পুরুষ জাতীয় ফুটবল দল একবারই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা জিতেছিল। ২০০৩ সালে ঢাকায় ফাইনালে মালদ্বীপকে হারিয়ে প্রথম ও শেষবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। এরপর ট্রফি জেতাটা স্বপ্নে পরিণত হয়েছে। এমনকি সেমিফাইনালও খেলতে পারছিল না। পুরুষরা ব্যর্থতার বৃত্তে বন্দি থাকলেও মেয়েরা জয়গান গেয়েই চলেছেন। ২০২২ ও ২০২৪ সালে সাবিনা খাতুনের নেতৃত্বে নারী জাতীয় দল টানা দুবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। দেশের ফুটবল ইতিহাসে পুরুষ জাতীয় দল টানা দুবার কখনো চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি।


নারী জাতীয় দলের সামনে এবার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে হ্যাটট্রিক শিরোপার হাতছানি। গতকাল ভারতের গোয়ায় আসরের পর্দা উঠেছে। সত্যি বলতে কি, ভারতে আয়োজন হলেও মেয়েদের ট্রফি ধরে রাখার সামর্থ্য রয়েছে বাংলাদেশের। ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ২৮ মে মালদ্বীপের বিপক্ষে। ৩১ মে প্রতিপক্ষ ভারত। ‘এ’ গ্রুপে খেলছে নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও ভুটান। বড় কোনো অঘটন না ঘটলে বাংলাদেশের মেয়েদের সেমিফাইনাল এমনকি ফাইনালও নিশ্চিত বলা যায়। তবে আসর গড়ানোর পরই সংশয় তৈরি হয়েছে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত শিরোপা ধরে রাখতে পারবে কি না। দলের মধ্যে হঠাৎ এক সিদ্ধাতেই এমন সংশয়।


২০২২ ও ২০২৪ সালে শিরোপাজয়ী বাংলাদেশের অধিনায়ক ছিলেন সাবিনা খাতুন। এবার তিনি দলে সুযোগই পাননি। পারফরম্যান্স পড়তির দিকে বলে তাঁকে ক্যাম্পে ডাকা হয়নি। অথচ বাস্তবে নাকি কোচ বাটলারের পছন্দ নয় বলে বাদ দেওয়া হয়েছে। তা না হলে প্রথমবারের মতো ফুটসালে অংশ নিয়ে বাংলাদেশকে চ্যাম্পিয়ন করানোর পরও ক্যাম্পে ডাকা হলো না কেন? যাক, সাবিনা যখন নেই তখন কাউকে অধিনায়ক করতেই হবে। আফঈদা খন্দকারকে অধিনায়ক করে সাফে চূড়ান্ত দল গঠন হয়। থাইল্যান্ডে কন্ডিশনিং ক্যাম্পে যাওয়ার আগে হেড কোচ বাটলার ও অধিনায়ক আফঈদা পাশাপাশি বসে সংবাদ সম্মেলন করেন।


যোগ্যতার গুণেই আফঈদা সাফে বাংলাদেশের অধিনায়ক হন। তাঁর নেতৃত্বে নারী জাতীয় দল প্রথমবার এশিয়ান কাপ চূড়ান্ত পর্বে সুযোগ পায়। বাছাই পর্বে মিয়ানমারের মাটিতে মিয়ানমারকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। অনূর্ধ্ব-২০ দলও আফঈদার নেতৃত্বে এশিয়ান কাপ চূড়ান্ত পর্বে সুযোগ পায়। যাঁর নেতৃত্বে এশিয়ান কাপে বাংলাদেশ খেলল, এখন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে জাতীয় দলকে তিনিই নেতৃত্ব দেবেন এটাই স্বাভাবিক। আফঈদার পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট হয়ে কোচ বাটলারও বলেছিলেন, ‘আমি একজন যোগ্য অধিনায়ক পেয়েছি।’


বাংলাদেশ যখন হ্যাটট্রিক মিশনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছিল তখনই নেতৃত্ব থেকে আফঈদাকে সরিয়ে দেওয়া হলো। দলকে এখন নেতৃত্ব দেবেন মারিয়া মান্ডা। গতকাল পর্দা উঠেছে নারী সাফ ফুটবলের। আগের দিন ছিল দলগুলোর অফিশিয়াল সংবাদ সম্মেলন। সেখানেই দেখা গেল বড় চমক। কোচ বাটলারের পাশে অধিনায়ক হিসেবে চেয়ারে বসলেন মারিয়া মান্ডা। সন্দেহ নেই মারিয়াও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। আগের দুই আসরে তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়। তার পরও প্রশ্ন উঠেছে-কী এমন হলো যে হঠাৎ নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা হলো?


কোচ বাটলারের চাওয়াতেই অধিনায়ক পরিবর্তন। বাটলার দেখছেন নেতৃত্বের চাপে আফঈদা তাঁর সেরাটা দিতে পারছেন না। তাই দলের স্বার্থেই এমন সিদ্ধান্ত। বাস্তবে কি তা-ই ঘটেছে? কেননা ইংলিশ কোচ এমনিতেই নাক উঁচু স্বভাবের। যখন যাকে পছন্দ করবেন না তাকে শায়েস্তা করতে চান। যেমনটি করেছেন সাবিনাদের বেলায়। এখন অধিনায়কে পরিবর্তন এনে দলে গ্রুপিং তৈরি হলে মাঠে তার প্রভাব পড়বেই। আরেকটি বিষয় না বললেই নয়, আফঈদার পারফরম্যান্সে কী এমন ঘাটতি পড়ল? বাংলাদেশ তো ভালোই খেলছে। তাহলে কোন খেলা দেখে কোচ বুঝতে পারলেন আফঈদার পারফরম্যান্সে ঘাটতি রয়েছে? মারিয়াও নাকি নেতৃত্ব নিতে চাননি। ভারতের মাটিতে এমনিতেই ভারত ফেবারিট। এরপর যদি দলে মতবিরোধ তৈরি হয় তাহলে হ্যাটট্রিক মিশন সফল হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।