সমুদ্রের হিমেল হাওয়া ও ঢেউয়ের গর্জন উপভোগ করে ঘুমাতে গিয়েছিলেন টুপটুপ রিসোর্টের পর্যটকরা। সকালের আলো ফুটলেও অনেকেই ছিলেন ঘুমিয়ে। আবার কেউ কেউ সকালের সৈকত উপভোগ করতে গিয়েছিলেন। কারও আনন্দ ভ্রমণ শেষে গতকালই বাসায় ফেরার প্রস্তুতিও সম্পন্ন ছিল। কিন্তু আগুনের লেলিহান শিখা পাল্টে দিয়েছে সব হিসাব। আনন্দ ভ্রমণের স্পট পরিণত হয় শোকের ছায়ায়।
রিসোর্টে পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে একই পরিবারের ৬ জনসহ ১০ জনের লাশ। যাদের স্বজনদের হৃদয়বিদারক কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে সমুদ্রপাড়ের বাতাস। কেউ সন্তানের নাম ধরে আহাজারি করেন, কেউ বিলাপ করে স্ত্রীকে ডাকেন, কেউ ভাগনে ভাগ্নিকে খোঁজেন। আগুন লাগার সময় থেকে শুরু হওয়া এই আহাজারি চলে সারাদিন। যাদের স্বজন পরপারে চলে গেছে- তাদের এই আহাজারি হয়তো কোনোদিনও থামবে না।
গতকাল সরেজমিনে এমন দৃশ্য দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এক নারীকে রিসোর্টের সামনে বিলাপ করতে করতে ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। এ সময় পুরো রিসোর্টে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছিল। ওই নারীকে বারবার ‘আমার সাইফকে আইন্না দাও’ বলে আহাজারি করতে দেখা যায়। জানা গেছে, ওই নারী পূজার ছুটিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন। তবে সাইফ তার কী সম্পর্কের ব্যক্তি এবং তিনি জীবিত আছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শুধু ওই নারীই নয়- ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া পর্যটকরা চোখের সামনে নিজের স্বজনদের পুড়ে অঙ্গার হতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। কেউ স্বজনকে বাঁচাতে আগুনের দিকে ছুটে যান। রিসোর্টে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে ছুটে আসা স্বজনরাও রিসোর্টের সামনে বিলাপ করতে থাকেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, রিসোর্টের কক্ষগুলোর মেঝে, দেয়াল ও সিঁড়ির বড় অংশ ছিল কাঠের। সামনের সড়কের পাশে কাঠের খুঁটির ওপর তৈরি রেস্তোরাঁর একটি অংশও ছিল। স্থাপনাটিতে ব্যবহৃত কাঠের বেশির ভাগ ঝাউগাছের। পাশের এক দোকানি জানান, আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের মতো শব্দ শুনেছিলেন তারা। এরপর বাইরে এসে আগুন দেখতে পান।
রিসোর্টের কর্মচারী মোহাম্মদ সোহেল জানান, ঘটনার সময় রিসোর্টে ১৮ জন অতিথি ছিলেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, আগুন লাগার সময় রিসোর্টের ছয় থেকে সাতটি কক্ষে পর্যটকরা অবস্থান করছিলেন। তাদের কেউ কেউ ঘুমিয়ে ছিলেন। কাঠ ও বাঁশের তৈরি স্থাপনায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পর্যটকরা ছুটতে থাকেন। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান ও পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।