মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতময় পরিস্থিতিতে চতুর্মুখী আক্রমণ শুরু করেছে ইরান। ইসরায়েল, সৌদি আরবসহ অঞ্চলটিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোগুলো লক্ষ্য করে ক্রমাগত হামলা চালাচ্ছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
গতকাল কাতারে অবস্থিত মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় মার্কিন আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। সৌদি আরবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা-সিআইএর স্টেশন, দুবাইয়ে মার্কিন কনস্যুলেট ভবনসহ কুয়েত ও ইরাকে ড্রোন-মিসাইল দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় কুয়েতে ছয় মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ইরাকে কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীর অস্ত্রাগার ও মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। পাশাপাশি ভারত মহাসাগরে মার্কিন ডেস্ট্রয়ারে হামলা ও একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে আইআরজিসি।
হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে রেখে ইরান জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। অন্যদিকে, তেহরানসহ বিভিন্ন প্রদেশে সামরিক ও সরকারি অবকাঠামো লক্ষ করে বোমা হামলা অব্যাহত রেখেছে মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনী। এসব হামলায় এখন পর্যন্ত ইরানে নিহত হয়েছে ১ হাজার ৪৫ জন। যুদ্ধের পাঁচ দিনে ইরানের সাবমেরিনসহ ১৭টি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংসের দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে ইরান সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের বিমানঘাঁটি ও অ্যারোস্পেস ইন্ড্রাস্টিজের সদর দপ্তরে হামলা চালিয়েছে। জবাবে লেবাননের বৈরুত ও বালবেক অঞ্চলে হিজবুল্লাহ অবকাঠামোগুলোতে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এ হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন।
মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতের পঞ্চম দিনও মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলজুড়ে হামলা চালিয়েছে ইরানের আইআরজিসি। ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকা লক্ষ্য করে গতকালও মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইরান। এ হামলায় ইরান প্রথমবারের মতো ক্লাস্টার বোমা ব্যবহার করেছে। এ বোমা ইসরায়েলের নির্দিষ্ট এলাকায় আঘাত হানে। এ ছাড়া কাতারের রাজধানী দোহায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে সরাসরি আঘাত হেনেছে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান দোহার দিকে দুটি ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোড়ে। এর মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা মিসাইল দিয়ে প্রতিহত করা হয়। অপর মিসাইলটি আল-উদেইদ ঘাঁটিতে সরাসরি আঘাত হানে। এ ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা রয়েছে। এটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ঘাঁটি।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেট ভবনে হামলা করা হয়েছে। এরপর সেখান থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী বের হতে দেখা যায়। সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাসে অবস্থিত দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) স্টেশনে ড্রোন হামলা হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, এটি ইরানি ড্রোন ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সিআইএর স্টেশনটি সরাসরি হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল, এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। সিআইএ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
ভারত মহাসাগরে অবস্থানরত মার্কিন ডেস্ট্রয়ারে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরান। আইআরজিসি জানিয়েছে, ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস-৪’ অভিযানের আওতায় এ শক্তিশালী হামলা চালানো হয়। মার্কিন ডেস্ট্রয়ারটি যখন একটি ট্যাংকার থেকে জ্বালানি নিচ্ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তেই আঘাত হানা হয়। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘গাদর-৩৮০’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ‘তালাইয়ে’ নামের কৌশলগত ক্রুজ মিসাইল।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। ইরানের তাসনিম নিউজ জানায়, ইরানি সেনাবাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিটের নিখুঁত নিশানায় মার্কিন যুদ্ধবিমানটি আঘাতপ্রাপ্ত হয়।
ইরানের পক্ষে ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের (আইএআই) সদরদপ্তর লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে লেবাননের সশস্ত্রগোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। একই সঙ্গে ইসরায়েলের ড্রোন নিয়ন্ত্রণকারী একটি সামরিক ঘাঁটিতেও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার রাতে ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে ইসরায়েলি সামরিক সরঞ্জামপ্রস্তুতকারক কোম্পানি আইএআইর সদরদপ্তরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ।
ইরাকের রাজধানী বাগদাদে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠী সারায়া আওলিয়া আল দাম। সারায়া আওলিয়া আল দাম একটি শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী।
মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনী গতকাল ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন প্রদেশের অবস্থিত সামরিক ও সরকারি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। হামলায় তেহরানে ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, তারা তেহরানে বিস্তৃত হামলা শুরু করেছে। এতে টার্গেট করা হয়েছে ইরানের মিসাইল লঞ্চ সাইট, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং দেশটির অন্যান্য সরকারি অবকাঠামো। একই সময়ে লেবাননের রাজধানী বৈরুত ও বালবেত অঞ্চলে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এ হামলায় ১০ জন নিহত হয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বৈরুতের আরামৌন ও সাদিয়াত এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় প্রাথমিক হিসাবে ছয়জন নিহত এবং আরও আটজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া বৈরুতের একটি হোটেলেও হামলা হয়েছে।
এদিকে গত শনিবার ইরানে অভিযান শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হামলায় একটি সাবমেরিনসহ ইরানের ১৭টি রণতরি ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এ অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ হাজারের বেশি সেনা, ২০০ যুদ্ধবিমান, দুটি বিমানবাহী রণতরি এবং বোমারু বিমান অংশ নিচ্ছে। আমাদের সক্ষমতা আরও বাড়ানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছি এবং তাদের শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, লঞ্চার ও ড্রোন ধ্বংস করেছি।
ভারত মহাসাগরে মার্কিন সাবমেরিনের হামলায় ডুবল ইরানি যুদ্ধজাহাজ : ভারত মহাসাগরে শ্রীলংকার কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় সাবমেরিন থেকে হামলা করে ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে জাহাজটিতে থাকা ৮০ জন নিহত হয়েছেন। ৩২ জনকে উদ্ধার করেছে শ্রীলংকার নৌবাহিনী।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানান, ভারত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্র একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজকে ডুবিয়ে দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিজেকে নিরাপদ মনে করেছিল। জাহাজটি টর্পেডো দিয়ে ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলকে জানান, ওই ঘটনায় কমপক্ষে ৮০ জন নিহত হয়েছেন।
নৌবাহিনীর মুখপাত্র বুধিকা সম্পথ বলেন, গতকাল ভোরে ইরানের নৌবাহিনীর জাহাজ ‘আইআরআইএস দেনা’ থেকে বিপদসংকেত পাওয়ার পর ৩২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। জাহাজের নথি অনুযায়ী জাহাজটিতে ১৮০ জন আরোহী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও কতজন নিখোঁজ তা এখনো নিশ্চিত নয়।
ইরানের পাল্টা হামলার সক্ষমতা কমছে, দাবি যুক্তরাষ্ট্রের : ইরানের পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান জেনারেল কুপার। তিনি বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও লঞ্চার লক্ষ্য করে নিয়মিত হামলার ফলে দেশটির এ সক্ষমতা কমে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিশোধ নিতে ইরান এখন পর্যন্ত ৫০০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজারেরও বেশি ড্রোন ছুড়েছে। তবে বর্তমানে ইরান তাদের উৎক্ষেপণ সক্ষমতা নিয়ে বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে।
মার্কিন এই সামরিক কর্মকর্তা বলেন, আমরা দেখছি আমাদের এবং আমাদের সহযোগীদের ওপর আঘাত হানার সক্ষমতা ইরানের দিন দিন কমছে। অন্যদিকে, আমাদের সমরশক্তি আরও বাড়ছে। আমার সামগ্রিক মূল্যায়ন হলো আমরা আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী লক্ষ্য অর্জনে অনেক এগিয়ে আছি।
সবচেয়ে উন্নত অস্ত্র এখনো হাতেই আছে, দাবি ইরানের : যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতি রয়েছে ইরানের এবং তারা এখনো তাদের সবচেয়ে উন্নত অস্ত্রগুলো ব্যবহার করেনি বলে দাবি করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রেজা তালাই-নিক বলেন, এই চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিরোধ গড়ার ও আক্রমণাত্মক প্রতিরক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা আমাদের আছে। যুদ্ধের প্রথম দিনগুলোতেই আমরা আমাদের সব উন্নত অস্ত্র ও সরঞ্জাম ব্যবহার করি না।
৬৫০ মার্কিন সেনা হতাহত, পিছু হটেছে রণতরি : ইরানের ‘ট্রু প্রমিজ ৪’ প্রতিশোধমূলক অভিযানের প্রথম দুই দিনে ৬৫০ জনেরও বেশি মার্কিন সামরিক সদস্য হতাহত হয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি এবং যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে এ বিধ্বংসী হামলা চালানো হয়।
আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মদ নায়েনি জানান, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ইরানি উপকূলীয় জলসীমা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যুদ্ধের প্রথম দুই দিনে ৬৫০ জন মার্কিন সেনা হতাহত হলেও যুক্তরাষ্ট্র স্বাভাবিকভাবেই এ ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি গোপন করার চেষ্টা করছে। তবে ইরানি গোয়েন্দা সংস্থা এবং যুদ্ধক্ষেত্রের নির্ভুল রিপোর্ট অনুযায়ী এ সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ করে বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের সদর দপ্তরে বারবার হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে একটি নির্দিষ্ট স্থাপনায় হামলায় প্রায় ১৬০ জন মার্কিন কর্মী হতাহত হয়েছে বলে ইরান দাবি করেছে। এ ছাড়া ইরানি নৌবাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের চাবাহার উপকূল থেকে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থানরত ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন লক্ষ্য করে চারটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরানি নৌবাহিনী। এ হামলার পরই রণতরিটি ভারত মহাসাগরের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে পিছু হটতে শুরু করে।
কুর্দি যোদ্ধাদের দিয়ে ইরানে স্থল হামলা শুরুর চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র : ইরাক-ইরান সীমান্তবর্তী কুর্দিস্তানের কুর্দি যোদ্ধাদের দিয়ে ইরানে স্থল হামলা শুরুর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ কুর্দিদের এ জন্য গোপনে অস্ত্র সরবরাহ করছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে স্থল হামলা চালাতে কুর্দি নেতাদের সঙ্গে অস্ত্র দেওয়ার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের কথা হচ্ছে। কুর্দিদের রয়েছে হাজার হাজার যোদ্ধা।
এক কুর্দি কমান্ডার জানান, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে তারা পশ্চিম ইরানে স্থল হামলা শুরু করতে পারেন। তাদের প্রাথমিক লক্ষ্য ইরানের নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যদের হত্যা করা। যেন ইরানের বড় বড় শহরের বেসামরিক মানুষ রাস্তায় নেমে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু করতে পারেন। তবে এ ধরনের অভিযান চালাতে ইরানের কুর্দিদের ইরাকের কুর্দিদের সহায়তা প্রয়োজন হবে। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বলেছেন, কুর্দিদের দ্বারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করে ইরানে সরকার পতনের ক্ষেত্র তৈরি করা তাদের পরিকল্পনায় রয়েছে।
এমন অবস্থায় ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কুর্দিদের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তাদের ওপর অন্তত কয়েক ডজন ড্রোন দিয়ে হামলা হয়েছে। যেন তারা কোনো ধরনের অভিযান শুরু করতে না পারে। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল কুর্দিদের অস্ত্র কারখানা।
হরমুজ প্রণালিতে কন্টেইনারবাহী জাহাজে হামলা : ওমানের উত্তরে হরমুজ প্রণালিতে কন্টেইনারবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এতে জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষে আগুন ধরে যায়। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, এই হামলার ফলে এখন পর্যন্ত পরিবেশের ওপর কোনো বিরূপ প্রভাব পড়ার খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে এক বিবৃতিতে আইআরজিসির নৌ শাখার কর্মকর্তা মোহাম্মদ আকবরজাদেহ বলেন, এ মুহূর্তে হরমুজ প্রণালির ওপর ইসলামি প্রজাতন্ত্রের নৌবাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
এর আগে ইরান গত সোমবার হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করে। তেহরানের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, কোনো জাহাজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করলে আইআরজিসি ও নৌবাহিনী সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করবে।
রণতরি পাঠাল ফ্রান্স : পরমাণু শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরি মোতায়েনের মধ্য দিয়ে চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে এবার সরাসরি যুক্ত হলো ফ্রান্স। এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য রাষ্ট্র সাইপ্রাসে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার প্রতিবাদে ভূমধ্যসাগরে শক্তিশালী পরমাণু শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরি ‘চার্লস দ্য গল’ মোতায়েনের নির্দেশ দেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। স্থানীয় সময় ৩ মার্চ টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে ম্যাক্রোঁ এ নির্দেশ দেন। সূত্র : রয়টার্স
ম্যাক্রোঁ তার ভাষণে জানান, ২ মার্চ সাইপ্রাসে ব্রিটেনের সামরিক ঘাঁটিতে ইরান হামলা চালিয়েছে। সাইপ্রাস ইইউর সদস্য হওয়ায় জোটের নিরাপত্তা সনদ অনুযায়ী তাদের সুরক্ষা দিতে রণতরি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রণতরিটি বাল্টিক সাগর থেকে ভূমধ্যসাগরের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া এবং ক্রমবর্ধমান সংঘাতের কারণে সুয়েজ খাল ও লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল হুমকির মুখে পড়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সরাসরি এ সংঘাতে ফ্রান্সের অংশ নেওয়াকে মধ্যপ্রাচ্য সংকটে নতুন মোড় হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।