চট্টগ্রামে আশঙ্কাজনক হারে খাদ্যপণ্যে ভেজাল ও জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। নানা ধরনের খাদ্যপণ্য, তৈরি খাবার, মিষ্টান্ন, ইফতারি-সবকিছুতেই এখন ভেজালের কারবার। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য তৈরি, ক্ষতিকর রং ও রাসায়নিকের ব্যবহার, অন্য প্রতিষ্ঠানের লোগো ব্যবহারসহ একের পর এক জালিয়াতি সামনে আসছে। এমনকি ঈদ কেন্দ্র করে জামা বিক্রিতেও ভেজালের আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে।
চলতি রমজানের শুরু থেকে গতকাল পর্যন্ত চট্টগ্রামের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ৭০টি অভিযান পরিচালনা করেছে। এর পাশাপাশি জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো বেশকিছু অভিযান পরিচালনা করেছে। কিন্তু এত অভিযানের পরও কোনোভাবে থামানো যাচ্ছে না ভেজালের কারবার। নগরীর বাইরে উপজেলা পর্যায়েও নেওয়া হচ্ছে নানা ধরনের ভেজাল ও জালিয়াতির আশ্রয়।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্ল্যাহ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, অধিদপ্তরের চারটি টিম প্রতিদিন নগরীর কোনো না কোনো এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছে। প্রতিদিন অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরিমানা করা হচ্ছে। এরপরও ভেজাল থামছে না। এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী নিজেদের মুনাফার জন্য যা খুশি তা করছে। তাদের লক্ষ্য ছলচাতুরী করে যে কোনো মূল্যে মুনাফা করা। ভোক্তাদের সন্তুষ্টির বিষয়ে তারা উদাসীন। অধিদপ্তর সূত্র জানায়, রমজানের আগে স্বাভাবিক সময়ে প্রতি মাসে অর্ধশতাধিক ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালিত হতো। রমজানের শুরু থেকে এ অভিযান জোরদার করা হয়। ১৭ দিনে নগরীর বেশকিছু রেস্টুরেন্ট, বেকারি ও মিষ্টান্নের দোকান, বস্ত্রের দোকানসহ স্বনামধন্য অনেক প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালিত হয়। এসব অভিযানে অভিযুক্ত প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে জরিমানার পর সতর্ক করা হয়। অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানান, কিছু অসাধু প্রতিষ্ঠান ভোক্তার স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে বিবেচনা করে না। তারা এমন অস্বাস্থ্যকর স্থানে খাবার তৈরি করে যেখানে ইঁদুর, তেলাপোকা ঘোরাঘুরি করে। মাছ, মাংসসহ বিভিন্ন পণ্য পচাবাসি অবস্থায় ফ্রিজে সংরক্ষণ করে পরে আবার সেগুলো দিয়ে খাবার তৈরি করে। এর সঙ্গে ক্ষতিকর রাসায়নিক ও রঙের ব্যবহার করে।
এদিকে শুধু ছোটখাটো প্রতিষ্ঠান নয়, স্বনামধন্য অনেক প্রতিষ্ঠানের ভেজালের আশ্রয় নেওয়ার বিষয়টি সামনে আসছে। কয়েক সপ্তাহে চট্টগ্রামের মেরিডিয়ান রেস্টুরেন্ট, বারকোড, শপিং ব্যাগসহ বেশ কয়েকটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ভেজালের আশ্রয় নিতে গিয়ে ভোক্তা অধিদপ্তরসহ অন্যান্য তদারকি প্রতিষ্ঠানের অভিযানে জরিমানা গুনেছে। কিন্তু এসব অভিযানের পরও ভেজাল থামছে না।