পর্তুগালের বিপক্ষে বদলি নেমেছিলেন মিকেল মেরিনো। ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে গোল করে কোয়ার্টার ফাইনালে টেনে তুলেছিলেন স্পেনকে। গতকালের কোয়ার্টার ফাইনালেও বেলজিয়ামের বিপক্ষে ৮৬ মিনিটে বদলি নামেন মেরিনো। ৮৮ মিনিটে বেলজিয়ামের বদলি গোলরক্ষক লামিন্সের ভুলে ফিরতি বলে দুর্দান্ত গোলে স্পেনকে ২০১০ সালের পর ফের সেমিফাইনালে তোলেন। লামিনে ইয়ামাল, দানি অলমো, লাউ কুবারসিরার শৈল্পিক ফুটবলে স্পেন ২-১ গোলে বেলজিয়ামকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠে। সেমিফাইনালে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রতিপক্ষ ১৯৯৮ ও ২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্স।        


কোয়ার্টার ফাইনালের টানটান উত্তেজনার ম্যাচে গোলবার শেষ পর্যন্ত অক্ষত রাখতে পারেননি স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমন। বেলজিয়ামের বিপক্ষে গতকাল সেমিফাইনালে ওঠার ম্যাচে নেমেছিলেন ৬০৯ মিনিট গোলবার অক্ষত রেখে। তার চেয়ে বেশি সময় গোল না খাওয়ার রেকর্ড ছিল না বিশ্বের আর কোনো গোলরক্ষকের। এবারের বিশ্বকাপে তিনি ভেঙেছেন ইতালির ওয়াল্টার জেঙ্গার ৫১৯ মিনিটের রেকর্ড। সেটা ভেঙে শেষ পর্যন্ত ৬৪৯ মিনিট পর্যন্ত গোলবার অক্ষত রাখেন। ৬৫০ মিনিটে অবিশ্বাস্য সিমন পরাস্ত হন বেলজিয়ামের চার্লস ডি ক্যাটেলার দুর্দান্ত এক হেডে। তার ওই গোলেই চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের ষষ্ঠ ম্যাচে গোল খায় স্পেন। অবশ্য তার আগে ৩০ মিনিটে এগিয়ে গিয়েছিল ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ওলমোর শট ঠেকিয়ে দেন বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কার্তোয়া। ফিরতি বলে চকিত শটে স্পেনকে ১-০ গোলে এগিয়ে নেন ফ্যাবিয়ান রুইজ। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ গোলের সমতায়। দ্বিতীয়ার্ধে বেলজিয়াম মাঠে নামে একাধিক পরিবর্তন নিয়ে। রেফারির বাঁশি বাজতেই গোলের জন্য বেলজিয়ামের গোলবারে ঝাঁপিয়ে পড়েন ইয়ামাল, অলমো, কুবাসাউরা। কিন্তু তাদের সব আক্রমণ চীনের প্রাচীর হয়ে রুখে দেন কর্তোয়া। ৭০ মিনিটে ব্যথা পেয়ে মাঠ ছাড়েন কর্তোয়া। তার বদলি নামেন লামিন্স। তার ভুলেই বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ে বেলজিয়াম। দুই দল বিশ্বকাপে পরস্পরের বিপক্ষে খেলেছে ৩৬ বছর। যে কোনো ফরম্যাটে মুখোমুখি হয়েছে ২০১৬ সালের পর। ১৯৮৬ সালে মেক্সিকো বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে দুই দলের ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। টাইব্রেকারে স্পেনকে ৪-৫ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনাল খেলে বেলজিয়াম। ১৯৯০ সালে অবশ্য প্রতিশোধ নেয় স্পেন ২-১ গোলে জয় তুলে। এবারও জিতেছে ২-১ গোলে।


স্প্যানিশ কোচ দে লা ফুয়েন্তে গতকাল অনন্য এক রেকর্ডের হাতছানি নিয়ে ডাগ আউটে বসেন। ইউরোর নকআউটে অপরাজিত ছিলেন তিনি। এবারের বিশ্বকাপেও তিনি অপরাজিত রইলেন। বড় কোনো আসরে ৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড ছিল এতোদিন ইতালির ভিত্তোরিয়া পোজ্জো (১৯৩৪-৩৮) ও স্পেনের সাবেক কোচ ভিসেন্তে দেল বস্কের (২০১০-১২)। এবার সেখানে যোগ দিলেন দে লা ফুয়েন্তে। সব মিলে গত ৩৬ ম্যাচে অপরাজিত রইলো লা ফুয়েন্তের স্পেন। জয় ২৭টি এবং ড্র ৯টি। বেলজিয়ামের সর্বশেষ ১২ ম্যাচে অপরাজিত রইলো। ২৩ মুখোমুখিতে ১৩ জয় সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। ৫ জয় বেলজিয়ামের এবং ড্র ৫টি।