বৈষম্যবিরোধী কোটা আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন। দেখতে দেখতে সে ঘটনার দুই বছর পেরিয়ে গেছে। তাঁর আত্মত্যাগই তৎকালীন সরকারবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে বিবেচিত হয়। দুই বছরপূর্তিতে আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুরে তাঁর ছেলের নামে একটি মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ না পাওয়ায় এখনো নির্মাণকাজ শুরু হয়নি। দ্রুত অর্থ ছাড় করে মসজিদের নির্মাণকাজ শুরুর জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আদালত এক কনস্টেবলকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন। তবে তাঁর দাবি, গুলি চালানোর ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও জড়িত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধেও যথাযথ বিচার নিশ্চিত হওয়া উচিত।


মকবুল হোসেন বলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আবু সাঈদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং জুলাই গণ অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে তোরণ, জাদুঘর, স্ট্রিট মেমোরিয়াল, স্মৃতিস্তম্ভসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এসব প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও দুই বছরেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পরও কেন এসব প্রকল্পের কাজ শুরু হলো না?’ তাঁর ভাষায়, ‘আবু সাঈদকে নিয়ে এমন অবহেলা আমাদের খুব কষ্ট দেয়।’ শেখ হাসিনার বিচার প্রসঙ্গে মকবুল হোসেন বলেন, তাঁর ছেলের হত্যার বিচার সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হলে কিছুটা হলেও তাঁর মনের কষ্ট লাঘব হবে। তিনি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের রায়ের দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান। একই সঙ্গে জীবদ্দশায় ছেলের হত্যাকান্ডের বিচার কার্যকর হতে দেখাই তাঁর শেষ ইচ্ছা বলে উল্লেখ করেন।