ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজতেই বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার আনন্দে লাফিয়ে ওঠেন স্পেনের লামিনে ইয়ামাল, উনাই সিমনরা। হারের বেদনার কান্না লুকাতে মুখ ঢেকে ফেলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলেরা। ২০১০ সালে প্রথম ফাইনাল খেলেছিল স্পেন। সেবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল লা ফুরিয়া রোজারা। ১৬ বছর পর দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠল স্পেন। ২০২৬ সালে বিশ্বকাপে লামিনে ইয়ামাল, মিকেল ওইয়ারসাবাল, পেদ্রো পররো, দানি অলমোদের স্পেন ফাইনালে উঠল কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে, মাইকেল অলিসেদের ফ্রান্সকে বোতলবন্দি করে ২-০ গোলে হারিয়ে। ফাইনালে স্পেন মুখোমুখি হবে আজকের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড জয়ী দলের বিপক্ষে। পুরো ম্যাচে স্বপ্নের ফুটবল খেলেছে স্পেন। বল পাস করেছে ৫০০টি। বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল ৫০.৯ শতাংশ। এ নিয়ে টানা ৩৭ ম্যাচে অপরাজিত থাকার রেকর্ড গড়ল তারা। অবশ্য সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালি কোচ রবার্তো মানচিনির অধীনে ২০১৮-২০২১ সালে ৩৭ ম্যাচে অপরাজিত থাকার রেকর্ড গড়েছিল। স্পেন ২০২৪ সালে ইউরো চ্যাম্পিয়ন। ২০১০ সালে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন ইউরো চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ২০০৮ ও ২০১২ সালে। হেরে টানা তৃতীয়বার ফাইনাল খেলা হলো না ফ্রান্সের। সব মিলিয়ে লা ব্লুজরা ষষ্ঠবার হারল সেমিফাইনালে। ম্যাচ শুরুর পর আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে স্পেন ও ফ্রান্স। ম্য্যাচের ১৯ মিনিটে ডি বক্সে বুক দিয়ে বল রিসিভ করেন ফ্রান্স রক্ষণভাগের লুকাস দিনিয়ে। ভলিতে বল ক্লিয়ারের সময় দিনিয়ের লাথি আগুয়ান লামিনে ইয়ামালকে আঘাত হানে। সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি। পেনাল্টি পায় স্পেন। ফ্রান্সের ফুটবলাররা আবেদন করলেও ভিআর-এর শরণাপন্ন হননি রেফারি। চলতি বিশ্বকাপে এটা ২১তম পেনাল্টি। ২২ মিনিটে স্পেনের ২১ নম্বর জার্সিধারী মিকেল ওইয়ারসাবাল ঠান্ডা মাথায় বাঁ পায়ের শটে এগিয়ে নেন স্পেনকে (১-০)। ওইয়ারসাবাল এখন এক মৌসুমে স্পেনের সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ডের মালিক। তার গোল ১৪টি। ২০০৮-০৯ মৌসুমে ডেভিড ভিয়ার গোল ১৩টি। ম্যাচে অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে খেলেছে স্পেন। ফ্রান্স খেলেছে দুই পরিবর্তন নিয়ে। দেজিরে দুয়ের বদলে ব্র্যাডলি বারকোলা এবং অরিলিয়াঁ চুয়ামেনি ফেরেন মানু কোনোর জায়গায়। গোলের জন্য মরিয়া হয়েও স্পেনের রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেননি এমবাপ্পেরা। প্রথমার্ধ শেষ হয় স্পেনের লিডে। দ্বিতীয়ার্ধে খেলার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ৫৮ মিনিটে গোল ব্যবধান ২-০ করেন পেদ্রো পররো। গোলটি নিজেই তৈরি করেন নেন দানি অলমের সঙ্গে। ৬৪ মিনিটে গোল করেছিলেন ইয়ামাল। কিন্তু লাইন্সম্যান অফসাইড ধরলে গোল বাতিল হয়। ০-২ গোলে পিছিয়ে ১৯৯৮ ও ২০১৮ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স চেষ্টা করে ব্যবধান কমাতে। কিন্তু স্পেনের চীনের প্রাচীরের মতো শক্তিশালী রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি ফ্রান্স।
দুই দলের সর্বশেষ দুটি ম্যাচ ছিল ইউরোপের সবচেয়ে বড় দুটি আসরে। ২০২৪ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে স্পেন ২-১ গোলে হারিয়েছিল ফ্রান্সকে। ২০২৫ সালে নেশনস কাপের রোমাঞ্চকর ম্যাচে লা ফুরিয়া রোজারা ৫-৪ গোলে হারিয়েছিল লা ব্লুজকে। গতকালের সেমিফাইনালের আগে দুই দল আরও একবার মুখোমুখি হয়েছিল বিশ্বকাপে। ২০০৬ সালের ওই ম্যাচে ৩-১ গোলে জিতেছিল ফ্রান্স। ২০ বছর পর পরস্পরের বিপক্ষে দ্বিতীয় মুখোমুখিতে ২-০ গোলে জিতে প্রতিশোধ নেয় স্পেন।