নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে ইলেকট্রিক ট্রেন চলবে ১৬০ কিলোমিটার বেগে। নতুন এই রেল প্রকল্প, রাজধানীর বহুলপ্রত্যাশিত তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্পসহ মোট ১২টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। গতকাল বিকালে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি। এদিন সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী, একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৪৮ হাজার ২৫৬ কোটি ৩০ লাখ এবং প্রকল্প ঋণ ১ লাখ ২০ হাজার ৪৬৬ কোটি ৩৯ লাখ। অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে নতুন সাতটি ও সংশোধিত পাঁচটি। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর বৈদ্যুতিক ট্রেন। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮২২ কোটি ৫১ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের অর্থায়ন ৯৪২ কোটি ৯ লাখ এবং প্রকল্প ঋণ ২ হাজার ৮৮০ কোটি ৪২ লাখ। ৫২ দশমিক ৩২ কিলোমিটার রেলপথে বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশনব্যবস্থা স্থাপনের মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো রেলপথ বিদ্যুতায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্প প্রসঙ্গে জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘আমাদের এই কমিউটার ট্রেনের সর্বোচ্চ গতি হবে ১৬০। এ ১৬০ চলার মতো যে ট্র্যাকলাইন দরকার, ডুয়েলগেজের ট্র্যাকলাইন, এটা তৈরি করা হচ্ছে। এর প্রায় ৭০ শতাংশ ইতোমধ্যে এগিয়ে গেছে। কাজেই এটার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের এই কমিউটার ট্রেনের জন্য যে প্রকল্প, সেটা সম্পন্ন হলে এ ট্র্যাকলাইনে কমিউটার ট্রেনটা প্রায় ১৬০ গতিতে চলবে।’ এ ছাড়া বড় ব্যয়ের প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (এমআরটি লাইন-১) প্রথম সংশোধন। বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এ প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। জাপানের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-৫-এর নর্দার্ন রুটের প্রথম সংশোধনেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। মূল প্রকল্পের ব্যয় ছিল ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। সংশোধিত প্রস্তাবে ব্যয় বেড়েছে ১১৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ। গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-৫-এর সাউদার্ন রুট নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এর ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার অংশ পাতালপথে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ প্রকল্পে এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক ও দক্ষিণ কোরিয়া ঋণসহায়তা দেবে। বগুড়া-সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নতুন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের প্রথম সংশোধনে ব্যয় ৫ হাজার ৫৭৯ কোটি ৭০ লাখ থেকে বেড়ে ১০ হাজার ৫৭০ কোটি ২৯ লাখ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ ব্যয় বেড়েছে ৪ হাজার ৯৯০ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বা ৮৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। রাজশাহী সড়ক জোনের জেলা মহাসড়ক উন্নয়নে ব্যয় হবে ৯৪৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। চট্টগ্রাম সড়ক জোনের আওতায় একই ধরনের তৃতীয় পর্যায়ের প্রকল্পে ব্যয় হবে ১ হাজার ৪৫৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। বরিশাল সেনানিবাস স্থাপনের দ্বিতীয় পর্যায়ে ১ হাজার ১৫৩ কোটি ৬০ লাখ এবং খুলনা নৌ অঞ্চলে আবাসন ও অবকাঠামো নির্মাণে ৩৭৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয় হবে। খুলনা পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পের প্রথম সংশোধনে ব্যয় ২ হাজার ৩৩৪ কোটি ১৩ লাখ ৮৫ হাজার থেকে বেড়ে ২ হাজার ৬০৪ কোটি ৫৩ লাখ ৮ হাজার টাকা হয়েছে। প্রকল্পটির মেয়াদও জুন, ২০২৭ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বস্ত্র ও চামড়া খাতের শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা উন্নয়নে ৮৯ কোটি ২৫ লাখ টাকার একটি প্রকল্প এবং মনপুরা দ্বীপাঞ্চলের বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থা উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের প্রথম সংশোধনও অনুমোদন পেয়েছে। এ ছাড়া একনেক সভায় ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের অনুমোদিত আরও ১৫টি প্রকল্পের বিষয়ে অবহিত করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘ঢাকার পরিবহনব্যবস্থা আধুনিকীকরণ এবং যানজট নিরসনে ভূগর্ভস্থ মেট্রোরেল ও ইলেকট্রিক ট্রেনলাইনের গুরুত্ব অনেক। এ ধরনের গণপরিবহন নগরবাসীর মূল্যবান সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা বাড়াবে।’