মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ১২ বছরের এক অসহায় কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর আলামত নষ্টের উদ্দেশ্যে জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোর লোমহর্ষক অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের পৈক্ষারপাড় নয়াকান্দি গ্রামে ঘটা এই অমানবিক ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র মরিয়া হয়ে উঠেছে। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।


স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা অত্যন্ত দরিদ্র। তার মা স্থানীয় এক প্রতিবেশীর বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন। গত ৭-৮ মাস আগে মায়ের মৃত্যুর পরও কিশোরীটি ওই বাড়িতে যাতায়াত করতো। এই সুযোগে ওই বাড়ির এক ছেলে এবং পরবর্তীতে তার আরও কয়েকজন বন্ধু মিলে কিশোরীটিকে দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে আসছিল। সম্প্রতি কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তন দেখে পরিবারের সদস্যদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পরিবারের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে কিশোরীটি জানায় যে সে দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এই পাশবিকতার সাথে স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের সন্তান আরাফাত, রিয়াদ, সাজিদ, সামিদ ও নিহাদ জড়িত বলে সে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করে।


ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। ভুক্তভোগী পরিবারটি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় কতিপয় মাতব্বর ও প্রভাবশালী ব্যক্তি তাদের পথ রুদ্ধ করে। তারা আদালতের বাইরে ‘শালিস বৈঠকের’ মাধ্যমে উপযুক্ত বিচার ও মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখায়।


অভিযোগ উঠেছে, মূলত আইনি জটিলতা এড়াতে এবং ধর্ষণের প্রধান আলামত নষ্ট করার সুদূরপ্রসারী উদ্দেশ্যে ওই প্রভাবশালী মহলটি কৌশলে দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীটির জোরপূর্বক গর্ভপাত করায়। বর্তমানে পরিবারটিকে এক প্রকার জিম্মি ও কঠোর আশ্বাসের জালে আটকে রাখা হয়েছে। নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বর্তমানে তারা মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন।


এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে স্থানীয় ইউপি সদস্য ফিরোজ মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। পরবর্তীতে বারবার চেষ্টা করা হলেও তিনি নিজে ফোন রিসিভ না করে তার স্ত্রীকে দিয়ে ফোন রিসিভ করান, যা রহস্যের সৃষ্টি করেছে।


ভবেরচর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাদত আলী বলেন, "বিষয়টি আমার জানা ছিল না, গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমেই প্রথম শুনলাম। আমি বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখছি। ভুক্তভোগী পরিবার যদি আমাদের কাছে আসে, তবে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়া হবে।"


গজারিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাব্বির হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, "বিষয়টি আমাদের জানা নেই। এখনও পর্যন্ত কেউ থানায় লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"


স্থানীয়রা এই পৈশাচিক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে ধর্ষক ও আলামত নষ্টকারী মাতব্বরদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।