চলতি বছরে সারা দেশে হাজারের বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। মাদক ও সাইবার অপরাধে জড়িত প্রায় ১০ হাজার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নড়বড়ে ছিল মানুষের নিরাপত্তা। দিনের আলোয় অপরাধ হয়েছে নিয়মিত। জমি নিয়ে বিরোধ, চাঁদাবাজি, দখল, চরদখল ও আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শতাধিক সংঘর্ষে প্রাণহানি ঘটেছে।

২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে ঢাকায় আসার পথে ভোলায় ছাত্রদলের এক নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ৬ ডিসেম্বর রাতে তেজগাঁও কলেজের ছাত্রাবাসে মাদক সেবন নিয়ে ছাত্রদলের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ হয়। আহত হন তিন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী ছাত্র সাকিবুল হাসান রানা গুরুতর আহত হন। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তির চার দিন পর ১০ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। এর দুই দিন পর ১২ ডিসেম্বর বেলা ২টা ২০ মিনিটে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মাথায় গুলি করে ফয়সাল করিম মাসুদ রাহুল দাউদ ও আলমগীর পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। ১৮ ডিসেম্বর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাদি মৃত্যুবরণ করেন। একই দিন ময়মনসিংহের ভালুকায় দিপু চন্দ্র দাস (২৮) নামে পোশাকশ্রমিককে ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে পিটিয়ে এবং পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সাল ছিল আইনশৃঙ্খলার জন্য কঠিন এক বছর। জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যেই দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জোর দিয়ে বলেছেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা নেই। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, দুর্বল পুলিশিং এবং গত বছরের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মুক্তি পাওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসীদের পুনরায় সক্রিয় হওয়ার কারণেই একের পর এক প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ড ঘটছে।

১৭ নভেম্বর রাজধানীর পল্লবীতে স্থানীয় যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যার পর হামলাকারীরা পালিয়ে যাচ্ছিল।

তখন গতি বাড়াতে অস্বীকৃতি জানালে তারা রিকশাওয়ালাকেও গুলি করে। দোকানের ভিতর কিবরিয়াকে গুলি করার সিসিটিভি ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে তা আলোড়ন সৃষ্টি করে।

এরও সাত দিন আগে ঢাকার ব্যস্ততম আদালত এলাকার কাছে তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুনকে গুলি করে হত্যা করা হয়একই মাসের শুরুতে চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডের নেতা সরোয়ার হোসেন বাবলাকে হত্যা করা হয়। ৩০ নভেম্বর খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বাইরে অপরাধী চক্রের সঙ্গে যুক্ত দুই ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়

হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) জানুয়ারি থেকে নভেম্বরের মধ্যে রাজনৈতিক সহিংসতায় কমপক্ষে ১২০ জন নিহতের খবর জানিয়েছে। শুধু নভেম্বরে ৯৬টি সহিংস রাজনৈতিক ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।

এতে ১২ জন নিহত এবং প্রায় ৮৭৪ জন আহত হয়েছে। অক্টোবরে ৬৪ ঘটনায় ১০ জন নিহত এবং ৫১৩ জন আহত হয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মাসে দেশব্যাপী কমপক্ষে ৪ হাজার ৮০৯টি খুনের মামলা হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে ৩ হাজার ২৩৬টি খুনের মামলা হয়েছে।