রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের লোকোমোটিভ মাস্টার (এলএম) সুমন দাস। কাগজে-কলমে সিজিপিওয়াই লোকোশেডের অধীনে ট্রেন চালান তিনি। গত এক দশক ধরে প্রতিমাসে লোকো মাস্টারদের জন্য বরাদ্দকৃত মাইলেজ ভাতাসহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধাও গ্রহণ করে আসছেন। অথচ এই সময়ে একদিনের জন্যও ট্রেন চালকের আসনে বসেননি তিনি। মূল পদবী এলএম হলেও কোনো ধরণের অফিস আদেশ ছাড়াই তিনি কাজ করছেন পাহাড়তলী ডিএমই (ডিভিশনাল মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার) লোকো অফিসে স্টেনোগ্রাফার হিসেবে। অভিযোগ রয়েছে, ডিভিশনাল মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার-লোকো এবং কর্মব্যবস্থাপক (ডিজেল) অফিসের ঠিকাদারদের পছন্দে এই দায়িত্ব পালন করে আসছেন সুমন দাস। এছাড়া ক্রয় আদেশ অনুযায়ী ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন সংগ্রহ করে কর্তাদের পৌঁছে দেয়ার জন্যও তিনি বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত। এই সুযোগে নিজেও ঠিকাদারদের নিয়ে যৌথভাবে গড়ে তুলেছেন একটি ‘সিন্ডিকেট’।


জানা যায়, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ডিএমই (লোকো) কার্যালয়ে বিভিন্ন কাজের টেন্ডার হয়। আর এসব টেন্ডার ইজিপিতে হলেও কৌশলে তা নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন লোকো মাস্টার সুমন দাস। উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজস করে পছন্দের ঠিকাদারদের কাছে গোপনে দরদাম জানিয়ে দিচ্ছেন তিনি। ফলে নির্দিষ্ট ঠিকাদাররাই এককভাবে কাজ পাচ্ছে। মূলত দীর্ঘদিন ধরে একই অফিসে কাজ করার মাধ্যমে নিজের একটি বলয় তৈরি করেছেন সুমন দাস। তাছাড়া কোনো ধরণের অফিস আদেশ না থাকায় দায়বদ্ধতাও নেই। এ কারণে দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে। বর্তমানে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ঠিকাদারদের সাথে মিলে যৌথ ব্যবসা করে আসছে সুমন দাস। এসব বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ দেয়া হলেও অদৃশ্য কারণে আমলে নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ট্রেন চালক বলেন, সুমন দাস ট্রেন না চালিয়েও একদিকে যেমন প্রতি মাসে লোকো মাস্টার হিসেবে মাইলেজসহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করে আসছে, অন্যদিকে ঠিকাদারদের কাছ থেকেও আদায় করছেন নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সবকিছু দেখেও না দেখার ভান করছে। এতে করে অনেকের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।


একাধিক ঠিকাদারের অভিযোগ, ডিএমই (লোকো) ও কর্মব্যবস্থাপক (ডিজেল) অফিসে ক্রয়আদেশ অনুযায়ী ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কমিশন দিতে হয় সুমন দাসকে। আবার বিল নেওয়ার সময়ও আরেক দফা উৎকোচ দিতে হয়। এরপরই সরবরাহকৃত যন্ত্রাংশের বিল পান ঠিকাদাররা। এ কারণে নির্দিষ্ট ঠিকাদার ছাড়া অন্য কেউ সেখানে মালামাল সরবরাহ করতে পারে না। 


অভিযোগের বিষয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের লোকোমোটিভ মাস্টার (এলএম) সুমন দাসের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তার ভাই পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি জানান, তিনি ঘুমাচ্ছেন পরে ফোন দেওয়া হবে। এরপর বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও আর তাকে পাওয়া যায়নি।


জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ডিএমই (লোকো) রেজওয়ান উল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সুমন দাস আমার অধীনে কাজ করে, এটা ঠিক। কিন্তু অফিসে না। সুমন দাশ অভিজ্ঞ বলে তাকে দিয়ে কিছু কাজ করানো হয়। তার সিন্ডিকেটের কথা আমার জানা নেই।