চ্যালেঞ্জ কাপ জিতে এবারের ফুটবলে ঘরোয়া আসর শুরু করেছিল বসুন্ধরা কিংস। পেশাদার লিগেও তারা শিরোপার পথে হাঁটছে। ১৫ ম্যাচে ৩৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে ফুটবল কিং বসুন্ধরা কিংস। শুধু কি তাই, ফেডারেশন কাপেও ফাইনালে উঠে ট্রফি জয়ের অপেক্ষায় রয়েছে তারা। এর আগেও দলটির তিন শিরোপা জেতার রেকর্ড রয়েছে। স্বাধীনতার পর ট্রেবল জেতার কৃতিত্ব রয়েছে ঢাকা মোহামেডান ও শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের। কিংস এবার ট্রেবল জিতলে সবাইকে ছাড়িয়ে যাবে। বড় কোনো অঘটন না ঘটলে আবারও এক মৌসুমে তিন ট্রফি জিততে চলেছে কিংস। ২০১৮-১৯ মৌসুমে পেশাদার ফুটবলে অভিষেকের পর কিংস কখনো ট্রফিশূন্য থাকেনি।


গতকাল ফেডারেশন কাপে কোয়ালিফায়ারে মুখোমুখি হয়েছিল দুই গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস ও ব্রাদার্স ইউনিয়ন। বসুন্ধরা কিংস অ্যারিনায় অনুষ্ঠিত এ ম্যাচে কিংসই ছিল ফেবারিট। কিন্তু ফুটবলে কখন অঘটন ঘটে তা তো বলা যায় না। তা ছাড়া বৃষ্টিভেজা মাঠে ভালো খেলতে ব্যাঘাতও ঘটে। না, কোনো কিছুই চাপে রাখতে পারেনি আসরের চ্যাম্পিয়নদের।


পেশাদার লিগের দ্বিতীয় লেগে ব্রাদার্সের বিপক্ষে ঘাম ঝরানো জয় পেলেও ফেডারেশন কাপ কোয়ালিফায়ার-১ ম্যাচে তাদের পাত্তাই দেয়নি। ৪-০ গোলে জিতে ফেডারেশন কাপ ইতিহাসে ষষ্ঠবারের মতো জায়গা করে নিয়েছে কিংস। এখন ফাইনালে প্রতিপক্ষ কে হবে সেই অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে কিংসকে। গতকাল এলিমিনেটরে মোহামেডান ৩-০ গোলে রহমতগঞ্জকে হারিয়ে ফাইনালে খেলার আশা জাগিয়ে রেখেছে। ১২ মে তারা কুমিল্লায় ব্রাদার্সের বিপক্ষে ফাইনালে উঠতে লড়বে।


কিংস অ্যারিনায় সহজ জয়ে কিংস যে খুব গতিময় খেলা খেলেছে তা-ও না। বৃষ্টিভেজা মাঠে তা সম্ভবও ছিল না। প্রথমার্ধে ব্রাদার্স যেভাবে পাল্লা দিয়ে লড়ে তাতে মনে হচ্ছিল ম্যাচ হাড্ডাহাড্ডি হবে। ডরিয়েলটন, রাকিব, ফাহিম, জুনিয়র সোহেল রানা, সাদ উদ্দিনদের নৈপুণ্যে গোপীবাগের দলটি সুবিধা করতে পারেনি। দলে একাধিক পাকিস্তানি খেলোয়াড় থাকলেও তারা ছিলেন ম্লান। প্রথমার্ধে রাকিবের গোলে এগিয়ে ছিল কিংস। ম্যাচের তিন মিনিটেই সাদ উদ্দিনের নিখুঁত ক্রসে রাকিব কোনাকুনি শটে জালে বল জড়ান। ১০ মিনিট পর সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল ব্রাদার্স। গিনির ফরোয়ার্ড কেরফালা কৌয়াতে হেডে গোল করতে ব্যর্থ হন। কিংসও ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল। জাল না চেনায় তা আর হয়নি।


দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফিরতে ব্রাদার্স মরিয়া হয়ে ওঠে। বারবার বল নিয়ে তারা কিংসের বিপজ্জনক এলাকায় ঢুকে পড়লেও কাজের কাজটি করতে পারেনি। এবারের মৌসুম যেন কিংসের ম্যাচে ব্রাজিলিয়ান ডরিয়েলটনের গোল করাটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। যেন ডরিয়েলটনের গোল ছাড়া কিংসকে মানায়ই না।


গতকালও এরই প্রতিফলন ঘটল। ৭১ মিনিটে সাদ উদ্দিনের ক্রসে নিজের প্রথম ও দলের দ্বিতীয় গোল করেন ডরিয়েলটন। দুই মিনিট পর আবারও তাঁর গোল। শাহরিয়ার ইমনের পাসে প্রতিপক্ষের গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে গোল করেন ডরিয়েলটন। ফেডারেশন কাপে এক হ্যাটট্রিকসহ এটি তাঁর নবম গোল। লিগেও ১৫ গোল করে শীর্ষে রয়েছেন। কয়েক ম্যাচ ধরে এক বিদেশি নিয়েই খেলছে কিংস। সেখানে কি না ডরিয়েলটন একাই এক শ! ৮৮ মিনিটে দলের শেষ ও চতুর্থ গোলটি করেন বদলি সাব্বির হোসেন।


আসা যাক কুমিল্লার ম্যাচে। সত্যি কথা বলতে কি, ভাষাসৈনিক ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে অনুপযোগী মাঠে ম্যাচ গড়াবে কি না এ নিয়ে সংশয় ছিল। প্রথমার্ধের পর বৃষ্টিতে ম্যাচ এক ঘণ্টা বন্ধ ছিল। তার পরও এ ম্যাচ শেষ করা গেছে। দুর্দান্ত খেলে মোহামেডান ৩-০ গোলে রহমতগঞ্জকে পরাজিত করেছে। জুয়েল মিয়া ২ ও সৌরভ দেওয়ান ১টি গোল করেন। এখন অপেক্ষা ব্রাদার্স বাধা পেরিয়ে মোহামেডান ফাইনাল খেলতে পারবে কি না দেখার।