বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্ত্রীর সঙ্গে যৌথভাবে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার সম্পদের মালিক। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ব্যাংক হিসাব, নগদ অর্থ, কৃষিজমি, শেয়ার, যানবাহনসহ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে তাদের স্বামী-স্ত্রীর নামে এ সম্পদ রয়েছে। বিএনপি মহাসচিবের মোট বার্ষিক আয় ১১ লাখ ৮৩ হাজার ১৩৩ টাকা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। ঠাকুরগাঁও জেলা নির্বাচন অফিসে প্রার্থী হিসেবে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জন্ম ১ আগস্ট ১৯৪৮ সালে। মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় তার বয়স হয়েছে ৭৭ বছর। তিনি শিক্ষাগতভাবে এমএ ডিগ্রিধারী এবং পেশায় রাজনীতিবিদ। হলফনামা অনুযায়ী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ঘোষিত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মোট মূল্য ৩ কোটি ৯৪ লাখ ৭১ হাজার ৫৮২.৭৩ টাকা। অস্থাবর সম্পদের তালিকায় তার মালিকানায় রয়েছে দুটি ব্যক্তিগত গাড়ি। প্রায় ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী (টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার) যার অর্জনকালীন মূল্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং আসবাবপত্র যার মূল্য ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। অস্থাবর মোট সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য ২ কোটি ৫৫ লাখ ৫ হাজার ৭৬৮ টাকা ৭৩ পয়সা। উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত একটি দুই নলা বন্দুকের কথাও হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
হলফনামা অনুযায়ী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আয়ের উৎস : কৃষি খাত থেকে বার্ষিক আয় ১ লাখ ৮০০ হাজার, ব্যবসা (হুরমত আলী মার্কেটের শেয়ার থেকে আয়) ১ লাখ ৯৭ হাজার ২৩২ টাকা, পেশা (যেমন : শিক্ষকতা, চিকিৎসা, আইন, পরামর্শক ইত্যাদি) ইজাব গ্রুপের পরামর্শক হিসেবে সম্মানি ভাতা ৬ লাখ, চাকরি (দি মির্জাস প্রাইভেট লিমিটেড থেকে সম্মানি ভাতা) ১ লাখ ৯৮ হাজার, অন্যান্য যেকোনো উৎস ও ব্যাংক মুনাফা ৭ হাজার ৯০১ টাকা। মোট বার্ষিক আয় ১১ লাখ ৮৩ হাজার ১৩৩ টাকা।
স্থাবর সম্পদ : হলফনামায় দেখা যায় তার নামে স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ৫ একর জমি, যার অর্জনকালীন মূল্য ৬০ হাজার টাকা। এ ছাড়া তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ৭০ শতাংশ ও ২.১৪ একর জমি। যার অর্জনকালীন মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ৫১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। এ ছাড়া পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত দোতলা বাড়ির অংশের মূল্য ১০ লাখ টাকা। এ ছাড়া ঠাকুরগাঁওয়ে তাদের স্বামী-স্ত্রীর নামে অকৃষি জমি রয়েছে ১২ শতাংশ- যার মূল্য ৩৯ লাখ ৭২ হাজার টাকা। এ ছাড়া ঢাকার পূর্বাচলে তার মালিকানায় রয়েছে ৫ কাঠা জমি, যার মূল্য আনুমানিক ৮৫ লাখ ৪ হাজার টাকা। হলফনামায় আরও বলা হয়, ঢাকায় তার নামে ১৯৫০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে, যার মূল্য ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ৪ শতাংশ জমি- যার মূল্য ৫ লাখ টাকা ও মার্কেট শেয়ার ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৮১৪ টাকা রয়েছে। এর বাইরে স্বামী-স্ত্রীর নামে আরও অন্যান্য সম্পদের অর্জনকালীন মোট মূল্য ১ কোটি ৩৯ লাখ ৬৫ হাজার ৮১৪ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অস্থাবর সম্পদ : হলফনামা অনুযায়ী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে একাধিক হিসাব রয়েছে। এসব হিসাবে মোট ৩ লাখ ৮২ হাজার ১৫২ টাকা ৯৬ পয়সা সঞ্চিত রয়েছে। এ ছাড়া স্বামী-স্ত্রীর যৌথ নামে মোট ১১ লাখ ৭৪ হাজার ৮৪ টাকার সঞ্চয় রয়েছে। এ ছাড়া তার নিজের কাছে নগদ অর্থ রয়েছে ১ কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ১১৬ টাকা ৭৭ পয়সা। তার স্ত্রীর আছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৯৩০ টাকা। বিনিয়োগ ও সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে তিনি ‘দি মির্জাস প্রাইভেট লিমিটেড’-এর ১ হাজার ৪২৮টি শেয়ারের মালিক, যার মূল্য প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার ৮০০ টাকা। পাশাপাশি তার স্ত্রীর নামে বিভিন্ন সঞ্চয়পত্র মেয়াদি আমানতে রয়েছে ৪৫ লাখ ১১ হাজার ৭৫০ টাকা।
সালাহউদ্দিনের আয় ৬ কোটি ২২ লাখ : বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক দায় ৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা। তাঁর প্রদানকৃত ঋণের পরিমাণ ৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। বার্ষিক আয় ৬ কোটি ২১ লাখ ৮৩ হাজার ৬২৭ টাকা। নিজের হাতে নগদ অর্থ আছে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৫২ হাজার ৬৭ টাকা, ব্যাংকে জমা ৩৯ লাখ ৪৯ হাজার ৯৯২ টাকা। নিজ নামে কোম্পানির শেয়ার আছে ১৯ লাখ, সঞ্চয়পত্র ও আমানত রয়েছে ২৬ লাখ টাকার। তাঁর স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য হাসিনা আহমদের নগদ অর্থের পরিমাণ ৬ লাখ ৭৯ হাজার ১২৭ টাকা। স্ত্রীর নামে ব্যাংকে আছে ২৬ লাখ ৫ হাজার ৪৩৫ টাকা।
কক্সবাজারের নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া সালাহউদ্দিন আহমদের হলফনামা থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসাবে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া ও পেকুয়া) আসন থেকে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তিনি পেশা হিসেবে আইনজীবী ও ব্যবসায়ী উল্লেখ করেছেন।
হলফনামায় দেওয়া সম্পত্তি ও দায়ের বিবরণী (অস্থাবর) অনুযায়ী, সালাহউদ্দিন আহমদের শেয়ার ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির শেয়ারে তাঁর বিনিয়োগের অর্জনকালীন মূল্য ১৯ লাখ টাকা। স্ত্রীর স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের অর্জনকালীন মূল্য ২ কোটি ৫৮ লাখ ৫৯ হাজার ১৩৭ টাকা, যার বর্তমান বাজারমূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এ ছাড়াও তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির বর্তমান শেয়ারমূল্য ৯৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা।
হলফনামার তথ্যানুযায়ী, সালাহউদ্দিন আহমদ কৃষি খাত থেকে আয় করেন ৬ লাখ টাকা, স্থাবর সম্পত্তির ভাড়া বাবদ আয় করেন ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা, নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পেকুয়া লাইভস্টক ফিশারিজ ফার্ম থেকে আয় করেন ৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, ব্যাংক আমানত থেকে আয় করেন ১১ হাজার ৩২৬ টাকা, কোম্পানির পরিচালক হিসেবে সম্মানি বাবদ আয় করেন ২৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এ ছাড়া অন্যান্য উৎস থেকে (জমি বিক্রি থেকে মূলধনি আয়) ৫ কোটি ৮০ লাখ ২৭ হাজার ৩১১ টাকা বার্ষিক আয় করেছেন তিনি। ২০২৫-২৬ করবর্ষ তিনি ব্যয় দেখিয়েছেন ৩৬ লাখ ৬৮ হাজার ৫৫৯ টাকা।
সালাহউদ্দিন আহমদের স্থাবর সম্পদের তালিকায় রয়েছে ২৪ দশমিক ৩৬ একর কৃষি জমি, ৯ দশমিক ৪৩ একর অকৃষি জমি, পেকুয়ায় তিনতলা নিজ বাসভবন (১২,২০৮ বর্গফুট), কক্সবাজার শহরের কলাতলীতে ৬ তলা ভবন (১৮,১৫০ বর্গফুট) এবং ঢাকার গুলশানে ১টি ফ্ল্যাট (৪,০১৯ বর্গফুট)। এ ছাড়া নিজ নামে রয়েছে ১টি কার ও ২টি জিপ-যার মূল্য অর্জনকালীন প্রায় ৫৭ লাখ টাকা এবং স্ত্রীরও রয়েছে প্রায় সাড়ে ৬৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি কার ও একটি জিপ। এ ছাড়া সালাহউদ্দিনের রয়েছে ১২ দশমিক ৩ তোলা স্বর্ণ (১ তোলা সমান ১ ভরি)-যা তিনি বিভিন্ন সময়ে উপহার হিসেবে পেয়েছেন। স্ত্রী হাসিনা আহমদের কাছে রয়েছে ২৪ দশমিক ৮ তোলা স্বর্ণ-যার মূল্য ‘অজানা’ উল্লেখ করা হয়েছে। তিনটি আগ্নেয়াস্ত্রের মূল্য সালাহউদ্দিন দেখিয়েছেন ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
মির্জা আব্বাসের পারিবারিক সম্পদ প্রায় ১৪৫ কোটি টাকার : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাসের স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে মোট সম্পদ আছে ৫৩ কোটি ১৬ লাখ টাকার। স্ত্রী আফরোজা আব্বাসের মোট সম্পদ ২০ কোটি ৫৯ লাখ ৬৩ হাজার টাকার। এই দম্পতির ছেলে মির্জা ইয়াসির আব্বাসের সম্পদ ৬৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। মেয়ে নাবিলা মির্জার মোট সম্পদ ৬ কোটি ৪২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। স্ত্রী ও সন্তানদের মিলিয়ে ধরলে বিএনপির এই শীর্ষ নেতার পরিবারের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৪৫ কোটি টাকা।
নির্বাচন কমিশনে (ইসি) দাখিল করা হলফনামা থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১৮ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তাঁর পুরো নাম মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী মির্জা আব্বাসের বার্ষিক আয় ৯ কোটি ২৬ লাখ ৪৫ হাজার ১৩৩ টাকা। এর বিপরীতে তিনি ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৪৬ হাজার ৬০২ টাকা আয়কর দিয়েছেন। তাঁর হাতে নগদ আছে পৌনে ৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২ কোটি ৫১ লাখ বাংলাদেশি টাকা, ১ লাখ ২ হাজার ৮৭৫.৭২ মার্কিন ডলার (১ কোটি ২৫ লাখ ৮২ হাজার ৬৯৪ টাকা)। স্ত্রী আফরোজা আব্বাসের হাতে নগদ আছে ১ কোটি ১০ লাখ ৪২ হাজার টাকা ও ৬৮ হাজার ৯৬০.৩১ মার্কিন ডলার (৮৪ লাখ ৩৪ হাজার ৫৩৩ টাকা)। বিভিন্ন ব্যাংকে মির্জা আব্বাস ও স্ত্রীর ঋণ আছে ২৫ কোটি টাকার মতো। তবে সরকারি পাওনা নেই।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাসের বার্ষিক আয় ৪৪ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। মোট সম্পদ আছে ২০ কোটি ৫৯ লাখ ৬৩ হাজার টাকার। তিনি আয়কর দিয়েছেন ১১ লাখ ৪৫ হাজার ৪৩৪ টাকা। ছেলে মির্জা ইয়াসির আব্বাসের বার্ষিক আয় ৬ কোটি ৮১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। মোট সম্পদ ৬৬ কোটি ৬৪ লাখ ১৮ হাজার টাকা। আয়কর দিয়েছেন ২ কোটি ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ টাকা। মেয়ে নাবিলা মির্জার বার্ষিক আয় ৪৫ লাখ ৫২ হাজার টাকা। মোট সম্পদ ৬ কোটি ৪২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। আয়কর দিয়েছেন ৯ লাখ ৮৭ হাজার ৪০১ টাকা। মির্জা আব্বাসের ঢাকা ব্যাংকের শেয়ার আছে অর্জনকালীন ৫১ কোটি ৭৯ লাখ ৩৭ হাজার ৮০ টাকার, বিও অ্যাকাউন্টে অর্জনকালীন ৬ কোটি ৫৫ লাখ ৯৩ হাজার ২৬৭ টাকা। স্ত্রীর নামে ঢাকা ব্যাংকের অর্জনকালীন শেয়ার আছে ৩১ কোটি ৩৪ লাখ ৪৪ হাজার ৩৭০ টাকার। ব্যাংকে স্থায়ী আমানত আছে ৩ কোটি ৩৬ লাখ ৪৪ হাজার ৩১১ টাকা। স্ত্রীর নামে আছে ৩২ লাখ ৬৬ হাজার ৪৩৯ টাকা। নিজ নামে ব্যাংকে জমা আছে ৭১ লাখ ৪৩ হাজার ৯১৯ টাকা ও স্ত্রীর ব্যাংকে আছে ৭ লাখ ৫৬ হাজার ৫৯৯ টাকা।
উত্তরাধিকার সূত্রে মির্জা আব্বাসের ৬ হাজার ১০৬ বর্গফুটের ভবন আছে। ৬টি ফ্ল্যাট, ২টি পার্কিং ও একটি ভবনে ৮ হাজার ৩০ বর্গফুটের ফ্লোর আছে। দুটি গাড়ি আছে যার অর্জনকালীন মূল্য ২ কোটি ৯৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার। অলংকার নিজের নামে আছে ৩০ লাখ টাকার, স্ত্রীর আছে ২২ লাখ টাকার। ইলেকট্রনিক সামগ্রী আছে ২২ লাখ টাকার। খাট, সোফা ইত্যাদি আছে ২০ লাখ টাকার। স্ত্রীর আসবাবপত্র আছে ৫ লাখ টাকার। আগ্নেয়াস্ত্র আছে তিনটি। স্ত্রীর আছে ২টি আগ্নেয়াস্ত্র। মির্জা আব্বাসের কৃষি জমি নেই। তবে অকৃষি জমি আছে-যার অর্জনকালীন মূল্য ১৮ লাখ ৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া যৌথ মালিকানায় আছে ৯৪ লাখ ৮১ হাজার ১৩১ টাকার জমি।
গোলাম পরওয়ারের আয় সাড়ে ৪ লাখ, সম্পদ ১ কোটি টাকার : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের বার্ষিক আয় ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ টাকা। তাঁর স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে অকৃষিজমি ও ভবন, যার বর্তমান বাজারমূল্য ১ কোটি টাকা। এসব সম্পদের অর্জন মূল্য ২২ লাখ ৭২ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে তিনি নগদ ৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৭ লাখ ২৪ হাজার ৭৩৩ টাকা জমা থাকার তথ্য দিয়েছেন। এর বেশির ভাগ অর্থ ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে রয়েছে।
খুলনায় নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা মিয়া গোলাম পরওয়ারের হলফনামা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৫ (ফুলতলা-ডুমুরিয়া) আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ৪৮টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এসব মামলার বেশির ভাগই ২০০০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দায়ের করা হয়েছিল। অধিকাংশ মামলায় তিনি খালাস বা অব্যাহতি পেয়েছেন এবং বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো সক্রিয় ফৌজদারি মামলা নেই।
হলফনামায় পরওয়ার নিজেকে একজন ব্যবসায়ী ও সাবেক শিক্ষক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি ব্যবসা থেকে আয়ের কথা জানিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি ৮০ হাজার ৬৫০ টাকা মূল্যের ইলেকট্রনিকস সামগ্রী এবং ১ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের আসবাবপত্রের কথাও উল্লেখ করেছেন। সব মিলিয়ে তাঁর অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা। ২০২৫ কর বছরে তিনি ৫ হাজার ৬২৫ টাকা কর পরিশোধ করেছেন।
হলফনামার তথ্যানুযায়ী, পরওয়ারের স্ত্রী ১৫ ভরি স্বর্ণের মালিক, যার অর্জন মূল্য ছিল ৪৫ হাজার টাকা। তবে এসব মূল্যবান সামগ্রীর বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ২২ লাখ ৫৭ হাজার ২০ টাকা। ব্যাংকেও তাঁর স্বল্প পরিমাণ সঞ্চয় রয়েছে। পরওয়ার ২০০১ সালে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে খুলনা-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
জি এম কাদেরের সম্পদ ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকার : জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদেরের অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকার। স্ত্রী শেরীফা কাদেরের সম্পদের মূল্য ১ কোটি ৭২ লাখ টাকা। নিজের ও স্ত্রীর নামে লালমনিরহাট এবং ঢাকায় রয়েছে বাড়ি। যার মূল্য ১ কোটি ৫৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। স্ত্রীর ঢাকার বাড়ির মূল্য ৭০ লাখ টাকা। তার নামে ফৌজদারি মামলা আছে ১৩টি, যা তদন্তনাধীন এবং ব্যক্তিগত ঋণের পরিমাণ ১২ লাখ টাকা।
রংপুর নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা জি এম কাদেরের হলফনামা থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৩ আসন থেকে তিনি জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। হলফনামায় পেশা হিসেবে জি এম কাদের নিজেকে রাজনীতিবিদ ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এবং স্ত্রী শেরীফা কাদের সংগীতশিল্পী ও ব্যবসা উল্লেখ করেছেন। তার নামে কৃষি জমি নেই।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, জি এম কাদেরের হাতে নগদ রয়েছে ৬০ লাখ ৩২ হাজার ৪০৫ টাকা। সঞ্চয়পত্র ও ফিক্সড ডিপোজিট রয়েছে ৪০ লাখ টাকা। ৮৪ লাখ টাকা দামের জিপ গাড়ি রয়েছে। সোনা ও অন্যান্য ধাতু রয়েছে ১১ তোলা, যার মূল্য দেখিয়েছেন ১ লাখ ১২ হাজার টাকা। এ ছাড়া ২৫ হাজার টাকা দামের ২২ বোর পিস্তল ও ১১ হাজার টাকা দামের একটি রাইফেল রয়েছে।
গত দুই বছরে জি এম কাদেরের সম্পদ বেড়েছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার হাতে নগদ ছিল ৪৯ লাখ ৮৮ হাজার ২৫৩ টাকা, যা বেড়ে ৬০ লাখ ৩২ হাজার ৪০৫ টাকা। দুই বছর আগে স্ত্রী শেরীফা কাদেরের নগদ টাকার পরিমাণ ছিল ৫৯ লাখ ৫৯ হাজার ৫৬৩। তবে এবার কমে গিয়ে হয়েছে ৪৮ লাখ ৯০ হাজার ৯৩৮ টাকা। হলফনামায় জি এম কাদের জানিয়েছেন, তার কৃষি জমি, বাড়ি ভাড়া, ব্যবসা থেকে কোনো আয় নেই। তবে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে প্রাপ্ত ভাতা থেকে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা, শেয়ার/সঞ্চয়পত্র/ব্যাংক জামানত থেকে নিজের ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা আয় করেছেন। হলফনামায় স্ত্রীর আয় ৭৯ হাজার ৭৪১ টাকা এবং স্ত্রীর ব্যবসা থেকে ৬ লাখ টাকা আয় দেখানো হয়েছে। স্ত্রীর নামে সঞ্চয়পত্র/ফিক্সড ডিপোজিট রয়েছে ১১ লাখ ৮৩ হাজার ৩৬৮ টাকা।
জোনায়েদ সাকির আয় পৌনে ৮ লাখ টাকা : গণসংহতি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকির বার্ষিক আয় ৭ লাখ ৭২ হাজার ৯৩৬ টাকা। পেশায় তিনি একজন প্রকাশক। তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ৪৬ লাখ ৬২ হাজার ৬০২ টাকা। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রীর বার্ষিক আয় স্বামীর তিন গুণ বা ২৩ লাখ ৯ হাজার ২১১ টাকা। মোট সম্পদের পরিমাণও বেশি- ১ কোটি ২২ লাখ ৯৩ হাজার ৩০৪ টাকা। স্ত্রী পেশায় একজন আলোকচিত্রী ও শিক্ষক।
বাঞ্ছারামপুর নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোনায়েদ সাকি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসন থেকে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
হলফনামায় জোনায়েদ সাকির সম্পদের বিবরণে দেখা যায়, জোনায়েদ সাকির নামে কোনো কৃষিজমি নেই। তবে তাঁর নামে ১১ একর অকৃষি জমি রয়েছে, যার অর্জনকালীন আর্থিক মূল্য উল্লেখ করা হয়নি। তাঁর নিজ নামে কোনো বাড়ি, ফ্ল্যাট কিংবা গাড়ি নেই। তাঁর নামে ব্যাংকেও কোনো ঋণ নেই। তবে তাঁর স্ত্রীর নামে ১৮ দশমিক ১৮ শতক কৃষিজমি রয়েছে, যার অর্জনকালীন মূল্য ১৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া তাঁর স্ত্রীর নামে একটি ফ্ল্যাট ও একটি দোকান রয়েছে, যার মোট মূল্য ২৮ লাখ ৮৩ হাজার ৯৩৪ টাকা।
হলফনামা অনুযায়ী, জোনায়েদ সাকি ও তাঁর স্ত্রীর নামে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নেই। তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা চলমান নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
জমিয়ত নেতা মুফতি মনিরের সম্পদ পৌনে ২ কোটি টাকার : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সদর) আসন থেকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের মনোনয়ন পাওয়া বাংলাদেশ জমিয়তে উলামা ইসলামের জেলা সভাপতি মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর সম্পদ রয়েছে প্রায় পৌনে ২ কোটি টাকার। তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৭২ লাখ ৯১ হাজার ২৪১ টাকার। তাঁর বার্ষিক আয় ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা। হাতে নগদ অর্থের পরিমাণ ২ লাখ ৬৪ হাজার ২২৬ টাকা। ব্যাংকে মোট জমা আছে ১৪ লাখ ৬৬ হাজার ৩৭৮ টাকা। তাঁর নামে মোট অকৃষিজমির পরিমাণ ৩২.৭৪ শতাংশ- যার মূল্য ১ কোটি ৩৩ লাখ ৫৯ হাজার ৮০০ টাকা। তাঁর কাছে ৩৫ ভরি স্বর্ণ রয়েছে। রয়েছে ২ হাজার বর্গফুটের ২৭ লাখ ১৭ হাজার ২১৫ টাকার আবাসিক ভবন।
নারায়ণগঞ্জ নির্বাচন কমিশন অফিসে দাখিল করা মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর হলফনামা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চারটি আসন ছাড় দিয়েছে বিএনপি। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সদর) আসনে মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী রয়েছেন। এ আসনটিতে বিএনপি দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন সাবেক এমপি মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন ও জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম। তারা দুজন মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় তাদের বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
শিক্ষা সম্পদে এগিয়ে রেজা কিবরিয়া : হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া ও দলের বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়ার মধ্যে অর্থসম্পদে বড় ব্যবধান দেখা গেছে। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে এ পার্থক্য ধরা পড়ে। হলফনামা অনুযায়ী, রেজা কিবরিয়ার বার্ষিক আয় সুজাতের তুলনায় প্রায় ছয় গুণ এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ প্রায় দ্বিগুণ বেশি। রেজা কিবরিয়া ও তার তিন নির্ভরশীলের বার্ষিক আয় ৩১ লাখ ১ হাজার ৬৪৬ টাকা। নিজের নামে অস্থাবর সম্পদ ৩ কোটি ৫১ লাখ ১৫ হাজার ৮৩৬ টাকা এবং স্থাবর সম্পদ ৪ কোটি ১৫ হাজার টাকা রয়েছে। ধানমন্ডিতে তার একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। স্ত্রীর নামে রয়েছে ৩ কোটি ২৩ লাখ ৩৪ হাজার ৬২৩ টাকার স্থাবর সম্পদ, ২ কোটি ১৬ লাখ ২০ হাজার টাকার অন্যান্য সম্পদ এবং ১২৫ ভরি স্বর্ণালংকার। সব মিলিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মোট সম্পদ ১৫ কোটি ৪০ লাখ ৮৫ হাজার ৪৫৯ টাকা। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলার তথ্য নেই। তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনশাস্ত্রে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
এদিকে একই আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া কৃষি, বাড়ি ভাড়া ও অন্যান্য খাত থেকে বছরে ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা আয় দেখিয়েছেন। তার অস্থাবর সম্পদ ৯৮ লাখ ৪ হাজার ৫২৯ টাকা এবং স্থাবর সম্পদ ৫ কোটি ৭৩ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে মোট সম্পদ ৬ কোটি ৭১ লাখ ৮৩ হাজার ৫২৯ টাকা। কিছু যৌথ সম্পদের উল্লেখ থাকলেও স্ত্রী বা নির্ভরশীলদের নামে কোনো সম্পদ দেখাননি। পেশা হিসেবে তিনি ব্যবসা উল্লেখ করেছেন। তিনি পাঁচটি মামলার আসামি ছিলেন। এর মধ্যে চারটি মামলায় অব্যাহতি এবং একটি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। সুজাত যুক্তরাজ্য থেকে জেনারেল সার্টিফিকেট অব সেকেন্ডারি এডুকেশন অর্জন করেছেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. শাহজাহান আলী বছরে ৮ লাখ ২০ হাজার ৮৮৫ টাকা আয় দেখিয়েছেন। তার অস্থাবর সম্পদ ২২ লাখ ৩০ হাজার ৬৬১ টাকা এবং স্থাবর সম্পদ ১ লাখ ৭৩ হাজার ৯৭৪ টাকা। স্ত্রীর নামে রয়েছে ৩ লাখ টাকার স্বর্ণ। তার বিরুদ্ধে থাকা ৩৭টি মামলার মধ্যে ১৪টি থেকে খালাস, ১৯টি থেকে অব্যাহতি এবং একটি মামলা বিচারাধীন। তিনি স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী ও পেশায় শিক্ষক।
এ ছাড়া খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম দাওরায়ে হাদিস পাস। তার বার্ষিক আয় ৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদ প্রায় ১৩ লাখ টাকা এবং স্থাবর সম্পদ প্রায় ২ কোটি টাকা। তবে তার ২৯ লাখ টাকা ঋণ রয়েছে। পেশা হিসেবে শিক্ষকতা উল্লেখ করেছেন।