গাজীপুরে এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষক আনোয়ার হোসেনকে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে জরিমানা অনাদায়ে আসামির স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে প্রাপ্ত টাকা ভিকটিম শিশুকে প্রদানের নির্দেশ প্রদান করেছেন গাজীপুরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল (নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল)।

‎বৃহস্পতিবার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু বকর সিদ্দিক এই রায় প্রদান করেন।

‎মামলায় রায় ঘোষণাকালে আসামিপক্ষ থেকে বিচারকের নিকট সময়ের আবেদন করা হলেও আদালত তা নামঞ্জুর করে সাজা ঘোষণা করেন এবং সাজা পরোয়ানা জারি করেন।

‎রায় প্রদানের সময় আসামি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন।

‎ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা যায়, মামলাটিতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সেলিনা বেগম। শুনানিতে তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী মহিউদ্দিন ও জাকির কাদের।

‎মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৩১ আগস্ট সকাল পৌনে ৯টার দিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের গাছা থানার শরীফপুরের ধানবাড়ি এলাকার একটি নার্সারি শ্রেণির ৬ বছরের শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যায়।

‎সকাল সোয়া ৯টার দিকে অন্য শিক্ষকরা ক্লাসে চলে গেলে স্কুলের শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন খান (২০) শিশুটিকে স্কুলের অফিস কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। ঘটনার পর শিশুকে স্থানীয় ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্য ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে ২০১৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ভিকটিমের মা বাদী হয়ে গাছা থানায় এজাহার দায়ের করেন। মামলায় গাজীপুরের শরীফপুর এলাকার মো. করিম খানের ছেলে ও স্কুলের সহকারী শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন খান এবং ঘটনার সহযোগিতার অভিযোগে ফরিদা বেগমকে আসামি করা হয়।

‎রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর সেলিনা বেগমের বরাতে অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন জানান, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ ও শুনানি শেষে আদালত শিক্ষক আনোয়ার হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে জারি করা সাজা পরোয়ানা এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়েছে। আসামি ও মাদরাসার শিক্ষক আনোয়ার হোসেনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আসামির স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে এক লাখ টাকা ভিকটিমকে দেওয়া নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।