একদা স্রোতবাহী এ খালে চলত পালতোলা নৌকা। খালের পানি স্বচ্ছ হওয়ায় মানুষ তা দৈনন্দিন কাজেও ব্যবহার করত। খালের মনোরম দৃশ্য নয়ন জুড়াত বলে এলাকাবাসী নাম দিয়েছিল ‘নয়নের খাল’। সেই খাল এখন আর নয়ন জুড়ায় না। দখল ও দূষণে খালটির অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার পথে।


নয়নের খালটির অবস্থান মুন্সিগঞ্জ সদরের মীরকাদীম পৌরসভা ও পঞ্চসার ইউনিয়নে। খালের এক প্রান্ত রিকাবীবাজার খালের সঙ্গে সংযুক্ত। সেখান থেকে বিনোদপুর উচ্চবিদ্যালয় হয়ে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে মীরাপাড়া মসজিদ সংলগ্ন গোপপাড়া খালের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে খালের অপরপ্রান্ত।


সরেজমিন দেখা যায়, বিনোদপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে খালের দুই পাশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, গরুর খামার ও ঘরবাড়ি তুলে এলাকার প্রভাবশালী মহল যে যেভাবে পেরেছে খালের বেশির ভাগ অংশ দখল করে রেখেছে। এতে খালটি সরু হয়ে গেছে। অপরদিকে খালের মুখ প্রায় ভরাট হয়ে যাওয়ায় খালটিতে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত। এতে বিভিন্ন জায়গায় শুষ্ক মৌসুমে খালে পানি থাকে না। ফলে হারিয়ে গেছে খালের প্রাকৃতিক পরিবেশ। খালটিতে বাজার এলাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় খালে ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। এতে খালটি এখন নর্দমায় পরিণত হয়েছে। কোথাও কোথাও খালের ময়লার স্তূপের গন্ধে পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়াও কষ্টকর। আর বৃষ্টি হলে খালের ময়লার পানিতে একাকার হয় খালের দুই পাশের এলাকা ও বাড়িঘর। ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, ৩৫-৪০ ফুট প্রস্থের খালটি এখন কোনো কোনো জায়গায় ১০ থেকে ৫ ফুট আবার কোনো কোনো জায়াগায় খালের অস্তিত্বই নেই। খালের পাশে দাঁড়িয়ে কেউ বলতে পারবে না- এখানে একদা একটি খাল ছিল। প্রশাসন কাগজে কলমে এই খালটি সংরক্ষণে আশার বাণী শুনালেও বাস্তবে তা শূন্য। জানা যায়, খালটির দুই পাশে প্রায় ৫০ হাজার লোকের বসবাস। খালের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও বৃষ্টির পরে ময়লা পানি আর মশার উৎপাতে মানুষের জীবন অতিষ্ঠ। খালটি পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও পৌর কর্তৃপক্ষ কিংবা ইউনিয়ন পরিষদ খালটির সংরক্ষণ বা পানি প্রবাহ পুনরুদ্ধারে নেই কোনো উদ্যোগ কিংবা কর্ম পরিকল্পনা। খালটি মিরকাদীম পৌরসভা ও পঞ্চসার ইউনিয়নের অংশ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছক পৌর এলাকার বাসিন্দারা জানান, খালটির মুখ ভরাট দখল ও গরুর খামার করায় পানিও প্রবেশ করতে পারে না। এজন্যই ধীরে ধীরে খালটি দখল ও ময়লা আবর্জনায় ভরে গেছে।


পঞ্চসার ইউনিয়নের বিনোদপুর এলাকার বাসিন্দারা জানান, খালটি একসময় স্রোতবাহী ছিল। এ খালে বড় বড় মালবাহী নৌকা চলত। খালটি দখল দূষণে বিলুপ্ত প্রায়। খালটির কারণে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে আছে। দ্রুত খালটি উদ্ধার করা না গেলে খালের দুই পাশের মানুষকে মশাবাহিত রোগ ও ময়লার পানিতে ভাসতে হবে। স্থানীয় মীরকাদীম পৌর এলাকার বাসিন্দা ফাহিম জানান, দখলবাজদের কারণে নয়নের খাল ৯০ শতাংশ দখল হয়ে গেছে। বাকি অংশ ময়লা-আবর্জনায় পরিপূর্ণ। ময়লার গন্ধে পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া কষ্টকর। দখলবাজদের উচ্ছেদ করে খালটি উদ্ধার জরুরি। খালের পাশে বসবাসকারী একজন শিক্ষক জানান, খালের অবস্থা দেখলে যে কেউ বলবে, মীরকাদীমে খাল দখলের মহোৎসব চলছে। খাল ভরাটের কারণে গোটা পৌরসভায় পয়োনিষ্কাশন-ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়েছে। এলাকার পরিবেশ রক্ষায় ও মানুষের ভোগান্তি লাগবে খালটি দখলমুক্ত করা জরুরি।


মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান জানান, খালটি খনন ও উদ্ধারের জন্য সরকারের কাছে তালিকা দেওয়া হয়েছে। খালটি খননের জন্য আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিব। খননের সময় খালটি দখলমুক্ত করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।