চলতি মাসেই ইউনিয়ন পরিষদের ধাপভিত্তিক ভোটের তফসিল দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। গতকাল দুপুরে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।


আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছি। এরই মধ্যে আচরণবিধি চূড়ান্ত করেছি।’ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল কবে হবে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ মাসের মধ্যেই অনেক কিছু দেখবেন এবং অনেক কিছুই আমরা সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারব। কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ খুব দ্রুত গতিতে চলছে, সেগুলো শেয়ার করব।’ তিনি জানান, নভেম্বর-ডিসেম্বর দুই মাস ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার সময়। শিক্ষকদের জন্যও খুব ব্যস্ততার সময়। বিশেষ করে বার্ষিক পরীক্ষা, বৃত্তি পরীক্ষা, তারপর টেস্ট পরীক্ষা, প্রি-টেস্ট পরীক্ষা থাকবে। তফসিল ঘোষণার ক্ষেত্রে পরীক্ষাগুলো বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে।’ তিনি জানান, ভোটকেন্দ্রগুলো হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে। ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তা হিসেবে প্রিসাইডিং অফিসার, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার হবেন শিক্ষকরা। ‘ভোটের দিণক্ষণ নির্ধারণে কয়েকটি বিষয়’ বিবেচনায় নিয়ে তফসিল ঘোষণার কথা জানান আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা রাখি পরীক্ষার সময় বাদ দিয়ে আগে বা পরে আমরা নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করব। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন শুরু হবে।’


জামায়াতের দাবি ও ইসিকে চাপে রাখার ফর্মুলা : স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কাযক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পদধারীদের ভোটে অযোগ্য, এমপিওভুক্তদের ভোটে রাখাসহ ৯ দফা দাবি দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী দলীয় মনোনয়ন ছাড়া অরাজনৈতিকভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে। এর জন্য নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা সংশোধন হবে। ‘নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ নির্বাচন অরাজনৈতিক (নির্দলীয়)। স্থানীয় সরকার নির্বাচন অরাজনৈতিকভাবেই হবে। এ বিষয়ে আইন আছে, এর বাইরে নির্বাচন কমিশনের কিছু করার নেই, বলারও সুযোগ নেই।’ আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা ভোটে অংশ নিলে বা ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে থাকলে তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ কারণেই নির্বাচন কমিশন আইন সংশোধনের সুপারিশ করেছে।


জামায়াত নেতাদের দাবি, ‘ইসি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না, কমিশনকে অসহায় মনে হচ্ছে।’ এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘আমি চাপে আছি নাকি স্বাধীন আছি- এটা তো আমি জানি। এ কথা বলেই বরং আমাদেরকে চাপে রাখার চেষ্টা হচ্ছে। এমন চেষ্টা করা উচিত নয়।’


ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ৯০ দিনে, চট্টগ্রাম-৪ রায়ের কপির অপেক্ষা : আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, শিগগিরই ঠাকুরগাঁওয়ের একটি সংসদীয় আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। ঠাকুরগাঁও-১ আসন গত ২১ আগস্ট শূন্য হয়েছে। ৯০ দিনের মধ্যে এ শূন্যতা পূরণ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এখানে উপনির্বাচন করার জন্য আমরা প্রস্তুত। তিনি আরও জানান, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থীর প্রার্থিতা আদালত ভোটের পরে বাতিল করেছেন। এ বিষয়ে আদালতের আদেশের কপি কমিশন হাতে না পাওয়ায় পরবর্তী করণীয় এখনো নিতে পারেনি। তিনি বলেন, ‘আদালতের বিচারাধীন বিষয়ে আমরা কিছু বলতে পারি না। আদেশের কপির জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই।’