সিলেটে হঠাৎই বাড়ন্ত ছিনতাই। পর পর কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন নগরবাসী। সন্ধ্যা হলেই পথচারীরা আতঙ্কে থাকতেন। এরপরই মাঠে নামেন সিলেটের দুই মন্ত্রী। তারা কড়া নির্দেশনা দেন পুলিশকে। এরপর ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে ‘জিহাদ’ ঘোষণা করে মাঠে নামে পুলিশ। ২৬৩ জন পেশাদার ছিনতাইকারীর তালিকা নিয়ে চলে অভিযান। একই সঙ্গে চলে অপরাধ জগতে নতুন নাম লেখানো সন্ত্রাসীদেরও তালিকা তৈরির কাজ। অভিযানে পুলিশ বহিরাগত অপরাধীদের কয়েকটি গ্রুপেরও সন্ধান পায়। ৪০ দিনের অভিযানে ৭৮ জন ছিনতাইকারী গ্রেপ্তারের পর জনমনে স্বস্তি ফিরেছে। কমে এসেছে নগরীতে ছিনতাইয়ের ঘটনা। তবে পুলিশ বলছে, অভিযান এখানেই শেষ নয়। এখনো পেশাদার ২১২ জন ও বহিরাগত ৩২ জন ছিনতাইকারী তাদের নিশানায় রয়েছে। অতি সম্প্রতি নগরের হাউজিং এস্টেটে দিনদুপুরে ফিল্মি স্টাইলে ছিনতাই ও সাগরদিঘীরপাড়ে ছিনতাইচেষ্টার ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর সিলেটজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। এর মধ্যে আরও কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় নগরবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নিয়ে অভিযানের নির্দেশ দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। হঠাৎ করে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ায় পুলিশও নগরজুড়ে শুরু করে সাঁড়াশি অভিযান। পুলিশের অভিযানে প্রতিদিনই আটক হয় ছিনতাইকারী, কিশোর গ্যাং সদস্য ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত শতাধিক ব্যক্তি। পুলিশের তথ্যমতে, ১ মার্চ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত ৪০ দিনে সিলেট নগর থেকে ৭৮ জন ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার হয়েছে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার (এসএমপি) মো. আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী পিপিএম জানান, সিলেট নগরীকে ছিনতাইকারীমুক্ত করার মিশনে নেমেছে পুলিশ। ইতোমধ্যে ২৬৩ জন পেশাদার ছিনতাইকারীর তালিকা নিয়ে অভিযান চলছে। ইতোমধ্যে এ তালিকার চিহ্নিত ৫১ জন ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার হয়েছে। যারা এর আগেও বিভিন্ন সময়ে ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত ছিল। চিহ্নিত বাকি ছিনতাইকারীদের পাশাপশি অপরাধজগতে নতুন নাম লেখানোদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। নতুন অপরাধীদেরও চিহ্নিত করার কাজ চলছে। পুলিশ কমিশনার আরও জানান, তদন্ত ও অভিযানে বের হয়ে এসেছে সিলেট নগরে বহিরাগত ছিনতাইকারীদেরও দৌরাত্ম্য রয়েছে। অপরাধ করেই নগর ত্যাগ করায় তাদের শনাক্ত করা ও গ্রেপ্তারে পুলিশকে বেগ পেতে হয়। এরকম বহিরাগত গ্রুপের ৩২ সদস্যকে চিহ্নিত করতে পেরেছে পুলিশ। এসএমপি সূত্র জানায়, পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানের পর থেকে নগরে বসবাসকারী অনেক ছিনতাইকারী বাইরে চলে গেছে। গ্রেপ্তার ঠেকাতে তারা গা ঢাকা দিয়ে  আছে। এ ছাড়া বহিরাগত বিভিন্ন গ্রুপ নগরীতে এসে চুরি-ছিনতাইয়ের চেষ্টা করছে। এর মধ্যে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট, বালাগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট, সুনামগঞ্জের ছাতক ও মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে বিভিন্ন গ্রুপ এসে সিলেট নগরে অপরাধ করছে। এই গ্রুপের সদস্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের গোয়েন্দা তৎপরতা চলমান আছে।