ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তিন দিন পর গতকাল রবিবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘাত-সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে খুলনাতে এক জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর সমর্থকের বাড়িতে। ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে বিএনপির প্রার্থীর দুই সমর্থকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে জামায়াতের বিরুদ্ধে। রাজশাহীতে বিদ্রোহী প্রার্থীর একজন সমর্থককে বিএনপি প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকেরা মারধর করেছেন বলে অভিযোগ।
এ নিয়ে ভোট গ্রহণের দিন অর্থাৎ গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে গতকাল পর্যন্ত অন্তত ২০টি জেলার ২৫টি স্থানে হামলা-সংঘর্ষে দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। এ ছাড়া শুক্রবার মুন্সিগঞ্জ ও বাগেরহাটে বিএনপি প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের হামলায় 'বিদ্রোহী' প্রার্থীর দুজন সমর্থক নিহত হন।
মধ্যরাতে বাড়িতে আগুন
খুলনা-৫ আসনের অধীন ফুলতলা উপজেলার মশিয়ালী গ্রামের আকুঞ্জিপাড়ায় জামায়াতের প্রার্থীর এক সমর্থকের বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মধ্যরাতে আগুন দেখতে পেয়ে তাঁরা ছুটে যান। পরে সবাই মিলে পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ভুক্তভোগী ব্যক্তির নাম শোকর আকুঞ্জি। নিজেকে জামায়াতের প্রার্থীর সমর্থক পরিচয়ে তিনি অভিযোগ করেন, দাঁড়িপাল্লার সমর্থক হওয়ায় ভোটের পর একই আসনে বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকেরা হুমকি দিয়ে আসছিলেন। তাঁরাই আগুন দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
খানজাহান আলী থানা জামায়াতের আমির সৈয়দ হাসান মাহামুদ বলেন, শোকর আকুঞ্জির বড় ছেলে রমজান আকুঞ্জি জামায়াতের রুকন ও ইউনিট সভাপতি। ছোট ছেলে আবদুর রাজ্জাক ছাত্রশিবিরের মশিয়ালী ওয়ার্ড সভাপতি। এ ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল বিকেলে সেখানে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করে দলটি।
ওই ঘটনার খবর পেয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, খুলনা জেলা আমির এমরান হুসাইন, সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সী মইনুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের খুলনা জেলা সভাপতি ইউসুফ ফকির গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সানওয়ার হোসাইন বলেন, রাতের অন্ধকারে কে বা কারা আগুন দিয়েছে, তা শনাক্ত করা যায়নি।
বিএনপির দুই সমর্থকের ওপর হামলা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নির্বাচনসংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের বিরুদ্ধে বিএনপির এক নেতাসহ দুজনের ওপর হামলাসহ মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে সদর উপজেলার মজলিশপুর ইউনিয়নের নদীপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। যদিও জামায়াতের স্থানীয় নেতাদের দাবি, হামলা নয়, তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
হামলার ঘটনায় আহত ব্যক্তিরা হলেন সদর উপজেলার মজলিশপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান ও তাঁর চাচাতো ভাই নায়েব আলী। তাঁরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় লোকজন, আহতদের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভোটের আগের দিন রাতে আমিরপাড়া গ্রামের একটি ভোটকেন্দ্রে 'অনিয়ম' দেখতে যান' ইউনিয়ন জামায়াতের সহসভাপতি মো. আব্দুল্লাহ। এ সময় মিজানুর ও স্থানীয় যুবদল সভাপতি জহিরুল হক তাঁকে আটক করেন। এ ঘটনার জেরে গতকাল মিজানুর ও তাঁর ভাইয়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত মিজানুর রহমান দাবি করেন, 'ইউনিয়ন জামায়াতের সহসভাপতি মো. আব্দুল্লাহকে ভোটের আগের রাতে টাকাসহ আটক করায় গতকাল তিনি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমার ওপর হামলা চালান। হামলায় আমার ডান হাতে আঘাত লাগে। বাঁচাতে এগিয়ে এলে চাচাতো ভাই নায়েব আলীকেও তারা মারধর করে।'
তবে অভিযুক্ত আব্দুল্লাহর দাবি, 'নদীর পাড়ে একটি ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি। আমার ভাই কালন মিয়াকে উদ্দেশ করে মিজানুর রহমানসহ কয়েকজন বলছিলেন, 'হের ভাই জামায়াতের নেতা, জামায়াত কীভাবে এত ভোট পেয়েছে, বিষয়টি দেখার আছে।' এ নিয়ে আমার ভাইয়ের সঙ্গে মিজানুরের কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এতে মিজানুর পড়ে গিয়ে আহত হয়ে থাকতে পারে।'
বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থককে মারধর
রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের বিএনপির 'বিদ্রোহী' প্রার্থীর এক সমর্থককে মারধর করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে পুঠিয়ার বিড়ালদহ গ্রামে তাঁর ওপর হামলার এ ঘটনা ঘটে। তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আহত ব্যক্তির নাম আহসান হাবীব। তিনি এই আসনে বিএনপির 'বিদ্রোহী' প্রার্থী ইসফা খায়রুল হকের (শিমুল) ঘোড়া প্রতীকের পক্ষে কাজ করেছেন। হাবিবের অভিযোগ, বিএনপির 'বিদ্রোহী' প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় ধানের শীষের সমর্থকেরা তাঁর ওপর হামলা করেন।