তিনি লিওনেল মেসি। ফুটবল জাদুকর। মুহূর্তেই বদলে দেন ম্যাচের গতিপথ। এক টানে দলকে খাদের গভীর থেকে তুলে আনেন। পরাজয়ের শঙ্কায় কাঁপতে থাকা দর্শকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেন বিজয়ের আনন্দ। অতীতে বহুবার এমনটা হয়েছে। গতকাল আরও একবার মেসি জাদুতে মুগ্ধ হলেন আর্জেন্টিনার সমর্থকরা। ফাইনালে ওঠার আনন্দে মেতে উঠলেন আলবেসিলেস্তরা। আটলান্টা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। এ জয়ের কারিগর লিওনেল মেসি। দুটি গোলেই অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। তবে ম্যাচের শেষদিকে ৭ মিনিটের ব্যবধানে এনজো ফার্নান্দেজ ও লটারো মার্টিনেজের গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনাল নিশ্চিত করে লিওনেল স্কালোনির দল।
সেমিফাইনালের মঞ্চে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার লড়াই শুরু থেকেই উত্তাপ ছড়ায়। তবে আক্রমণের চেয়ে প্রথমার্ধে বেশি দেখা গেছে শরীরী লড়াই। ফাউল, ধাক্কাধাক্কি আর উত্তেজনার মধ্য দিয়ে গোলশূন্য থেকেই শেষ হয় প্রথমার্ধ। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড।
আটলান্টার এই হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে প্রথমার্ধে দুই দলই গোলের সুযোগ তৈরিতে ব্যর্থ হয়। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ১৯৬৬ সালের পর এই প্রথম কোনো ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দল মিলিয়ে গোলপোস্টে একটি শটও নিতে পারেনি। প্রথমার্ধে খেলার চেয়ে ফাউলের সংখ্যাই ছিল বেশি। দুই দল মিলে করেছে ১৯টি ফাউল। এর মধ্যে আর্জেন্টিনার ফাউল ১২টি, ইংল্যান্ডের ৭টি। ম্যাচের শুরুতেই ইংল্যান্ডের এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে ফাউল করা নিয়ে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে রেফারির হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বিরতির পর আক্রমণেকিছুটা গতি বাড়ায় আর্জেন্টিনা। ৪৭ মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজ ডান দিক দিয়ে ঢুকে ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডকে পরীক্ষা নেন। কাছের পোস্টে নেওয়া তাঁর শট দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন পিকফোর্ড। কিছুক্ষণ পর আবারও সুযোগ পেয়েছিলেন আলভারেজ, কিন্তু তাঁর শট জালের বদলে লাগে সাইড নেটে। তবে ম্যাচের ৫৫ মিনিটে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ডান প্রান্ত থেকে মরগান রজার্সের ক্রসে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে গোল করেন অ্যান্থনি গর্ডন। তাঁর এই গোলেই ১-০ ব্যবধানে লিড নেয় থমাস টুখেলের দল। এই গোলটা যেন ঘুমন্ত আর্জেন্টিনাকে জাগিয়ে তোলে। গোল হজমের পর আর্জেন্টিনা আক্রমণের ধার বাড়ানোর চেষ্টা করে। ৬৪ মিনিটে প্রথম পরিবর্তন আনেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে তুলে মাঠে নামানো হয় নিকো গঞ্জালেজকে। হাইড্রেশন ব্রেকের পর আরও তিনটি পরিবর্তন আনেন আর্জেন্টাইন কোচ স্কালোনি। লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, নাহুয়েল মলিনা ও জুলিয়ানো সিমিওনের পরিবর্তে মাঠে নামেন অভিজ্ঞ নিকোলাস ওতামেন্দি, রদ্রিগো ডি পল এবং গনসালো মন্টিয়েল। আর্জেন্টিনা গোলের দারুণ কিছু সুযোগও তৈরি করে। কিন্তু প্রতিবারই জর্ডান পিকফোর্ড বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিলেন আর্জেন্টিনার সামনে। কখনো গোলপোস্টে বল লেগে ফিরে আসছিল। ৮৫ মিনিটে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির ক্রসে বল পেয়ে প্রায় ২০ গজ দূর থেকে জোরালো শটে বল জালে জড়ান এনজো ফার্নান্দেজ। ম্যাচের নব্বই মিনিট শেষ। ম্যাচটা এগিয়ে যাচ্ছিল অতিরিক্ত ত্রিশ মিনিটের দিকে। ৮১ মিনিটে বদলি নামা লটারো মার্টিনেজকে দিয়ে আরও একটা গোল করালেন মেসি। এই গোলেই জয় নিশ্চিত হলো আর্জেন্টিনার। ফাইনাল নিশ্চিত করল লিওনেল মেসির দল। এর আগে ম্যাচের শুরুতে দুই দলই একাদশে পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে। ইংল্যান্ড তিনটি পরিবর্তন করে। এজরি কনসা, নিকো ও’রাইলি ও ননি মাদুয়েকের জায়গায় একাদশে আসেন রিস জেমস, জেড স্পেনস ও মরগান রজার্স। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা একাদশ থেকে রদ্রিগো দি পলকে বাদ দিয়ে জুলিয়ানো সিমিওনেকে শুরু থেকে খেলায়।