ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) বলেছেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে আসন্ন হজ উপলক্ষে বাংলাদেশের প্রস্তুতি খুবই ভালো। ফ্লাইটগুলো কনফার্ম হয়েছে। ভিসাও কমপ্লিট। বাড়িভাড়া সব কমপ্লিট। পরিবহনব্যবস্থা সৌদি সরকার করবে। ইনশাল্লাহ ১৮ তারিখ প্রথম ফ্লাইট। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্বোধন করবেন। আল্লাহর রহমতে হাজিদের সবকিছু সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে। হজে সংকট বলতে কিছুই থাকবে না, ইনশাল্লাহ। হজ প্রস্তুতি প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। মধ্যপ্রাচ্যে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। হজে এর প্রভাব পড়বে কি না-জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) বলেন, হজ উপলক্ষে বেশ কয়েক দিন সৌদি আরব সফর করে অতি সম্প্রতি দেশে ফিরেছি। ওখানে বোঝাই যায় না যে কোনো সমস্যা আছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিবেশ হজে কোনো প্রভাব পড়বে না আশা করছি। তা ছাড়া সৌদি সরকারও সব বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েই প্রস্তুতি নিয়েছে। ধর্মমন্ত্রী বলেন, হাজিরা আল্লাহর মেহমান। আল্লাহ আমাদের স্রষ্টা। স্রষ্টার মেহমানের খেদমত করতে গিয়ে যদি আমার জীবন চলে যায় আমার কোনো আপত্তি নাই। আমি সর্বাত্মক চেষ্টা করছি আল্লাহর মেহমানদের খেদমত করার, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। হজ সফলভাবে সম্পন্ন করার সঙ্গে সরকারের ভাবমূর্তি জড়িত কি না-জানতে চাইলে কুমিল্লা-৩ আসনে ষষ্ঠবারের মতো নির্বাচিত সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) বলেন, হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সরকারের ভাবমূর্তি জড়িত। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো ধরনের গাফিলতি সহজভাবে নেওয়া হবে না। ধর্মমন্ত্রী বলেন, এ বছরের হজ বর্তমান সরকারের প্রথম হজ।


তাই অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এবারের হজ ব্যবস্থাপনা আরও সুষ্ঠু ও সুন্দর করতে করতে চাই। হজযাত্রীরা আল্লাহর মেহমান। হজযাত্রীদের নিজের পরিবারের সদস্যের মতো সেবা দেওয়ার মতো করে গড়ে তোলা হচ্ছে। এ বছরের হজ ব্যবস্থাপনায় যেসব দপ্তর ও সংস্থা ভালো সেবা দেবে, তাদের পুরস্কৃত করা হবে। ধর্মমন্ত্রী বলেন, আমরা যদি সুন্দরভাবে হজ পালন সম্পন্ন করতে পারি সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। কারণ একটা গ্রুপ আছে যারা চেষ্টা আগেও করেছে, এখনো করছে যেন আমরা সুন্দরভাবে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় এটা পালন না করতে পারি। আমরা সে ব্যাপারে অত্যন্ত সজাগ।


সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনায় গাফিলতি লক্ষ করছেন কি না- জানতে চাইলে ধর্মমন্ত্রী বলেন, যেসব এজেন্সি আছে যারা হজযাত্রীদের হ্যান্ডলিং করে তাদের ওপর নির্ভর করে হাজিদের পুরো বিষয়টা। প্রাইভেট সেক্টরে প্রায় ৯০ শতাংশ হাজি যান। উনাদের বলেছি, যদি সুন্দর সুষ্ঠুভাবে এটা ব্যবস্থাপনা করতে পারে তাদের মধ্যে যে এক নম্বর হবে তাদের পদক দিয়ে সম্মানিত করা হবে। হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) নেতাদের এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত কেউ যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমি কোনো দ্বিধাবোধ করব না, সে যে-ই হোক।


সৌদি আরব সফর করে এসেছেন। তাদের থেকে কেমন শ্রুতিশ্রুতি পেয়েছেন-জানতে চানতে চাইলে ধর্মমন্ত্রী বলেন, হাজি সাহেবদের উন্নয়নে সৌদি সরকার অনেক পরিবর্তন এনেছে। সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়েছে। সৌদি সরকারের যে আন্তরিকতা তাতে তাদের কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা জানা নেই। সফরে ৩০ মার্চ সৌদি হজ ও ওমরাহবিষয়ক মন্ত্রী ড. তৌফিক বিন ফাউজান আল-রাবিয়াহের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে হজ ও ওমরাহবিষয়ক সেবা ও সহযোগিতা জোরদারে ঐকমত্য পোষণ করা হয়। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করেছি।


বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বিদ্যমান সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং হজ-ওমরাহসহ ধর্মীয় ও পারস্পরিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছি। এর ফলে বাংলাদেশিদের জন্য হজ ও ওমরাহ সেবায় নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।