আমিনুল ইসলাম বুলবুল; বাংলাদেশের এক কিংবদন্তি ক্রিকেটার। অসাধারণ মেধাবী ক্রিকেটার ছিলেন, গত শতকের নব্বই দশকের অন্যতম সেরা। পুরো নাম আমিনুল ইসলাম হলেও ক্রিকেট সমর্থকদের মাঝে পরিচিত ‘বুলবুল’ নামে। তার বাস অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে। পরিবারের সঙ্গে এখন সেখানেই অবস্থান করছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান সভাপতি বুলবুল। প্রথমবার আচমকা সভাপতি হয়েছিলেন সাবেক অধিনায়ক ফারুক আহমেদকে সরিয়ে দেওয়ার পর। সেবার সভাপতি নির্বাচিত হন অন্তর্বর্তী সরকারের তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার প্রত্যক্ষ সমর্থনে। দ্বিতীয়বার সভাপতি হন নির্বাচনে পরিচালক নির্বাচিত হয়ে। গত বছরের অক্টোবরে বিসিবির নির্বাচনে প্রথমে পরিচালক নির্বাচিত হন। এরপর পরিচালকদের ভোটে সভাপতি হন। বিসিবির ইতিহাসে বুলবুল দ্বিতীয় অধিনায়ক, যিনি সভাপতি নির্বাচিত হন। তার নির্বাচনে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল ক্রিকেটাঙ্গনে। এখন তিনি চরম সমালোচিতদের একজন। তার কার্যসময়ে বাংলাদেশ প্রথমবার টি-২০ বিশ্বকাপ বর্জন করে। শুধু তাই নয়, তিনি যে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিসিবির সভাপতি নির্বাচিত হযেছেন, সেটা নিয়েও রয়েছে বিতর্ক। নির্বাচনের অনিয়ম ও বিশ্বকাপ বর্জনের কারণ তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। এতে বিসিবিতে জোড় আলোচনা; সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের ভবিষ্যৎ কোন পথে?
২০২৫ সালের ৩০ মে বুলবুল হঠাৎ বিসিবির সভাপতির দায়িত্বভার নেন। দায়িত্ব নেন আরেক সাবেক অধিনায়ক ফারুক আহমেদকে বিসিবি সভাপতির পদ থেকে অপসারণ করলে। ফারুক প্রথম অধিনায়ক হিসেবে বিসিবির সভাপতি হয়েছিলেন ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট। প্রথমবার দায়িত্ব নেওয়ার পর মিডিয়ার মুখোমুখিতে বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি হাঁকানো বুলবুল জানিয়েছিলেন, তিনি দ্রুত একটি টি-২০ ম্যাচ খেলতে চান। অথচ অভিষেক টেস্টে ১৪৫ রানের ইনিংস খেলে ইতিহাসের পাতায় চিরস্থায়ী হওয়া বুলবুল হঠাৎ করেই ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে নির্বাচন করেন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সহায়তায় সভাপতি নির্বাচিত হন। সভাপতি হওয়ার পর নানামুখী কার্যক্রমে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তার সময়েই বাংলাদেশ নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টি-২০ বিশ্বকাপ বয়কট করে। অথচ বাংলাদেশ প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯৯ সালে তার নেতৃত্বেই। সেই তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ বিশ্বকাপ বর্জন করে। ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ বর্জনের জন্য নিরাপত্তার বিষয়টিকে ইস্যু করে বিসিবি। বিশ্বকাপ বর্জন করার কারণ তদন্ত করতে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক তদন্ত করার ঘোষণা দেন।
গত বছরের অক্টোবরে বিসিবির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তিনি নির্বাচনে অংশ নেন ক্যাটাগরি-১ থেকে। প্রথমে নির্বাচিত হন পরিচালক। এরপর পরিচালকদের ভোটে সভাপতি। ওই নির্বাচনে ক্যাটাগরি-২-এর ১২ পরিচালক নির্বাচনে ৭২ ক্লাবের ৪৫টি অংশ নেয়নি। ক্লাবগুলো বরাবরই জানিয়ে এসেছে নির্বাচনে সরকারি হস্তক্ষেপের কথা। নির্বাচিত সরকার আসার পর যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সঙ্গে দেখা করেন সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল, ফাহিম সিনহা, রফিকুল ইসলাম বাবুসহ ক্লাব প্রতিনিধিরা। তারা নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, কারসাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনেন। তাদের অনুরোধ আমলে নিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় যেসব অভিযোগ উঠেছে তা খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এদিকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কমিটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিসিবি। নির্বাচিত ক্রিকেট বোর্ডে বাইরের হস্তক্ষেপের সম্ভাব্য পরিণতির দিকে ইঙ্গিত করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে সতর্ক করেছে বুলবুলের ক্রিকেট বোর্ড। বিবৃতিতে বিসিবি জানিয়েছে, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান বোর্ড যথাযথভাবে নির্বাচিত এবং সম্পূর্ণরূপে কার্যকর সংস্থা, যা এটির গঠনতন্ত্র এবং প্রতিষ্ঠিত প্রশাসনিক কাঠামো অনুযায়ী কাজ করছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এই বোর্ড বাংলাদেশ ক্রিকেটের সর্বোত্তম স্বার্থে দায়িত্ব পালন ও কার্যভার পালন অব্যাহত রেখেছে।’ বিবৃতিতে বিসিবি আরও জানিয়েছে, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বৈশ্বিক শাসন কাঠামোর মধ্যে কাজ করে এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) পূর্ণ সদস্য। আইসিসির শাসন কাঠামোর অধীনে নির্বাচিত ক্রিকেট বোর্ডের বিষয়ে বাইরের হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত যেকোনো পদক্ষেপকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয় এবং আইসিসির শাসন ও সম্মতি বিধানের আওতায় পর্যালোচনা উসকে দিতে পারে।’
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের এমন হস্তক্ষেপে প্রশ্নটি আবারও উঠেছে, আমিনুল ইসলাম বুলবুল কি দেশে ফিরবেন? রমজানের আগে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে হঠাৎ মেলবোর্নে ফিরে যান। সেখানেই তিনি অবস্থান করছেন। তার ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, বুলবুল ক্রিকেট বোর্ডের কার্যক্রম গভীরভাবে পর্যালোচনা করছেন।