বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল এখন মেলবোর্নে। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। ব্যাংককে নারী রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপের ফাইনাল দেখে দেশে ফেরার কথা ছিল বিসিবি সভাপতির। ফেরেননি। বিসিবির এক প্রভাবশালী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী ২-৩ দিনের মধ্যেই ফিরবেন। বাজারে গুঞ্জন, ভিন্ন কিছু। বিসিবির সভাপতির দেশে ফেরা, না ফেরার বিষয়টি যখন আলোচনার তুঙ্গে তখন সমান্তরালে আলোচনায় রয়েছেন দেশসেরা অলরাউন্ডার ও সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। আওয়ামী সরকারের পট পরিবর্তনের পর হত্যাকান্ড, চেক জালিয়াতির আইনি ঝামেলায় সাকিবের বিপক্ষে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। সেজন্যই সাকিব দেশে ফিরতে পারছেন না। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার দেশে ফিরে জাতীয় দলের হয়ে খেলতে পারবেন কি না এ প্রশ্ন নতুন করে ঘুরপাক খাচ্ছে। বিএনপি সরকার গঠনের পর সাকিবের দেশে ফেরা বিষয়টি ফের গুরুত্ব সহকারে আলোচনায় উঠে এসেছে। ক্রীড়াপ্রেমীরা চাইছেন, সাকিব ফের দেশের পক্ষে ক্রিকেট খেলুক এবং দেশের মাটি থেকেই অবসর নিক। ক্রিকেট বোর্ড চাইছে সাকিবকে ফেরাতে। এজন্য সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করছে বিসিবি। সাকিবের আইনি কাগজপত্র নিয়ে যুব ও ক্রীড়া এবং আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বিসিবির গতকাল যোগাযোগ করার কথা। এ বিষয়ে বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিসিবির এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘বিসিবি চাইলেই কি সাকিবকে খেলাতে পারবে? তবে এটা সত্যি, বিসিবি নিয়মিত যোগাযোগ করছে সরকারের সঙ্গে। অপেক্ষা করছে সরকারের সবুজ সংকেতের। একই সঙ্গে মানতে হবে, সাকিবের বিষয়টি পুরোটাই আইনি জটিলতা।’ 


সাকিব আল হাসান নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় তারকা। অথচ তিনি আইনি জটিলতায় দেশের পক্ষে খেলতে পারছেন না। গত বছরের এপ্রিলে তার বিপক্ষে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। এজন্য তিনি দেশে ফিরতে পারছেন না। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লিগের সংসদ সদস্য ছিলেন। সাকিব এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাননি।


বিভিন্ন দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলছেন। সাবেক অধিনায়ক চাইছেন দেশের মাটি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিতে। সাকিব দেশের হয়ে সর্বশেষ টেস্ট খেলেছেন ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ভারতের বিপক্ষে কানপুরে। ওয়ানডে খেলেছেন ২০২৩ সালের নভেম্বরে, দিল্লিতে বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। দেশের পক্ষে সর্বশেষ টি-২০ খেলেছেন ২০২৪ সালের জুনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংসটাউনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-২০ বিশ্বকাপে। ক্যারিয়ারে সাকিব ৭১ টেস্টে ৪৬০৯ রান ও ২৪৬ উইকেট নিয়েছেন। ২৪৭ ওয়ানডেতে ৭৫৭০ রান ও ৩১৭ উইকেট এবং ১২৯ টি-২০ ক্রিকেটে ২৫৫১ রান ও ১৪৯ উইকেট নিয়েছেন।


তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ খেলতে ৯ মার্চ ঢাকায় আসছে পাকিস্তান। সিরিজের ম্যাচ তিনটি যথাক্রম ১১, ১৩ ও ১৫ মার্চ। ক্রিকেটপ্রেমীরা আশা করছেন পাকিস্তান সিরিজে খেলতে দেখা যাবে সাকিবকে। আসলেই কি সেটা সম্ভব?