বিশ্ব ফুটবলে বর্তমানে ফ্রান্সের নাম শুনলেই প্রতিপক্ষের বুক কাঁপে। এর যথেষ্ট কারণও আছে। গত দুই বিশ্বকাপেই ফাইনাল খেলেছে ফ্রান্স। ২০১৮ সালে ফাইনালে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে জয় করেছে শিরোপা। ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে রানার্সআপ হয়েছে। তবে সে ফাইনাল ছিল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক ফুটবলীয় লড়াই। যেখানে দুই দলকেই বিজয়ী বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা। আর গত দুই বিশ্বকাপেই ফ্রান্স দলের কেন্দ্রে ছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে।
মাত্র ২৭ বছর বয়সেই এমবাপ্পে যেন এক জীবন্ত কিংবদন্তি। দুই বিশ্বকাপে করেছেন ১২ গোল। আর মাত্র পাঁচ গোল করলেই ভেঙে দিতে পারেন জার্মান তারকা মিরোস্লাভ ক্লোসার সর্বোচ্চ ১৬ গোলের রেকর্ড। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে তার গতির সামনে অসহায় ছিল আর্জেন্টিনা। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে হ্যাটট্রিক করেও দলকে শিরোপা এনে দিতে পারেননি। তবু সেই রাতেই আরও বড় তারকা হয়ে উঠেছেন এমবাপ্পে। ফুটবল সম্রাট পেলে একবার বলেছিলেন, ‘এমবাপ্পে আমার উত্তরসূরি হতে পারে।’ আর ফরাসি কিংবদিন্ত জিনেদিন জিদানের দাবি, ‘সে ইতিহাস গড়বে।’ ইতিহাস এরই মধ্যে গড়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। পেলের পর একমাত্র তরুণ হিসেবে বিশ্বকাপ ফুটবলে টানা ফাইনাল খেলেছেন। জয় করেছেন।
তবে ফ্রান্স শুধু এমবাপ্পের দল নয়। এই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের আক্রমণভাগ। পিএসজি তারকা ওসমান ডেম্বলে আছেন দুর্দান্ত ফর্মে। গত এক বছরে তার পারফরম্যান্স এতটাই ধারাবাহিক ছিল যে ২০২৫ সালে জিতেছেন ফিফা দি বেস্টের ট্রফি। সঙ্গে আছেন মাইকেল ওলিসে। বায়ার্ন মিউনিখের এই তারকা চলতি মৌসুমে ক্লাবের জার্সিতে ৫১ ম্যাচে করেছেন ২২ গোল। তরুণদের মধ্যে পিএসজি তারকা ডেসিরে ডু ও ব্র্যাডলি বারকোলা এবং ম্যানসিটি তারকা রায়ান চেরকিদের দূরন্ত ফর্মও স্বপ্ন দেখাচ্ছে ফরাসি সমর্থকদের। অনেকের কাছে, এটিই ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফরাসি আক্রমণভাগ! মাঝমাঠেও ভারসাম্য আছে। এসি মিলানের আদ্রিয়েন র্যাবিয়ট, রোমার ম্যানু কোনি এবং সৌদি প্রো লিগে খেলা অভিজ্ঞ এনগুলো কান্তে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখতে পারেন। রক্ষণে আছেন আর্সেনাল তারকা উইলিয়াম স্যালিবা এবং বায়ার্ন মিউনিখের দায়োত উপামেকানো। শারীরিক শক্তি আর গতির মিশেলে তারা ইউরোপের অন্যতম সেরা ডিফেন্স জুটি।
তবে দুর্বলতাও আছে ফরাসিদের। প্রায়ই এই দল কখনো কখনো অতিরিক্ত তারকানির্ভর হয়ে পড়ে। বিশেষ করে এমবাপ্পেকে আটকে দিতে পারলে ফ্রান্সের আক্রমণের ধার অনেকটাই কমে যায়। মানসিকতা নিয়েও রয়েছে সংশয়। ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালের পর থেকে বড় ম্যাচে প্রায়ই ছন্দ হারিয়েছে ফ্রান্স। তবে বাস্তবতা হলো, ফ্রান্স এখন বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর দলগুলোর একটি। গতি আছে। অভিজ্ঞতা আছে। বড় ম্যাচ জেতার অভ্যাসও আছে। সবচেয়ে বড় কথা, সামনে আছেন এমবাপ্পে। যে ফুটবলার একাই বদলে দিতে পারেন একটি বিশ্বকাপের গল্প।