চব্বিশের অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে গুমের অভিযোগ দিয়েছেন বরগুনার সাবেক যুবদল নেতা মশিউর রহমান মামুন। গতকাল তিনি এ অভিযোগ দাখিল করেন। তদন্তের স্বার্থে অন্যদের নাম প্রকাশ করতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।


এদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি গাড়িতে করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আসেন মামুন। পরে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা বৈঠক করেন তিনি। বৈঠক শেষে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি কথা বলেন।


২০১৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ব্যাংকক যাওয়ার পথে সাদা পোশাকধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে তুলে নেয়। এরপর টানা ছয় মাস তাকে চোখ বেঁধে, হাতকড়া পরিয়ে একটি গোপন স্থানে আটকে রাখা হয় বলে জানান মামুন। তিনি বলেন, ‘গুম অবস্থায় আমাকে টানা ছয় মাস অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে। আমি আগে প্রতিদিন পাঁচ মাইল দৌড়াতাম, খেলাধুলা করতাম। আর এখন আমি ঠিকমতো হাঁটতেও পারি না।’ টানা ছয় মাস গুম রাখার পর ২০১৫ সালের ২৩ অগাস্ট তাকে ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে দাবি মামুনের। এরপর তাকে আদালতে উপস্থাপন করে রিমান্ড আবেদন করা হয়। দুই দফা রিমান্ড শেষে তাকে প্রায় দুই বছর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি থাকতে হয়। পরবর্তীতে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি। শেখ হাসিনাসহ প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরের কথা জানালেও তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নাম প্রকাশ করতে অপারগতা প্রকাশ করেন মামুন। শারীরিক ও মানসিক এ নির্মম নির্যাতনের কারণে ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ ছাড়তে পারেননি। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বসবাস করছেন তিনি। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজনেই তাকে সেখানে থাকতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।


ডিজিএফআইয়ের মামুন খালেদ ফের রিমান্ডে : বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ঘিরে রাজধানীর মিরপুর মডেল থানার দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবারও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। দুই দফায় ১১ দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল তাকে আদালতে হাজির করে পুনরায় চার দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক কফিল উদ্দিন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম মো. ছিদ্দিক আজাদ রিমান্ডের ওই আদেশ দেন।


এর আগে ২৫ মার্চ রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম রাজধানীর মিরপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। পরবর্তীতে গত ৩১ মার্চ তার আরও ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। দেলোয়ার হত্যা মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে দেশি অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় আওয়ামী লীগের ৫০০-৭০০ নেতা-কর্মী। এ সময় সেনা কর্মকর্তা শেখ মামুন খালেদের নির্দেশে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয়। তাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন দেলোয়ার হোসেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০২৪ সালের ২১ জুলাই শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের জুলাইয়ে মিরপুর থানায় একটি মামলা করা হয়।