পারিবারিক দ্বন্দ্ব, মাদকাসক্তি কিংবা ব্যক্তিগত আক্রোশের জেরে খুলনায় স্বজনদের হাতে প্রাণহানির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। কখনো বাবার হাতে মেয়ে খুন, আবার কখনো ছেলের হাতে খুন হচ্ছেন মা-স্বজনরা। গত ছয় মাসে খুলনায় ৪৩টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ১৯টি ঘটে পারিবারিক দ্বন্দ্বে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সামাজিক অনুশাসন ও পারিবারিক বন্ধন ভেঙে পড়ায় পরিস্থিতি ভয়ংকর হয়ে উঠছে। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের ১৭টি মামলায় ৫৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া ২৫৭টি মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হন ৩৫৭ জন। স্থানীয়রা জানান, ২৪ জুন খালিশপুরে শরীরে আঘাতে চিহ্নসহ মমতাজ পারভীনের লাশ উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে মাসুম হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পারিবারিক কলহে এ হত্যার ঘটনা ঘটে বলে সন্দেহ পুলিশের। ৮ জুলাই প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় বস্তাবন্দি আরফানা হোসেন নির্জনা নামে তরুণীর লাশ উদ্ধার হয়। পরে সিসি ক্যামেরা ধারণকৃত ভিডিওতে দেখা যায় মোটরসাইকেলে করে এক ব্যক্তি বস্তাটি ফেলে স্থান ত্যাগ করেন। তদন্তে জানা যায়, পিতা আলীম হোসেন আকাশ ও মা আরিফা ইয়াসমীন সীমা মেয়েকে হত্যার পর ওই স্থানে ফেলে যান। গ্রেপ্তারের পর দুজনেই হত্যার দায় স্বীকার করেন। ১০ এপ্রিল রূপসা মোহাম্মদপুর গ্রামে নেশার টাকার জন্য মাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে ছেলে নাদিম ইসলামের বিরুদ্ধে। ৩০ মে পারিবারিক দ্বন্দ্বে খুন হওয়া দুই নাতিসহ নানির লাশ সোনাডাঙ্গা এলাকার ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) জেলা সম্পাদক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই খুদা বলেন, সামাজিক অবক্ষয় থেকে এ ধরনের অপরাধ বাড়ছে। পারিবারিক বন্ধন ভেঙে গেছে। পারিবারিক-সামাজিক অনুশাসন শিশুর শিক্ষার মধ্যে ইনক্লুড (সংযুক্ত) করতে হবে। অপরাধ বন্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইন করতে হবে।


খুলনা সরকারি সুন্দরবন কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক প্রকাশ চন্দ্র অধিকারী বলেন, রাগ, হতাশা, মাদকাসক্ত ও পারিবারিক সম্পর্কের ভাঙন থেকে সহিংস হয়ে উঠছে মানুষ। এর  পেছনে রয়েছে পারিবারিক কলহে সমাজব্যবস্থার নৈতিক অবক্ষয় ও স্বার্থের দ্বন্দ্ব। পারিবারিক শিক্ষার অভাব, ইন্টারনেটের ব্যবহার ও যান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা দিন দিন আমাদের মানবিক মূল্যবোধ নষ্ট করে ফেলছে।


পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, পারিবারিক কলহে যেন কোনো ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে এজন্য নিয়মিত কাউন্সেলিং ও অপরাধ দমনে কাজ করছে পুলিশ। অভিভাবকদের তাদের সন্তানদের যথেষ্ট খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে।