ঈদের ছুটিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৪৪ জন। এ ছাড়াও আহত হয়েছেন প্রায় ১০০ জন। চট্টগ্রাম, সিরাজগঞ্জ, নেত্রকোনা, সিলেট, কুষ্টিয়া, গোপালগঞ্জ, গাইবান্ধা, দিনাজপুর, চাঁদপুর, বগুড়া ও ফরিদপুরে এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমাদের বিশেষ প্রতিনিধি, নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিবেদকদের পাঠানো খবর-
চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে ঈদের ছুটিতে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ছয়জনের। ঈদের দিন চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ভেল্লাপাড়া এলাকায় বেপরোয়া গতির ঈগল পরিবহনের একটি বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন, কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহার নূর হোসেনের ছেলে সজীব হোসেন (২৬), পটিয়ার খরনার দুলা মিয়ার ছেলে মো. ইউসুফ (৫৩), আশিয়ার মবিনুল ইসলামের ছেলে রুবেল (২৬) এবং পটিয়া পৌরসভার গোবিন্দখীলের বাদশা মিয়ার ছেলে হারুনুর রশিদ (৫১)। এ ছাড়া ৩০ মে সকালে হারুয়ালছড়ি এলাকার রাঙাপানি চা-বাগানে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই তরুণ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাদের আরেক বন্ধু গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন, রাউজান উপজেলার নোয়াজিশপুর এলাকার সঞ্জিত দাশের ছেলে সীমান্ত দাশ এবং ফটিকছড়ি উপজেলার আবদুল্লাহপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দুলাল মল্লিকের ছেলে জয় মল্লিক।
সিরাজগঞ্জ : ঈদের ছুটিতে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার র্যাব-১২ অফিসের পাশে চড়িয়া কান্দিপাড়া ব্রিজের ওপরে বাসচাপায় ঘটনাস্থলেই সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকসহ তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন। পরে রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে আরেক যাত্রী মারা যান। নিহতরা হলেন সলঙ্গা থানার শরীফ সলঙ্গা গ্রামের সিএনজিচালক সোরমান হোসেন (৩৫), একই থানার আঙ্গারু গ্রামের মৃত হরেন্দ্রনাথ সূত্রধরের ছেলে কাঠমিস্ত্রি গোবিন্দ সূত্রধর (৪০) ও রুয়াপাড়া গ্রামের মৃত আজগর আলীর ছেলে এনামুল হক ও সিরাজগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী ইউসুফ আহমেদ। ঈদের আগেরদিন সন্ধ্যার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন জানান, সন্ধ্যার দিকে ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী একটি যাত্রীবাহী বাস র্যাব-১২ অফিসের পাশে চড়িয়া কান্দিপাড়া ব্রিজের ওপরে পৌঁছলে হাটিকুমরুল থেকে সলঙ্গাগামী সিএনজিটিকে পেছন থেকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়।
নেত্রকোনা : নেত্রকোনায় যাত্রীবাহী বাসের চাপায় একই পরিবারের তিনজনসহ মোট চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত দুই মেয়ের বাবা আইনুল হকসহ মোট আহত হয়েছেন আরও চারজন। আহতদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চলিশা বাইপাস মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- নেত্রকোনা সদর উপজেলার রৌহা ইউনিয়নের আমলি কেশবপুর গ্রামের বাসিন্দা আহত আইনুল হকের (৬০) স্ত্রী নুরজাহান (৫০), তার দুই মেয়ে স্মৃতি আক্তার (১৮), ইতি (১৫) ও অটোরিকশাচালক রেহাস মিয়া। ঘটনাস্থলে মা মেয়ে মৃত্যুর পর চারজনকে জেলা সদর হাসপাতালে নিলে আরও এক মেয়েকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। পরে নিহতের বাবা আইনুল এবং চালক রেহান মিয়াকে ময়মনসিংহ পাঠালে দুপুরে রেহান মিয়া মারা যান।
এদিকে দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে চল্লিশা বাইপাস মোড়ে গোলচত্বর ও স্পিড ব্রেকার নির্মাণের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
এ ছাড়াও ঈদের দিন রাতে জেলার কলমাকান্দা গজারকান্দি এলাকায় মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে দুই যুবক নিহত হন।
সিলেট : সিলেটে দুই বাসের সংঘর্ষে চালক ও হেলপার নিহত হয়েছেন। গতকাল সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর বাজারের পাশে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন যাতায়াত পরিবহন নামক বাসের চালক সোহেল (৩০) ও হেলপার ইমন (২০)। চালক সোহেল নরসিংদী জেলার সদর উপজেলার শাহী প্রতাপ গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে। হেলপারের পরিচয় জানা যায়নি। সূত্র জানায়, তাজপুর বাজারের পাশে যাতায়াত পরিবহনের একটি বাসকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয় ‘সেন্টমার্টিন সৌহার্দ্য’ পরিবহনের দ্রুতগামী একটি বাস। এতে ঘটনাস্থলেই সোহেল ও ইমন মারা যান।
কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় প্রশিক্ষণার্থী সেনাসদস্য বহনকারী একটি বাসের সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত একজন নিহত এবং অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার তালবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বগুড়া থেকে খুলনাগামী ৩৯ জন প্রশিক্ষণার্থী সেনাসদস্য বহনকারী একটি বাসের সঙ্গে কুষ্টিয়া থেকে টাঙ্গাইলগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে বাস দুটি সড়কের পাশের ঢালে নেমে কাত হয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়।
গোপালগঞ্জ : ঈদের দিন গোপালগঞ্জে বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নারী-শিশুসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। আহত ২৫ জনকে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। আহতদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহত ছয়জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। নিহত ছয়জন হলেন মোটরসাইকেল আরোহী শাওন ঢালী (২০) (পিতা-সমেশ ঢালী, সাং-বড়বাড়িয়া, চিতলমারী, বাগেরহাট), সইব শেখ (পিতা-মাহাবুব শেখ, গ্রাম গোলা, চিতলমারী, বাগেরহাট) এবং কলারদোয়ানিয়া গ্রামের আবু হানিফের ছেলে সোহাগ, তার স্ত্রী মোসাম্মত খাদিজা খাতুন ও ছেলে আরমান এবং পিরোজপুর সদর উপজেলার নামাজপুর গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে মো. মনির।
এ ছাড়া ঈদের দিন বৃহস্পতিবার ৯টার দিকে গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার তেঁতুলিয়া নামক স্থানে পিকআপ ভ্যান ও প্রাইভেট কারের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় গাড়ির ২৬ জন আহত হন।
গাইবান্ধা : গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে রিক্তা বেগম (২৮) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন যাত্রী। গতকাল সকালে গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কের উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নের ঠুটিয়াপাকুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। রিক্তা বেগম গাইবান্ধা সদর উপজেলার সাহার বাজার এলাকার আইজল হকের স্ত্রী।
স্থানীয়রা জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা গাইবান্ধাগামী নিউ সাফা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস সকাল ৭টার দিকে ঠুটিয়াপাকুর এলাকায় পৌঁছলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে বাসের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই রিক্তা বেগম মারা যান। এ ঘটনায় আহত হন অন্তত ১০ জন যাত্রী। আহতদের উদ্ধার করে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাৎক্ষণিক আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
দিনাজপুর : দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ মহাসড়কের ঘোড়াঘাটে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে অটোরিকশার ধাক্কায় চার বছরের দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং শিশু দুটির মা গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঈদ করতে তারা বাড়ি ফিরছিলেন। ২৮ মে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ মহাসড়কে ঘোড়াঘাট উপজেলার কানাগাড়ি বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দুই শিশু হলো, জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার শামসুল হকের ছেলে আবদুুল্লাহ (৪) এবং দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার বারো আরিয়া এলাকার আল আমিনের মেয়ে আরিফা (৪)। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত দুই মা হলেন, দুলালী বেগম ও ফরিদা বেগম।
স্থানীয়রা ও পুলিশ জানায়, ঈদের দিন ভোর থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে গোবিন্দগঞ্জ থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে দুই পরিবার নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। অটোরিকশাটি ভাদুড়িয়ার কানাগাড়ি বাজার পৌঁছলে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দিলে উল্টে যায়।
এ ছাড়া দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়কের চিরিরবন্দরে প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। ৩০ মে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চিরিরবন্দর উপজেলার ফতেজংপুর ইউনিয়নের দশমাইল হাইওয়ে থানার পশ্চিম পাশে গাড়োডাঙ্গি ব্রিজের ওপর এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন-চিরিরবন্দরের বিশিষ্ট চক্ষু সার্জন ডা. খালেদ সাগরের ছেলে জাবির খালেদ (১৯) এবং তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের বৈকুণ্ঠপুর গ্রামের শাহাপাড়া এলাকার মো. দুলাল হোসেন ছেলে মো. রিয়াদ হোসেন (১৯)। এ ছাড়াও দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে তানভীনা আক্তার লিজা মনি নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল দুপুরে নবাবগঞ্জ উপজেলার চেরাগপুর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত তানভীনা আক্তার লিজা (২৫) দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার পাঠিকাঘাট গ্রামের গোলজার হোসেনের মেয়ে ও তিনি শিক্ষার্থী ছিলেন।
চাঁদপুর : চাঁদপুর সদরের বাগাদিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় ট্রাকের ধাক্কায় সড়কে ছিটকে পড়ে মো. জোহা (১৭) নামে এসএসসি পরীক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন মোটরসাইকেলের আরোহী মো. সাজ্জিল (২০)। গতকাল দুপুর দেড়টার দিকে চাঁদপুর-রায়পুর সড়কের ইসলামপুর গাছতলা বাদামতলী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। জোহা ইসলামপুর গাছতলা পাঠানবাড়ির সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী পাঠানের ভাগনে। তার বাবার নাম মিরাজ সালেহ উদ্দিন তছলিম। গ্রামের বাড়ি শাহরাস্তি উপজেলায়। ছোটবেলা থেকে মায়ের সঙ্গে নানাবাড়িতে বসবাস করতেন। তিনি এ বছর চাঁদপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন। দুই ভাইবোনের মধ্যে জোহা ছোট।
এ ছাড়া চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস চাপায় বিল্লাল হোসেন (৪৮) নামে হাসপাতালের দারোয়ানের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সকাল ৮টার দিকে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়কের হাজীগঞ্জ টোরাগড় মনির ফিলিং স্টেশনের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বিল্লাল হোসেন পার্শ্ববর্তী শাহরাস্তি উপজেলার টামটা উত্তর ইউনিয়নের মুড়াগাঁও গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ির সাহেব আলী ভুঁইয়ার ছেলে। তিনি হাজীগঞ্জ বাজারের ডক্টরস্ সিটি স্ক্যান হাসপাতালের দারোয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
বগুড়া : বগুড়া সদরের রাজাপুর ইউনিয়নের চকহবিবর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম প্রামাণিক ৩০ মে তার নিজ এলাকা শিবগঞ্জের লালদহ নামক স্থানে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। তার বয়স হয়েছিল আনুমানিক ৫৮ বছর। তার মোটরসাইকেলে বিপরীত দিকে থেকে আসা একটি ট্রাক ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। তার গ্রামের বাড়ি, শিবগঞ্জ উপজেলার আটমূল ইউনিয়নের কুড়াহার দক্ষিণ পাড়া গ্রামের। তার পিতার নাম আজিজার রহমান।
ফরিদপুর : ঈদুল আজহার ছুটিতে ফরিদপুরের সড়ক ও মহাসড়কে একাধিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সাতজন এবং আহত হয়েছে অর্ধশতাধিক মানুষ। ঈদের আগের দিন বুধবার থেকে গতকাল দুপুর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক ছয়টি সড়ক দুর্ঘটনায় এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে পাঁচজনই তরুণ। অধিকাংশ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হন।
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ভাঙ্গা উপজেলার সুয়াদি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হন আলিমুজ্জামান মাতব্বর (৫৫)। তিনি বিজিবির অবসরপ্রাপ্ত সদস্য এবং নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নের উত্তরকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। একই দিন বিকালে ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের নগরকান্দার নারানখালী ব্রিজ এলাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই নিহত হন রাজন শেখ (১৮)। গুরুতর আহত অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান ইব্রাহিম ফকির (১৭)। নিহত দুই কিশোর মধুখালী উপজেলার নওয়াবাড়ী ঘোষকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। ঈদের আগের দিন বুধবার রাত ১১টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পূর্বসদরদী এলাকায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হন সাইফুল মোল্লা (২৩) ও আলী ইমরান শরীফ (২৪)। আহত হন আরও দুজন। একই দিন আলফাডাঙ্গা উপজেলার বানা ইউনিয়নের আউষের হাট এলাকায় নসিমন উল্টে নিহত হন উমর শেখ (২১)। ঈদের ছুটিতে বাড়ি এসে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে তিনি দুর্ঘটনার শিকার হন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হন। অন্যদিকে ঈদের দিন বিকালে চরভদ্রাসন উপজেলার হাজীগঞ্জ বাজার এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় অজ্ঞাত একটি মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নিহত হন ময়না খাতুন (৬৫)। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ছাড়া গতকাল দুপুরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের নগরকান্দা উপজেলার ঝাটুরদিয়া এলাকায় ঢাকা থেকে খুলনাগামী রাজীব পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে উল্টে পড়ে। এতে অন্তত ২৫ জন যাত্রী আহত হন। আহতদের মধ্যে ২৩ জনকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
বরিশাল : ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে এক সপ্তাহে পাঁচটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এসব দুর্ঘটনায় চারজন নিহত ও নয়জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের তিনজন রয়েছেন।
গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ মে থেকে ৩১ মে সকাল পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। পৃথক দুর্ঘটনায় মা-বাবা ও শিশুকন্যাসহ একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। অপর একটি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক মোটরসাইকেল চালক। অপরদিকে শনিবার বিকালে গৌরনদী উপজেলার টরকী বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন নীলখোলা এলাকায় যাত্রীবাহী আহানাত পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালক শাহ আলম (৩৯) নিহত হন। তিনি উজিরপুর উপজেলার সাতলা গ্রামের বাসিন্দা।
লালমনিরহাট : লালমনিরহাটের আদিতমারীতে ট্রাকের ধাক্কায় দুলাভাইয়ের মোটরসাইকেল থেকে পড়ে তানিয়া (২০) নামে তার শ্যালিকার মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বিকালে লালমনিরহাট চাপারহাট বাইপাস সড়কের আদিতমারী উপজেলার কমলাবাড়ি ইউনিয়নের জামতলা মাদরাসা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তানিয়া কালীগঞ্জ উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের অচিনতলা গ্রামের চাঁন মিয়ার মেয়ে। আর আহত দুলাভাই পুলিশ কনস্টেবল আবদুল মমিন আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের নয়ারহাট এলাকার বাসিন্দা।