ফরিদপুরের একমাত্র ভারী শিল্পকারখানা ‘ফরিদপুর সুগার মিল’। এক সময় এ কারখানার চিনি ছড়িয়ে পড়ত গোটা দেশে। কিন্তু তা সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। ধারদেনায় চলতে চলতে ঋণ জমেছে পাহাড়সমান। আর টাকা না পাওয়ার ভয়ে দিনে দিনে এলাকার কৃষকরা মিলের কাঁচামাল অর্থাৎ আখ চাষই বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে চাহিদার অর্ধেক আখও পাওয়া যায় না। আবার আয় নেই কিন্তু বিপুল পরিমাণ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। ফলে লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়েই এবারও আখমাড়াই মৌসুম শুরু হচ্ছে।
১৯৭৪ সালে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার গাজনা ইউনিয়নে ১২৯ দশমিক ৯৭ একর জমির ওপর মিলটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। ৭৬ সালে পরীক্ষামূলকভাবে এবং ৭৭ সালে বাণিজ্যিকভাবে চিনি উৎপাদন শুরু হয়। বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের অধীনে এটি ফরিদপুর জেলার একমাত্র ভারী কৃষিভিত্তিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এ মিল থেকে চিনি, জৈব সার, চিটাগুড় ও মন্ড উৎপাদন করা হয়।
সরেজমিন দেখা গেছে, মিলটিতে সব মিলিয়ে খাতাকলমে ১ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী, শ্রমিক রয়েছেন। এ ছাড়া চুক্তিভিত্তিক বেশকিছু শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। প্রয়োজনের তুলনায় মিলটিতে শ্রমিকের সংখ্যা অধিক বলে জানা গেছে। অভিযোগ আছে, স্থানীয় প্রভাবশালী অনেকেই চিনিকলে কর্মরত থাকলেও তারা কোনো কাজই করেন না। মাসে মাসে বেতন নিয়ে থাকেন।
স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর চিনি বিক্রি করে লাভ হলেও চিনিকলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো চালাতে গিয়ে লোকসান দেখা দেয়। চিনিকলের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট স্কুল, মসজিদ, রেস্টহাউস, আখ সেন্টারগুলোর ভবন ও রাস্তা মেরামত করতে গিয়ে বড় একটি টাকা ব্যয় হয়ে থাকে। এ ছাড়া প্রতি মাড়াই মৌসুমে মিলটি চালু থাকে ৭০ দিন। কিন্তু সারা বছরই কর্মকর্তা-কর্মচারী, শ্রমিকদের বেতন দিতে হয়।
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক ঋণের চিত্র ভয়াবহ। ২০১৪-১৫ থেকে ২০১৮-১৯ মৌসুম পর্যন্ত সোনালী ব্যাংক মধুখালী শাখা থেকে মিল কর্তৃপক্ষ ১৮৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছে। পরবর্তী সময়ে ৫৭ কোটি ৭২ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়। কিন্তু সুদে-আসলে বর্তমানে সোনালী ব্যাংকের কাছে দেনা দাঁড়িয়েছে ৩৪৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। অন্যদিকে ২০০৬-০৭ থেকে ২০০৮-০৯ মৌসুমে মধুখালী কৃষি ব্যাংক থেকে ২০ কোটি ৮৮ লাখ টাকার ঋণ নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ২৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা পরিশোধ করার পরও ব্যাংটির পাওনা রয়েছে ১৯ কোটি ১০ লাখ টাকা।
সব মিলিয়ে ২০৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকার ঋণের বিপরীতে ৮৭ কোটি ২ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। বর্তমানে মিলটির দেনা রয়েছে ৩৬৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। যা মিলটির জন্য বড় বোঝা হিসেবে বিবেচিত। চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারেক ফরহাদ বলেন, ‘মিলটির নানাবিধ সংকট কাটাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতি মৌসুমে ১১০ দিন মিলটি চালু রাখা সম্ভব হলে সুফল|