ফিল্মি স্টাইলে শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাঈফ মামুনকে হত্যার সাড়ে চার মাস পর ঢাকার রাজপথে খুন হলেন আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী। গতকাল রাতে নিউমার্কেট এলাকায় শরীরে ৫টি গুলি করে আলোচিত সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহম্মেদ টিটনকে (৬০) হত্যা করা হয়েছে। কপালে পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। পরে ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে টিটনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। টিটন আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের শ্যালক। ইমন নিহত টিটনের ছোট বোনকে বিয়ে করেছেন। মূলত ইমনের দাপটেই তিনি অপরাধজগতে প্রভাব বিস্তার করেন। তবে এ হত্যাকাণ্ডে ইমনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে পুলিশ সন্দেহ করছে। হাজারীবাগের জিগাতলা এলাকার বাসিন্দা টিটনের জন্ম ১৯৬৬ সালে। তার বাবার নাম কে এম ফখরুদ্দিন ও মায়ের নাম আকলিমা বেগম।
এদিকে আবার আলোচনায় এসেছে আন্ডারওয়ার্ল্ডের আধিপত্যের দ্বন্দ্বের বিষয়টি। টিটন কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া দুই দুর্বৃত্তকে গ্রেপ্তার করা গেলে হত্যার রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মেজবাহ রহমান তাহসিন জানান, রাত পৌনে ৮টার দিকে নিউমার্কেটের পশ্চিম পাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ হলের সামনে বটতলায় তাকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। হামলাকারী তিনবার গুলি ছুড়ে শাহনেওয়াজ হলের দিকে চলে যায়। পরে আবার ফিরে এসে এক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। গুলির শব্দ পেয়ে এগিয়ে গেলে তিনি একজনকে পড়ে থাকতে দেখেন। তখন তিনিসহ অন্যরা গুলি ছোড়া ব্যক্তিকে ধাওয়া করেন। ওই সময় হামলাকারী তার সহযোগীর মোটরসাইকেলে উঠে পালিয়ে যান। টিটনকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া রতন হোসেন জানান, মোটরসাইকেলে দুজনকে দেখা গেছে। একজন মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন, অন্যজন নেমে গুলি ছোড়েন। দুজনের মুখেই মাস্ক ও মাথায় ক্যাপ ছিল।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ২০০৪ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী টিটনকে ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি ১২ আগস্ট কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান। এরপর টিটন আর আদালতে হাজিরা দেননি। তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি হয়েছিল। টিটন ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে অপরাধজগতে প্রবেশ করেন। ২০০১ সালে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পুলিশ যে ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকা প্রকাশ করে সে তালিকায় টিটনের নাম ২ নম্বরে ছিল। তিনি ও তার ভগ্নীপতি সানজিদুল ইসলাম ইমন দুজনই শুরুর দিকে মোহাম্মদপুরের হারিছ-জোসেফ গ্রুপে যুক্ত ছিলেন। পরে তারা দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে যান। ইমন-টিটনের তৎপরতা ছিল ধানমন্ডি ও হাজারীবাগ এলাকায়। তিনি একাধিক হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেন। টিটন অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন এবং তার নেতৃত্বে অস্ত্রের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে। মোহাম্মদপুরে তোফায়েল আহমেদ জোসেফের বড় ভাই টিপু হত্যাসহ তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা ছিল। এর মধ্যে ২০১৪ সালে বাবর এলাহী হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন তিনি।
পুলিশ জানায়, টিটন প্রথমে স্থানীয় অপরাধী চক্রের সদস্য ছিলেন এবং ধীরে ধীরে অপরাধজগতে নিজের পরিচিতি বাড়াতে থাকেন। তিনি অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন এবং তার নেতৃত্বে অস্ত্রের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে। ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। আশপাশের এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। এর বাইরে প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গেও কথা বলে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।