হামজা চৌধুরী এখন ঢাকায়। এসেছেন বিজ্ঞাপনে অংশ নিতে। বিজ্ঞাপনের ফাঁকে চেয়েছিলেন মিরপুর স্টেডিয়ামে টাইগার ক্রিকেটারদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে। কিন্তু সময়ের গ্যাঁড়াকলে যেতে পারেননি। হামজা উপস্থিত না হলেও বাংলাদেশে ক্রিকেটাররা নিবিড় অনুশীলন করেছেন। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছেন আগামীকাল পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট খেলতে নামার। ২০২৪ সালের পর পাকিস্তানের বিপক্ষে ২ টেস্ট ম্যাচ সিরিজ খেলবেন নাজমুল হোসেন শান্তরা। দুই বছর আগে রাওয়ালপিন্ডির দুটি টেস্টে নাজমুল বাহিনী জিতেছিল যথাক্রমে ১০ ও ৬ উইকেটে। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়ে এবার ঘরের মাটিতে খেলবে। প্রতিপক্ষ পাকিস্তান অবশ্য মার্চে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলে গেছে বাংলাদেশে। মেহেদি হাসান মিরাজের নেতৃত্বে সিরিজটি জিতেছিল টাইগাররা। এবার নাজমুলের নেতৃত্বে প্রস্তুতি নিচ্ছে পাকিস্তানের বিপক্ষে সাদা পোশাক ও লাল বলে খেলার। প্রতিপক্ষ পাকিস্তান ঢাকায় এসেছে শান মাসুদের নেতৃত্বে। দলটিতে চারজন নতুন মুখ। ফিরেছেন বাবর আজম। দুই দল অষ্টম টেস্ট সিরিজ খেলবে এবার। ঢাকায় পাকিস্তান এসেছে ২০২১ সালের পর। দুই দল ব্যাট ও বলের শক্তিমত্তার পরীক্ষা দেবে মাঠে। কিন্তু মাঠের বাইরে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতায় বেশ এগিয়ে বাংলাদেশ। মিরপুর টেস্টের জন্য বাংলাদেশ যে ১৫ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে, তাতে নতুন মুখ দুজন। সবাই একত্রে টেস্ট খেলেছেন ৫০০টি। রান করেছেন ২২ হাজার ৯৮২ এবং উইকেট নিয়েছেন ৬৬৪টি। পাকিস্তান এসেছে ১৬ সদস্যের দল নিয়ে। দেশটির ক্রিকেটাররা একত্রে টেস্ট খেলেছেন ৩৪২টি। রান করেছেন ১৫ হাজার ৭১৫ ও উইকেট নিয়েছেন ৫০৭টি।
মিরপুর স্টেডিয়ামেসিরিজে একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে মুশফিকুর রহিম খেলবেন ১০০ টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে। গত ডিসেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ১০০ টেস্ট খেলেছেন। পাকিস্তানের ৬ ক্রিকেটার ১০০ টেস্ট খেলেছেন। বর্তমান দলে সবচেয়ে বেশি টেস্ট খেলেছেন সাবেক অধিনায়ক বাবর আজম, ৬১টি। দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রান মুশফিকের। ১০০ টেস্টে টাইগার সাবেক অধিনায়কের রান ৬ হাজার ৫১০। পাকিস্তানের সবচেয়ে বেশি রান বাবরের, ৬১ টেস্টে ৪ হাজার ৩৬৬। দুই দলের ক্রিকেটারদের সেঞ্চুরি সংখ্যাও বাংলাদেশের বেশি, ৪৫টি। সফরকারীদের সেঞ্চুরি ২৫টি। ৩টি ডাবল সেঞ্চুরি মুশফিকুর রহিমের। পাকিস্তানের একটি ডাবল সেঞ্চুরি সৌদ শাকিলের। পাকিস্তানের পক্ষে সবচেয়ে বেশি ৯ সেঞ্চুরি বাবরের এবং টাইগারদের পক্ষে ১৩টি করে সেঞ্চুরি দুই সাবেক অধিনায়ক মুশফিক ও মুমিনুল হকের। টাইগার ব্যাটারদের ৯৭ হাফ সেঞ্চুরির বিপরীতে পাকিস্তানের হাফ সেঞ্চুরি ৮৬টি।
বোলিংয়ে বাংলাদেশের উইকেট সংখ্যা ৬৬৪। পাকিস্তানের ৫০৭টি। দুই দেশের পেসারদের মধ্যে টাইগার চার পেসার সবাই নিয়মিত ১৪০-১৪৫ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করেন। নাহিদ রানা, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও ইবাদত হোসেন; পেসার চতুষ্টয় একসঙ্গে টেস্ট খেলেছেন ৬১টি। উইকেট নিয়েছেন ১৪৫টি। নাহিদ ১০ টেস্টে ২৭, তাসকিন ১৭ টেস্টে ৪৯, ইবাদত ২২ টেস্টে ৪৩ ও শরিফুল ১২ টেস্টে উইকেট নিয়েছেন ২৬টি। পাকিস্তানের পেসাররা অবশ্য এগিয়ে অভিজ্ঞতা ও উইকেট শিকারে। পাকিস্তানের শাহীন আফ্রিদি, নাসিম আলি, খুররম সাজ্জাদ ও মোহাম্মদ আব্বাস চার পেসার একসঙ্গে টেস্ট খেলেছেন ৮১টি। উইকেট নিয়েছেন ৩২১। আফ্রিদি ৩৩ টেস্টে ১২১টি, আব্বাস ২৭ টেস্টে ১০০, হাসান ২৫ টেস্টে ৮০টি খুররম ৬ টেস্টে ২০ উইকেট নেন। স্পিন বিভাগে বেশ অনেক এগিয়ে টাইগার দুই স্পিনার। সফরকারীদের কোনো স্পিনার ১০০ উইকেট ক্লাবে নেই। বাঁ-হাতি স্পিনার নোমান ৯৭ উইকেট নিয়েছেন। আরেক অফ স্পিনার সজিদ খান নিয়েছেন ৬৫ উইকেট। টাইগার স্পিনারদের মধ্যে ৫৭ টেস্টে ২৫০ উইকেট তাইজুল ইসলামের এবং ৫৬ টেস্টে ২১০ উইকেট মিরাজের।
লিটন দাস ও মুশফিক উইকেট কিপিং করেন। লিটন ৫২ টেস্টে ১১২ ক্যাচ ও ১৭ স্ট্যাম্পিং করেছেন। মুশফিক এখন করেন না উইকেটকিপিং। তার পরও ১০০ টেস্টে ক্যাচ নিয়েছেন ১১৩টি ও স্ট্যাম্পিং ১৫টি। অমিত হাসানকে নেওয়া হয়েছে তৃতীয় উইকেটরক্ষক হিসেবে। পাকিস্তানের উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ান। ৪১ টেস্টে ক্যাচ নিয়েছেন ১১২টি ও স্ট্যাম্পিং করেছেন ১০টি।