জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে ড্রেন। কিন্তু সেটি তো হচ্ছে না। বৃষ্টি হলে উল্টো ড্রেনের পানি চলে আসছে সড়কে। ঢুকছে ড্রেনের পাশে গড়ে ওঠা বসতিতে। এমনই হাল রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায়। কারণ ড্রেনগুলো রাস্তা থেকে এক থেকে দুই হাত উঁচু। এখন এই ড্রেনই স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজশাহী মহানগরীর উত্তর চকপাড়া এলাকায় নির্মিত হচ্ছে ড্রেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটিয়ে ড্রেনটি রাস্তার চেয়ে উঁচুতে নির্মাণ করা হয়েছে। ২০২২ সালে নির্মাণকাজ শেষ হলেও চার বছর পার হয়ে গেলেও ড্রেনটি কার্যকর করা হয়নি। দুই প্রান্ত বন্ধ থাকায় পানি নিষ্কাশনের কোনো সুযোগ নেই। ফলে এটি এখন কার্যত একটি অকেজো স্থাপনায় পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজ চলাকালেই তারা বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই আপত্তি গুরুত্ব পায়নি। এখন সেই ভুল পরিকল্পনার খেসারত দিতে হচ্ছে পুরো এলাকাবাসীকে। স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ড্রেনটি এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে যে, এক পাশের পানি অন্য পাশে যেতে পারে না। অল্প বৃষ্টিতেই রাস্তা পানিতে তলিয়ে যায়। রাস্তার উন্নয়ন না করে এমন একটি ড্রেন করা হয়েছে, যা কোনো কাজেই আসছে না। বরং আমাদের সমস্যাই বাড়িয়েছে। আরেক বাসিন্দা আরিফ হোসেন বলেন, এই ড্রেন শুধু দেখানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে বলে মনে হয়। বাস্তবে এর কোনো উপকার নেই। সবসময় পানি জমে থাকে।
সিটি বাইপাস সড়কের দক্ষিণ পাশ দিয়েও নির্মাণ করা হচ্ছে আরেকটি ড্রেন। সেটির অবস্থাও একই। রাস্তা থেকে ড্রেনটি উঁচু। বৃষ্টি হলে পানি চলে আসে সড়কে। ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয়ের সচিব ফারুক আহমেদ বলেন, ড্রেন নির্মাণের সময় এলাকাবাসী এর উচ্চতা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। ড্রেনের লেভেল ও উচ্চতা নির্ধারণে কোনো ত্রুটি হয়েছে কি না, তা প্রকৌশলীরাই ভালো বলতে পারবেন। বিষয়টি তখন কাউন্সিলরকেও অবহিত করা হয়েছিল।
রুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক আবদুল ওয়াকিল বলেন, নগর উন্নয়নের ক্ষেত্রে রাজশাহী মহানগর উন্নয়ন পরিকল্পনা (আরএমডিপি) ২০২২-২০৪০ যথাযথভাবে অনুসরণ করা জরুরি। কোনো অবকাঠামো নির্মাণের আগে এলাকার ভৌগোলিক অবস্থা, পানিপ্রবাহ, ভবিষ্যৎ নগরায়ণ এবং জনসাধারণের প্রয়োজন বিবেচনায় নিতে হবে। তিনি বলেন, পরিকল্পনাবহির্ভূত উন্নয়ন প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে। তাই রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, রাজশাহী সিটি করপোরেশন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমেই টেকসই নগর উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি জেনেছি। আমাদের কর্মকর্তারা বিষয়টি দেখছেন।’