ল্যাবে তৈরি সিনথেটিক বা কৃত্রিম মাদকের ‘নীরব সুনামি’ শুরু হয়েছে মাদকের অন্ধকার জগতে। ইয়াবা ও গাঁজার চিরাচরিত বলয় ভেঙে এখন বাজারে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অত্যন্ত শক্তিশালী ও মরণনেশা সব সিনথেটিক মাদক।


মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গত ছয় বছরের পরিসংখ্যান বলছে, দেশে সিনথেটিক নেশায় আসক্তের সংখ্যা বাড়ছে জ্যামিতিক হারে। এ সময়ে দেশের মাদকের বহরে যুক্ত হয়েছে এমডিএমবি, এমডিএমএ বা ডিএমটির মতো অপরিচিত সব মাদক।


মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক জাহিদ হোসেন মোল্লা বলেন, ‘পুরো বিশ্বে সিনথেটিক মাদক আসক্তির সংখ্যা বাড়ছে। মাদক মাফিয়ারা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন মাদক তৈরি করছে ল্যাবে। সেই ধাক্কা লেগেছে বাংলাদেশেও।’


সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মজিবুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, ‘ল্যাবে তৈরি সিনথেটিক মাদক দ্রুত আসক্তি তৈরি করে। দ্রুত ক্রেজ সৃষ্টি করে। প্রাকৃতিক মাদকের চেয়ে সিনথেটিক মাদকের দিকে ঝুঁকছে আসক্তরা। তাই ল্যাবে তৈরি মাদক আসক্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।’


দেশে সিনথেটিক মাদকের চাহিদা বৃদ্ধি নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মেট্রো অঞ্চলের উপপরিচালক মানজারুল ইসলাম।


তিনি বলেন, ‌‘ল্যাবে তৈরি নতুন নতুন সিনথেটিক মাদক শিডিউলভুক্ত না হওয়ায় পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা কিছুটা জটিল। শিডিউলভুক্ত মাদকের চেয়ে বেচাবিক্রি এবং বহন করা অনেকটা সহজ। এ ছাড়া প্রাকৃতিক মাদকের চেয়ে সিনথেটিক মাদক দ্রুত আসক্তি তৈরি করে। তাই দেশে সিনথেটিক মাদকের চাহিদা বাড়ছে।’ সিনথেটিক মাদক ব্যবহার বৃদ্ধির ভয়ংকর চিত্র উঠে এসেছে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে।