সাবিনা খাতুনদের নিয়ে বেশ নির্ভার ছিল বাফুফে। কর্মকর্তারা ভেবেছিলেন এশিয়া কাপ চূড়ান্ত পর্বে ওঠার পর সাবিনাদের জাতীয় দল থেকে বাদ পড়াটা ডেড ইস্যু হয়ে যাবে। তাদের ঘিরে আর কোনো আলোচনা হবে না। এখন তো চাপেই পড়ে গেল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। প্রথমবার আয়োজিত সাফ ফুটসালে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর থেকে সাবিনাদের অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি বাফুফের সমালোচনা করা হচ্ছে। অনেকেই বলছেন এমন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সাবিনা, মাসুরা পারভীন, সুমাইয়া, কৃষ্ণা রানীদের দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে রাখা হচ্ছে কেন? এর পেছনে রহস্যটায় কী? সত্যি বলতে কী, এখানে বাফুফের সভাপতি তাবিথ আউয়াল বা অন্যদের কিছুই করার ছিল না। হেড কোচকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল।


কোচ পিটার বাটলারই বাফুফেকে বুঝিয়েছেন ওদের দিয়ে চলে না। জাতীয় দলে খেলতে হলে পূর্ণ ফিট থাকতে হবে। কোচ আসলে তাদের পারফরম্যান্সও তেমনভাবে যাচাই করেননি। ২০২৪ সালে টানা দ্বিতীয়বার সাফ জেতার পর তো সাবিনা, মাসুরারা জাতীয় দলে ম্যাচ খেলেছেন হাতে গোনা। অবশ্য এ ক্ষেত্রে সাবিনাদের কিছু সিদ্ধান্তও কাজ করেছে। তাদের দাবি ছিল বাটলার কোচের দায়িত্বে থাকলে কোনোভাবেই জাতীয় দলে খেলবেন না। বিষয়টি কোচ ভালোভাবে দেখেননি। অপমান বোধ করেছিলেন। বাফুফে ঝামেলা মেটানোর চেষ্টাও করেছিল। একপর্যায়ে সাবিনারাও জাতীয় দলে বাটলারের অধীনে খেলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাটলারের কথা যত বড় খেলোয়াড় হোক তার কাছে ডিসিপ্লিনই বড়। তিনি এটাও বলেছিলেন, ওরা থাকলে আমিও থাকব না। এ অবস্থায় বাফুফে আর ঝামেলা বাড়ায়নি। সাবিনাদের জাতীয় দল থেকে বাদ দেওয়ার পরও নীরব থেকেছে। আর সাবিনাদের ছাড়াই যখন বাংলাদেশ এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে উঠে যায়। তাবিথরা ভেবেছিলেন যাক সব ঝামেলা শেষ। সাবিনারা কেন নেই- এ প্রশ্ন আর কেউ তুলবেন না।


এখন তো ফুটসালে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর আওয়াজ উঠেছে বাদ পড়াদের জাতীয় দলে ফিরিয়ে আনতে হবে। ফুটসাল আলাদা ক্যাটাগরি হলেও এটা তো ফুটবলের বাইরে নয়। এ খেলা তো সাবিনারা হাত দিয়ে খেলেননি। কেউ কেউ মশকারা করে বলেছেন, ফুটসালে চ্যাম্পিয়ন হয়ে বাফুফেকে বিপদেই ফেলে দিলেন সাবিনারা। ডেড ইস্যু আবার সচল হয়ে গেল। শুধু কি তাই, চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল ফুটসাল দল ও অধিনায়ক সাবিনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। চ্যাম্পিয়নের পর প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. ইউনূস সাবিনাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানও অভিনন্দন জানান। প্রশংসায় ভাসছে নারী ফুটসাল দল। ভাসবেই না কেন? সাফের প্রথম আসরেই চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়েছেন মেয়েরা। এ অবস্থায় বাদ পড়াদের জাতীয় দলে ফিরিয়ে আনার দাবি তো উঠতেই পারে।


প্রশ্ন হচ্ছে- এখন বাফুফে কী করবে? সামনের মার্চে স্বপ্নের এশিয়ান কাপে অভিষেক হবে নারী জাতীয় দলের। ক্যাম্প যখন ডাকা হবে তখন কি সাবিনা, কৃষ্ণা, মাসুরা ও সুমাইয়ারা থাকবেন। মূল দলে আসতে অবশ্যই অনুশীলনে যোগ্যতা দেখাতে হবে। দল তো ঘোষণা করতে হবে সামনেই। তখন বাফুফে কী করবে। কোচ বাটলার কি মেনে নেবেন তাদের আগমন। আবার সাবিনারা এই কোচের অধীনে ক্যাম্পে যোগ দেবেন কি না সেটাও প্রশ্ন। তবে এটা ঠিক কারও চাওয়া-পাওয়া নয়, ফুটসাল জেতার পর সাবিনাদের জাতীয় দলে ফিরিয়ে আনার দাবি বড় আকার ধারণ করবে। বিশেষ করে অধিনায়ক সাবিনা ফুটসালে যে নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন তাতে প্রমাণ দিয়েছেন তার বিকল্প কেউ নেই। এখন কী ঘটবে সেটাই দেখার বিষয়।