ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের সামরিক হামলা চালালে তার জবাবে কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে, এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলে ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও যুদ্ধজাহাজগুলোকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

রোববার যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ভুল হিসাব-নিকাশ’ না করার পরামর্শ দিয়ে এই সতর্কবার্তা দেয় ইরানি নেতৃত্ব। একই সময়ে দেশজুড়ে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণহানির সংখ্যা বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএন‘র তথ্য অনুযায়ী, চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৪৯০ জন বিক্ষোভকারী এবং ৪৮ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। তবে রয়টার্স এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। ইরান সরকারও এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি।

২০২২ সালের মাহসা আমিনি আন্দোলনের পর এটিই ইরানে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি, মুদ্রার ব্যাপক অবমূল্যায়ন ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলন দ্রুত রাজনৈতিক রূপ নেয়। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে এবং অনেক জায়গায় সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৃহস্পতিবার থেকে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রেখেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, ৬০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ইরানে ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে, ফলে প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, ‘প্রতিবাদ জনগণের অধিকার। জনগণের কোনো উদ্বেগ থাকলে আমরা তা শুনতে প্রস্তুত। তবে দাঙ্গাবাজদের সমাজকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেওয়া যাবে না।’

তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে অস্থিরতা উসকে দেওয়ার জন্য দায়ী করে বলেন, বিদেশি শক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে সহিংসতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

এদিকে, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও সাবেক রেভল্যুশনারি গার্ড কমান্ডার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করে বলেন, ‘ইরানে হামলা হলে দখলকৃত ভূখণ্ড (ইসরায়েল) এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক ঘাঁটিজাহাজ আমাদের বৈধ লক্ষ্য হবে।’

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার ইরানে সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ না করার জন্য তেহরানকে সতর্ক করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বিক্ষোভকারীদের ‘সহায়তা দিতে প্রস্তুত’।

রয়টার্স জানিয়েছে, এই প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। দেশটির নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হস্তক্ষেপ করলে আঞ্চলিক পরিস্থিতি দ্রুত আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।