চট্টগ্রাম নগরবাসীর জন্য বর্ষাকাল মানেই দুর্ভোগ। যার মূলে জলাবদ্ধতা। একটু বেশি বৃষ্টি হলেই নগরের অনেক এলাকা জলমগ্ন থাকে দীর্ঘ সময়। আর এ অবস্থা দেখতে চায় না চট্টগ্রাম প্রশাসন। বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে আগাম পরিকল্পনা নিয়েছে সেবা সংস্থাগুলো। এ নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক), সিডিএ, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বন্দর প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বর্তমানে জলাবদ্ধতা নিরসনে তিনটি সংস্থা প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকার চারটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তবে এ মেগা প্রকল্পগুলো কয়েক বছর আগে শুরু হয়েছে; যার সুফল গতবার চট্টগ্রামবাসী পেয়েছে। দুর্বিষহ জলাবদ্ধতা গতবার দেখা যায়নি। জানা যায়, সেবা সংস্থাগুলো জলাবদ্ধতা নিরসনে নানান পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে আছে জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান মেগা প্রকল্পভুক্ত জামালখান খাল ও হিজড়া খাল। যার অধিকাংশ কাজ মে মাসের মধ্যে শেষ করবে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে ইতঃপূর্বে প্রকল্পের অধীন সম্পন্ন হওয়া খালগুলোকে বর্ষা সামনে রেখে এপ্রিলে আবারও পরিষ্কার করা।


চসিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী মে মাসের মধ্যে বারইপাড়া খাল খনন প্রকল্পের কাজ শেষ করা হবে। একই সঙ্গে বর্ষার আগে নালা পরিষ্কার করা হবে। মেগা প্রকল্পের বাইরে থাকা ২১টি খাল সংস্কারে দ্রুত ডিপিপি প্রণয়ন করে মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে চসিক। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বন্দরসংলগ্ন খালগুলোর মুখ পরিষ্কার করবে। এ বিষয়ে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘সম্মিলিত প্রচেষ্টার কারণে গত বর্ষায় মহানগরে জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে এসেছে। সেই সাফল্য ধরে রেখে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আগামী বর্ষা মৌসুমেও জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।’ সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল করিম বলেন, ‘মেগা প্রকল্পের অধীন খাল খনন প্রকল্প শেষ, হস্তান্তর এবং পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন। চসিকের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নিয়ে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি সুফল নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’


পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে শাহিদ বলেন, ‘কর্ণফুলী নদীর সঙ্গে সংযোগ ১৭টি খালের মুখে স্লুইস গেট স্থাপন করা হয়েছে। এগুলোর মাধ্যমে জোয়ারভাটা নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ফলে জলাবদ্ধতাও সহনীয় পর্যায়ে আসবে।’ জানা যায়, মহানগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে তিনটি সংস্থা প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকার চারটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে সিডিএ ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ শীর্ষক ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। চলতি বছরের জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে। প্রকল্পের অগ্রগতি ৯৫ দশমিক ১৩ শতাংশ। অন্যদিকে সিডিএ ‘কর্ণফুলী নদীর তীরবরাবর কালুরঘাট সেতু থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ’ শীর্ষক ২ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের কাজ প্রায়ই শেষ।