ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজধানী তেহরান ইতিহাসের বৃহত্তম জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।  শোকার্ত ও অশ্রুসিক্ত অনুরাগীর উপস্থিতিতে গতকাল পর্যন্ত তিন ধাপে তিনটি জানাজা হয়েছে। এতে অংশ গ্রহণ করেছেন খামেনির তিন পুত্রসহ তাঁর ভাইয়েরাও। ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তারাও জানাজায় অংশ নিয়েছেন। বিদেশিদের মধ্যে ছিলেন ৭০টির বেশি দেশের প্রতিনিধিরা। তেহরানের এই জনসমুদ্র দেখে হতবাক হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি খামেনিকে ইঙ্গিত করে তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম মানুষ তাকে ঘৃণা করে।’ সূত্র : পার্স টুডে, আল জাজিরা, রয়টার্স, গালফ নিউজ। প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, খামেনির শেষকৃত্যানুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে গতকাল ইরানের রাজধানী জনসমুদ্রে পরিণত হয়। মুসাল্লা ঘিরে যেসব সড়ক ও পথ রয়েছে, সেসবও কানায় কানায় ভরে যায়। শোক করার পাশাপাশি সর্বোচ্চ নেতার জানাজার নামাজ পড়তে ইরানিরা এদিন তেহরানে ভিড় করেন। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় জানাজার কয়েক ঘণ্টা আগেই কফিন রাখা মসজিদ কমপ্লেক্সটির সবকটি ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়।


লাখ লাখ শোকার্ত ও অশ্রুসিক্ত অনুরাগীর উপস্থিতিতে তিন ধাপে এদিন তিনটি জানাজা হয়। নামাজ শুরু হয় স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১০টা)। প্রথম ধাপে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজার নামাজ আদায় করা হয়। এরপর তার মেয়ে সাইয়্যেদা বুশরা হোসেইনি খামেনি, জামাতা মেসবাহ-উল-হুদা বাকেরি, পুত্রবধূ (বর্তমান সর্বোচ্চ নেতার স্ত্রী) জাহরা হাদ্দাদ আদেলের জানাজা হয়। সবশেষ ধাপে খামেনির ১৪ মাস বয়সি নাতনি (বুশরাকন্যা) জাহরা মোহাম্মাদি গোলপায়েগানির জানাজা হয়। জানাজার নামাজ পরিচালনা করেন আয়াতুল্লাহ শেখ জাফর সুবহানি। খামেনির ছেলে হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ মোস্তফা, সৈয়দ মাসুদ ও সৈয়দ  মেয়সাম খামেনি এবং প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার ভাইয়েরা জানাজায় অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তবে খামেনির আরেক ছেলে, ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা জানাজায় ছিলেন কি না- সে বিষয়টি স্পষ্ট করেনি রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম। প্রসঙ্গত, ইরান ও ইরাকের পাঁচটি শহরজুড়ে ছয় দিন ধরে এই শোকানুষ্ঠান চলবে। এর মধ্যে আজ তেহরানে হবে প্রধান শোকযাত্রা। বৃহস্পতিবার ইরানের মাশহাদ শহরে আরেকটি  শোভাযাত্রার পর হযরত ইমাম রেজার মাজারে দাফন করা হবে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে।


অঝোরে কাঁদলেন খামেনির ৩ ছেলে : খামেনির জানাজায় অংশ নিয়ে বাবার মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে অঝোরে  কেঁদেছেন তার তিন ছেলে। জানাজায় প্রয়াত নেতা ও তার পরিবারের চার সদস্যের কফিনগুলো যখন তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় রাখা ছিল, তখন খামেনির তিন ছেলে মোস্তফা, মাসুদ ও মেয়সাম খামেনিকে গভীরভাবে শোক প্রকাশ করতে ও কাঁদতে দেখা যায়। জানাজায় ৭০টির বেশি দেশের প্রতিনিধি : খামেনির রাষ্ট্রীয় শোক ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতায় যোগ দেওয়ায় বিশ্বের ৭০টির বেশি দেশের প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।


শোক দেখে হতবাক ট্রাম্প : ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায়ে ইরানিদের কাঁদতে দেখে তীব্র বিস্ময় প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম মানুষ তাকে ঘৃণা করে।’