দক্ষিণাঞ্চলের কোটি মানুষের চিকিৎসার অন্যতম প্রধান ভরসাস্থল বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতাল। অথচ এ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) চিত্র উদ্বেগজনক। ২০১৫ সালে চালু হওয়া এ ইউনিটে ১১ বছরেও নিয়োগ দেওয়া হয়নি ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন (সিসিএম) বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। ২০১৯ সালে চারটি বিশেষজ্ঞ পদের সৃষ্টি হলেও সাত বছর সেগুলো শূন্য পড়ে আছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াই চলছে সংকটাপন্ন রোগীদের জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণের এই ইউনিট।
হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া বিভাগ ও আইসিইউর দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ডা. মো. শফিকুল ইসলাম জনবলসংকট ও অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, দক্ষ জনবল ও আধুনিক চিকিৎসাসুবিধা ছাড়া আইসিইউ চালু রাখায় রোগীদের যথাযথ সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে আইসিইউতে আটটি সক্রিয় বেড ও হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিটের (এইচডিইউ) চারটি বেড চালু রয়েছে।
তিন মাসে মৃত্যু ১২৮ রোগীর : আইসিইউতে রোগী ভর্তি ও মৃত্যুর পরিসংখ্যানও উদ্বেগ তৈরি করেছে। হাসপাতালের নথিপত্র ও মাঠপর্যায়ের তথ্যের বরাত দিয়ে জানা গেছে, চলতি বছরের আগস্টে ৮০ জন রোগী ভর্তি হয়ে মারা গেছেন ৪৬ জন। সেপ্টেম্বরে ৮০ জনের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৪৪ জনের। আর অক্টোবরের ২৫ দিনে ভর্তি হওয়া ৭৩ জনের মধ্যে মারা গেছেন ৩৮ জন।
তথ্যানুযায়ী, এ তিন মাসে ২৩৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ১২৮ জন। এ সময়ের ভর্তি রোগীদের মধ্যে মৃত্যুর অনুপাত প্রায় ৫৫ শতাংশ। এ বিষয়ে শেবাচিম হাসপাতালের মিডিয়া মুখপাত্র ও অর্থোপেডিকস বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. মাজহারুল রেজওয়ান রেজা জানান, আইসিইউ পূর্ণাঙ্গভাবে পরিচালনার জন্য সিসিএম বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অত্যন্ত জরুরি।