরেই সেগুলো মেরামত করা হচ্ছে। এসব কারণে ব্যবসায়ীদের পরিবহন ব্যয় বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে পণ্যের দামের ওপরও। দুর্ঘটনাও ঘটছে অহরহ। সড়কের এ অবস্থার কারণে অনেকেই তাদের যানবাহন নিয়ে বিকল্প পথে অনেক দূর ঘুরে খুলনা বা নওয়াপাড়া বন্দরে যাতায়াত করছেন। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভগের তথ্য অনুযায়ী, এ মহাসড়কে ২০১৭ সালের পর থেকে দুটি প্রকল্পে ৪৮৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকার সংস্কার কাজ শেষ হয়। বর্তমানে আরও দুটি প্রকল্পে ৬৭ কোটি ১৯ লাখ টাকার সংস্কার কাজ চলছে। সব মিলিয়ে ব্যয় ৫৫৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ সংস্কারকাজই এখন নতুন এক দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। যশোর জেলা পরিবহন সংস্থা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোর্ত্তজা হোসেন বলেন, এই মহাসড়ক দিয়ে তো যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ট্রেনের ওপর চাপ বেড়েছে। নওয়াপাড়া বন্দর থেকে পণ্য নিয়ে ট্রাকগুলোকে বাধ্য হয়েই এ মহাসড়ক ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু ট্রাক চালাতে হয় ধীরগতিতে। মহাসড়কটি বেশ কয়েকটি স্থানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যামে আটকে থাকতে হয় তাদের। এতে সময় নষ্ট হচ্ছে। পণ্য পরিবহনের ব্যয়ও বেড়েছে। গাড়ির ক্ষতি হচ্ছে। দুর্ঘটনায় জানমালেরও ক্ষতি হচ্ছে।