রাজধানীর বাজারে বাড়ছে কোনা পোড়া ১০ ও ২০ টাকার নোটের সংখ্যা। মাঝেমধ্যে মিলছে ৫০ ও ৫০০ টাকার পোড়া নোটও। এসব নোট নিতে চাইছেন না ক্রেতা, বিক্রেতা কেউই। ফলে বাজারে খুচরা টাকার সংকট আরও প্রকট হচ্ছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ভয়ংকর মাদক ইয়াবা ও হেরোইনসহ কয়েক ধরনের মাদক সেবনের সঙ্গে এসব পোড়া নোটের সম্ভাব্য যোগসূত্রের তথ্য।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার দোকানদাররা জানান, প্রতিদিন তাদের ক্যাশবাক্সে ১০ থেকে ১৫টি পোড়া নোট জমা হচ্ছে। অধিকাংশই ১০ ও ২০ টাকার নতুন নোট। মাঝেমধ্যে ৫০ টাকার নোটও পাওয়া যায়। এসব নোট কেউ নিতে চান না। তাই তারাও রাখতে চান না। কিন্তু ক্রেতার কাছে বিকল্প টাকা না থাকায় অনেক সময় বাধ্য হয়ে গ্রহণ করতে হয়। আবার কখনো অসাবধানতাবশত অন্যান্য নোটের সঙ্গে চলে আসে। পরে এসব নোট অন্য ক্রেতাদের দিলে তারা ফেরত দিয়ে দেন। পোড়া নোট জমতে জমতে কয়েক হাজার টাকায় গিয়ে দাঁড়ায়। অনেক ব্যবসায়ী শেষ পর্যন্ত গুলিস্তানের টাকার ব্যবসায়ীদের কাছে এসব নোট কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হন। কেউ কেউ বিভিন্ন কোম্পানির বকেয়া পরিশোধের সময় সুযোগ বুঝে এসব নোট চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
জানা গেছে, ইয়াবা ও হেরোইনসহ কয়েক ধরনের মাদক সেবনের সময় নতুন নোট পাইপ বা নল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এ কারণে কম মূল্যমানের ১০ ও ২০ টাকার নোটই বেশি ব্যবহৃত হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (অপারেশনস) মুকুল জ্যোতি চাকমা বলেন, ইয়াবা ও হেরোইন সেবনে টাকা ব্যবহারের প্রমাণ তারা পেয়েছেন।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, নোটে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন দেওয়া না হলেও মাদক সেবনের সময় আগুনের কাছাকাছি নেওয়ায় নোটের কোণা পুড়ে যায়। এ কারণেই বাজারে কোণা পোড়া নতুন নোটের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এটা শুধু রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়ই ঘটাচ্ছে না, মাদকের ভয়াবহ বিস্তারের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, কিছু মাদকসেবীর আড্ডায় বড় মূল্যমানের নোট ব্যবহার করাকে আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। এ কারণে মাঝেমধ্যে ৫০০ টাকার কোণা পোড়া নোটও বাজারে চলে আসে। যদিও এর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, পুরোনো বা ময়লা নোট অনেকে নিলেও কোণা পোড়া নোট নিতে চান না। এতে লেনদেনে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক সময় পোড়া নোট না নিতে চাইলে ক্রেতা-বিক্রেতার সম্পর্ক নষ্ট হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এভাবে নোট ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেগুলো দ্রুত বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নতুন নোট ছাপতে হয়। এতে রাষ্ট্রের ব্যয় বাড়ে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশের মুদ্রা ব্যবস্থাপনাও। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে অচল নোট বাড়লে তা সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কারেন্সি অফিসারের অনুমতিতে ধ্বংস করতে হয়। পরে সমপরিমাণ টাকা ছাপতে হয়। দুই প্রক্রিয়াতেই অনেক অর্থ ব্যয় হয়। ১০ টাকার নোটের মূল্যমান কম হওয়ায় মাদকসেবীদের কাছে এর গুরুত্ব কম হলেও রাষ্ট্রের অনেক টাকা নষ্ট হয়। কারণ ১০ টাকা ও ১ হাজার টাকার নোট ছাপানোর খরচে পার্থক্য খুব সামান্য।