বর্ণবাদী আচরণের জন্য ২১ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। দেশটি নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফের ক্রিকেটে ফিরেছে ১৯৯১ সালে। দক্ষিণ আফ্রিকা এখন ক্রিকেট পরাশক্তি। দেশটির ক্রিকেটাররা জানেন, নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়লে একটি দেশের ক্রিকেটারদের কী অবস্থা হতে পারে, দক্ষিণ আফ্রিকার চেয়ে ভালো আর কেউ জানে না। দেশটির ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা ফিল্ডার জন্টি রোডস খেলাধুলাকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখার অনুরোধ করেন। বাংলাদেশের টি-২০ বিশ্বকাপ না খেলার বিষয়টি রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। যদিও নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতের মাটিতে টি-২০ বিশ্বকাপ খেলছে না বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে টি-২০ বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ করে দিয়েছে আইসিসি। বিশ্বকাপ না খেলায় আইসিসি হয়তো বাংলাদেশকে নিষিদ্ধ করবে না। কিন্তু ২০২৮ সালের পরবর্তী টি-২০ বিশ্বকাপে খেলতে বাংলাদেশকে নতুন করে শুরু করতে হবে। হয়তো বাছাইপর্ব খেলতে হবে।


শুধু বাছাইপর্ব নয়, টি-২০ বিশ্বকাপ না খেলায় বিসিবিকে মোটা অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়তে হতে পারে। বাংলাদেশ যে টি-২০ বিশ্বকাপ খেলছে না, পাশে পেয়েছে পাকিস্তানকে। দেশটির ক্রিকেট সংস্থার সভাপতি মহসিন নাকভি টি-২০ বিশ্বকাপ বয়কটের বিষয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে আলোচনা করেন। দুজনের আলোচনার পরপর জানা যায়, শুক্র-সোমবারের মধ্যে টি-২০ বিশ্বকাপ খেলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। 


নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারত থেকে বাংলাদেশের খেলা শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নিতে আইসিসিকে অনুরোধ করেছিল বিসিবি। বিসিবির অনুরোধে সাড়া দেয়নি এবং ২১ জানুয়ারি সময়সীমা বেঁধে দেয় ভারতের মাটিতে খেলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে। আইসিসির সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পরও বাংলাদেশ নিজ অবস্থানে অনড় থাকে। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলা ছিল ‘সি’ গ্রুপে। না খেলায় বাংলাদেশ অংশগ্রহণ ফি ৩ লাখ ডলার পাচ্ছে না। এ ছাড়া প্রতিটি দল পারফরম্যান্স অনুযায়ী টুর্নামেন্টের লভ্যাংশের একটি অংশ পেয়ে থাকে। বিশ্বকাপ না খেলায় ক্রিকেটাররাও ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন। আইসিসি টিভি স্বত্ব বাবদ জরিমানা করতে পারে বিসিবিকে। আর্থিক ক্ষতি ছাড়া বাংলাদেশকে সবচেয়ে বড় যে সমস্যার মুখে পড়তে হবে, সেটি হচ্ছে আগামী আসরে সরাসরি না খেলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে! পরবর্তী টি-২০ বিশ্বকাপ কত দলের অংশগ্রহণে কোন দেশে অনুষ্ঠিত হবে, সেটা এখনো নিশ্চিত হয়নি। তবে নিয়ম অনুযায়ী টি-২০ বিশ্বকাপের শীর্ষ ৮ দল সরাসরি পরের আসরের খেলে থাকে। আরও দুটি দল সরাসরি খেলার সুযোগ র‌্যাঙ্কিং অনুযায়ী। বাকি ছয়টি দল নির্বাচিত হয় বাছাইপর্ব খেলে। এবারের টি-২০ বিশ্বকাপ না খেলায় শীর্ষ ৮ দল থেকে ছিটকে পড়বে বাংলাদেশ। পরের দুটি দল হতে র‌্যাঙ্কিংয়ে টিকে থাকতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান ৯। ২০ ওভারের বিশ্বকাপ শেষে বাংলাদেশের অবস্থান কোথায় দাঁড়াবে, এখনই নিশ্চিত নয়। এতে করে আগামী বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশকে নতুন করে শুরু করতে হবে। বিসিবি পরিচালক ও বিপিএল গভর্নিং কমিটির সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান মিঠু বলেন, ‘যেহেতু আমরা টি-২০ বিশ্বকাপ খেলছি না, সেজন্য ভবিষ্যতের পথে এগোতে চাই।’


আবেদন নাকচ করে বাংলাদেশকে টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ায় অনেক বিশ্বসেরা তারকা ক্রিকেটাররা বিরক্ত প্রকাশ করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তির ফাস্ট বোলার জেসন গিলেস্পি বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ায় আইসিসির সমালোচনা করে একটি পোস্ট করেন। পরবর্তীতে ব্যাপক সমালোচনায় সেটা মুছেও ফেলেন। পোস্টে গিলেস্পি লিখেছিলেন, ‘বাংলাদেশ কেন ভারতের বাইরে খেলতে পারবে না, আইসিসি কি কোনো ব্যাখ্যা দিয়েছে? আমার যত দূর মনে পড়ে, ভারত পাকিস্তানে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ম্যাচ খেলতে রাজি হয়নি। তাদের সেই ম্যাচগুলো পাকিস্তানের বাইরে খেলতে দেওয়া হয়েছিল। তাহলে এখন বিষয়টি কীভাবে যুক্তিযুক্ত হয়?’ বিশ্বের সর্বকালের সেরা ফিল্ডার জন্টি রোডস খেলাধুলাকে রাজনীতিমুক্ত করার কথা বলেন, ‘আমি বলতে চাচ্ছি, আমরা সবসময়ই ভাবি খেলাধুলা থেকে রাজনীতিকে আলাদা রাখা যাক... কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, রাজনীতিকে খেলাধুলা থেকে আপনি আলাদা করতে পারবেন না।’