কথা বলার ফ্লোর নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয় সংসদ অধিবেশনে। সরকারি ও বিরোধীদলীয় এমপিরা সংসদীয় বিধি উপক্ষো করে কথা বলার সুযোগ চাইলে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ সময় স্পিকারের আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। গতকাল সংসদ অধিবেশনের মাগরিবের বিরতির পর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের উত্থাপিত নোটিসকে ঘিরে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়। তিনি জুলাই জাতীয় সনদ সংবিধান ও সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ নিয়ে একটি নোটিস উপস্থাপন করেন। তার পর আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বক্তব্য রাখেন। তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করার জন্য বক্তব্য রাখেন। সেদিন সংবিধান, জুলাই সনদসহ প্রয়োজনীয় বই রাখার জন্য বলেন। তার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বক্তব্য রাখেন। তিনি বিরোধী দলের নেতার নোটিসটি সংশোধনের পরামর্শ দেন। এরই মধ্যে স্পিকার আগামীকালের কার্যক্রমের শেষ দুই ঘণ্টা নির্ধারণ করেন। এর পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবার কথা বলার জন্য ফ্লোর চাইলে ব্যাপক হট্টগোল দেখা যায়। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ জোটের একাধিক এমপিও এ সময় কথা বলার জন্য দাঁড়িয়ে যান। সরকারদলীয় চিফ হুইপও ফ্লোরের দাবি জানান। ডেপুটি স্পিকার চিফ হুইপকে ফ্লোর দিলে অধিবেশন কক্ষে হযবরল অবস্থা তৈরি হয়।
হট্টগোলের মধ্যে বিরোধী জোটের এমপিরা সরকারি দলের মন্ত্রী ও এমপিদের উদ্দেশে নানা তীর্যক মন্তব্য করতে থাকেন। পাশাপাশি ডেপুটি স্পিকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিরোধী জোটের একাধিক এমপি মাইক ছাড়াই বলতে থাকেন- এ সংসদ গায়ের জোরে চালানো হচ্ছে। এভাবে চলতে পারে না। সরকারি দলের পক্ষ থেকে কর্তৃত্ব দেখানো হচ্ছে। এ সময় স্বরাষ্ট্র্র ও আইনমন্ত্রীকে ব্যর্থ বলে চিৎকার করতে থাকেন তারা। জোটের এমপিরা আরও বলেন, গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে কোনো ধরনের টালবাহানা চলবে না। সরকারি দলকে কেবল মাইক দেওয়া হচ্ছে। বিরোধী দলকে মাইক দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন। তারা বিরোধীদলীয় চিপ হুইপকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান। এ সময় সরকারি দলের কয়েকজন এমপিও কথা বলার সুযোগ চান। পাশাপাশি বিরোধী জোটের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে থাকেন।
এ সময় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বারবার সংসদীয় বিধি অনুযায়ী সবাইকে কথা বলার অনুরোধ জানালেও তা ব্যর্থ হয়। বিরোধী জোটের একাধিক এমপি কথা বলতে বারবার উঠে দাঁড়ান। বিরোধীদলীয় নেতা কথা বলার জন্য দাঁড়ালে তাঁকে ফ্লোর দেওয়া হয় কয়েকবার। নিয়ম অনুযায়ী বিরোধীদলীয় নেতা কথা বলার জন্য দাঁড়ালে জোটের অন্য কেউ দাঁড়ান না। কিন্তু গতকাল সংসদ অধিবেশনে এ চিত্রের ব্যতিক্রম দেখা যায়।
বিরোধীদলীয় নেতা তাঁর জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫ (আদেশ নম্বর ০১, ২০২৫)-এর অনুচ্ছেদ ১০ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান শিরোনামের মুলতবি নোটিসে বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫-এর অনুচ্ছেদ ১০ অনুযায়ী সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষিত হওয়ার ৩০ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে যে পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করা হবে অনুরূপ পদ্ধতিতে পরিষদের প্রথম অধিবেশন আহ্বানের বিধান থাকলেও এখন পর্যন্ত তা করা হয়নি। জাতির প্রত্যাশা পাশ কাটিয়ে এ ধরনের অচলাবস্থা সৃষ্টি করা কখনো কাম্য নয়। এমতাবস্থায় জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ অধিবেশন সংক্রান্ত আলোচনার জন্য স্পিকারের প্রতি সংসদে মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপনের আহ্বান করছি।
এর পরে ফ্লোর নিয়ে নোটিসটাই তো বৈধ হয়নি বলে দাবি করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। ৬২ বিধিতে এ নোটিস গ্রহণ করা হলে তা সংশোধিত আকারে গ্রহণ করতে হবে বলে তিনি জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণ অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কারের মতো স্পর্শকাতর ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতেও অপেশাদারত্বের পরিচয় দিয়েছে বিরোধী দল। জাতীয় সংসদে সংবিধান সংস্কারের দাবিতে আনা মুলতবি প্রস্তাবটি দিতে গিয়ে ন্যূনতম ‘কার্যপ্রণালি বিধি’ অনুসরণ করা হয়নি। তিনি বলেন, বিধি ৬২-এর অধীনে যে প্রস্তাব আনা হয়েছে, তার বিষয়বস্তু হওয়া উচিত ছিল বিধি ৬৮-এর অধীনে। মন্ত্রীর ভাষায়, নোটিসটাই তো বৈধ হয়নি। একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উত্থাপন করতে গিয়ে কোন বিধিতে কতক্ষণ আলোচনা করা যায়, সেই সাধারণ জ্ঞানটুকুও বিরোধী দল দেখাতে না পারায় সংসদের ভিতরেই হাস্যাস্পদ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এমনকি বিধি ৬৩ অনুযায়ী, যা আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সমাধান করতে হয় তা যে মুলতবি প্রস্তাবের বিষয় হতে পারে না, এ সাধারণ সংসদীয় প্রথাটুকুও মাথায় রাখেননি বিরোধী দলের নীতিনির্ধারকরা। ফলে তাদের এ অপরিপক্ব পদক্ষেপের কারণে জুলাই জাতীয় সনদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুটিও এখন সংসদীয় জটিলতার জালে আটকা পড়ল। সরাসরি অধিবেশনে আলোচনার পরিবর্তে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারি-বিরোধী দলের সমন্বয়ে একটি ‘সংবিধান সংস্কার কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, এ কমিটি দেশের বিশিষ্টজন ও সম্পাদকদের সঙ্গে কথা বলে রিপোর্ট দেবে। তবে সংসদের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি এবং জুলাই গণ অভ্যুত্থানের শহীদদের আকাক্সক্ষা কতটুকু এ ‘সংসদীয় কমিটির’ মাধ্যমে প্রতিফলিত হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মন্ত্রী বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল এবং এর মাধ্যমে সংবিধানের কোনো বিধান সরাসরি পরিবর্তিত হয়নি। ফলে সংবিধান সংশোধন করতে হলে সরকারের ৫১ শতাংশ ম্যান্ডেট ও নির্বাচনি ইশতেহারকে প্রাধান্য দেওয়ার ইঙ্গিতও দেন তিনি। এর আগে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, আমরাও চাই জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন হোক। আমরা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পথ ধরে হেঁটে চলেছি। মুলতবি প্রস্তাব আকারে আনা হয়েছে বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে। আমি অত্যন্ত যৌক্তিক এবং সময়োপযোগী একটি প্রস্তাবনা মনে করছি। এ বিষয়টি আলোচনার দাবি রাখে। উনাদের পক্ষ থেকেও আলোচনা হবে, আমাদের পক্ষ থেকেও আলোচনা হবে। আমরা আলোচনা করতে চাই। তবে আলোচনার আগে একটু সময় প্রয়োজন। এ সাবজেক্টের ওপর আলোচনা করতে গেলে প্রত্যেক সংসদ সদস্য টেবিলের সামনে বাংলাদেশের সংবিধান, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশের কয়েকটি কপি অবশ্যই থাকতে হবে। কারণ জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে গোটা জাতি এক ধরনের বিভ্রান্তির মধ্যে আছে যে কারা সত্য। আমরা জুলাই জাতীয় সনদের প্রত্যেকটি ধারা-উপধারা কীভাবে ধরে এগিয়ে চলেছি সেটা আমরা দেখাব।
পরে ফ্লোর নিয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা সংবিধান সংশোধনের জন্য এখানে (সংসদ) আসিনি। সংবিধান সংস্কারের জন্য আমরা এসেছি। তিনি বলেন, আমি অনেকক্ষণ ধরে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছিলাম। আমরা আশা করি, আপনি যখন ফ্লোর দেবেন সেখানে কোনো বৈষম্য করবেন না। আজকে বিরোধীদলীয় নেতা উনি মুলতবি প্রস্তাব পেশ করেছেন। সে অনুযায়ী আপনার রুলিংও হয়েছে। সে বিষয়ে আইনমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তারা কিন্তু তাদের বক্তব্যে ব্যাখ্যা রেখেছেন। সংক্ষিপ্ত সময় হলেও তো সে ভিত্তিতে আমাদেরও কথা বলার থাকে। সেই সুযোগগুলো কিন্তু আমাদেরও দেওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, এখানে আমাদের কারোরই ভুলে যাওয়ার কথা না। দুটো নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা আজকের এ জায়গায় এসেছি। একটি গণভোট এবং একটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ গণভোটের ভিত্তি হচ্ছে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ। নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের যে গণভোট হয়েছে, গণরায় হয়েছে, গণভোটের আদেশ ছিল, সে আদেশকে অমান্য করা হচ্ছে। সে আদেশকে অসাংবিধানিকও বলা হয়েছে। যার ভিত্তিতে আমরা এখানে এসেছি। আমরা সংবিধান সংশোধনের জন্য এখানে আসিনি। সংবিধান সংস্কারের জন্য এসেছি।
জুলাই সনদ নোটিস নিয়ে বিতর্ক : অধিবেশনের শুরুতে ‘গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’ ইস্যুতে আলোচনার প্রস্তাব নিয়ে সংসদে মৃদু বিতর্ক হয়। মন্ত্রীদের প্রশ্নোত্তর পর্বের পরই বিষয়টি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দেন বিরোধীদলীয় নেতা। এসময় স্পিকারের আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার বলেন, সংসদের বিধি অনুযায়ী ৭১ বিধি শেষে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে। এসময় বিরোধীদলীয় এমপিরা প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। হাত তুলে কথা বলার জন্য স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পরে ফ্লোর নিয়ে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা হয়তো ভুলে গেছি এই সংসদ কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কাদের রক্তের বিনিময়ে আমরা দাঁড়িয়ে আছি। এমনভাবে সংসদ চলছে যেন সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই হয়েছে। তিনি আগে বিরোধীদলীয় নেতার দেওয়া নোটিস নিয়ে আলোচনার দাবি জানান। তবে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত অন্যান্য কার্যক্রম শেষে ওই নোটিসের ওপর আলোচনার আশ্বাস দেন ডেপুটি স্পিকার। শেষে নোটিসটা উত্থাপন করেন বিরোধীদলীয় নেতা।
জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ নিয়ে আলোচনা শেষে কার্যপ্রণালী বিধির ৬২ বিধিতে সংসদে নোটিশ উত্থাপন করেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। পরে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে আলোচনায় সম্মতির কথা জানান। তবে তিনি তার আগে বর্তমান সংবিধান, জুলাই জাতীয় সনদ, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫, মদিনা সনদসহ কিছু ডকুমেন্ট সংসদ সদস্যদের সরবরাহ করতে স্পিকারকে অনুরোধ করেন। এরপর এ বিষয়ে আগামীকাল ৩১ মার্চ জাতীয় সংসদে আলোচনা হবে বলে সিদ্ধান্ত জানান স্পিকারের আসনে থাকা ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি জানান, ওই দিন দিনের অন্যান্য কার্যসূচি শেষে এ বিষয়টির ওপর দুই ঘণ্টা আলোচনা হবে।
অধিবেশনের শুরুতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট অনুষ্ঠিত হলেও সংসদের কার্যক্রমে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। তাই অন্যান্য দৈনন্দিন কার্যক্রমের আগে বিরোধীদলীয় নেতার দেওয়া জনগুরুত্বপূর্ণ এ নোটিসের ওপর আগে আলোচনার দাবি জানানো হয়। এর জবাবে সরকারি দলের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, সংসদ সদস্যদের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রশ্নোত্তর পর্ব ও ৭১ বিধিতে আলোচনার জন্য নির্ধারিত সময় রয়েছে। এই সময় শেষে বিরোধীদলীয় নেতার নোটিসের ওপর আলোচনা হতে পারে। এতে সরকারি দলের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু শুরুতেই ৭১ বিধি স্থগিত করলে সাধারণ সংসদ সদস্যদের (বেসরকারি সদস্য) অধিকার ক্ষুণ্ন হবে। বিরোধীদলীয় নেতা জানান, ৬৪ বিধি অনুযায়ী ৭১ বিধির আগেই এটি উত্থাপনের সুযোগ রয়েছে এবং সেই বিধি মেনেই তিনি নোটিস দিয়েছেন।
এসময় জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার দেওয়া জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিস নিয়ে আলোচনার বিষয়ে কার্যপ্রণালি বিধি ও দীর্ঘদিনের রেওয়াজ মেনেই অধিবেশন পরিচালনার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এতে কারও অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে স্পিকারকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ৭১ বিধিতে আপনি আজকে উত্থাপন করার সুযোগ দেবেন কি দেবেন না সেটা আপনার এখতিয়ার। তবে এটা সংসদ সদস্যদের একটি অধিকার। এর পরে যদি বিরোধীদলীয় নেতা তাঁর নোটিসের প্রস্তাবটা উত্থাপন করেন, তবে তাঁর বিপক্ষে হয়তো আমাদেরও দু-চার কথা বলার থাকতে পারে, যা আমরা পয়েন্ট অব অর্ডার ফর্মুলেট করেই বলব। পরিশেষে তিনি ডেপুটি স্পিকারকে সংসদ পরিচালনায় বিধি অনুসরণের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘আপনি বিধিমোতাবেক এগিয়ে যান। আমি আপনাকে অনুরোধ করব, আপনি যেভাবে ‘অর্ডার অব দ্য ডে’ পরিচালনা করতে চাচ্ছেন, দয়া করে সেভাবেই যান, যাতে অন্য সদস্যদের অধিকারও রক্ষিত হয়।’
টানা ১৩ দিন বিরতির পর গতকাল থেকে আবার শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশন। প্রথমবারের মতো গতকাল স্পিকারের আসনে বসেন চলতি সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। রেওয়াজ অনুযায়ী শুরুতে তিনি স্বাগত বক্তব্য রাখেন। এ সময় তিনি ওয়েস্টমিনস্টার স্টাইলের গণতন্ত্র চর্চায় সফল জাতি গঠনের প্রত্যাশার কথা জানান। অন্যদিকে ডেপুটি স্পিকারকে স্বাগত জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদকে ইনসাফের ভিত্তিতে পরিচালনা করা গেলে দেশেও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।
স্বাগত বক্তব্যে ডেপুটি স্পিকার বর্তমান সংসদকে গতানুগতিক ধারার বাইরের এক ‘ঐতিহাসিক সংসদ’ আখ্যা দেন। তিনি বলেন, এই সংসদে আমরা কেউ এসেছি ফাঁসির মঞ্চের সন্নিকটে থাকা কনডেমড সেল থেকে, কেউ এসেছি ফ্যাসিবাদী শাসনে সৃষ্ট আয়নাঘর থেকে, কেউ প্রিয় মাতৃভূমি ছেড়ে দেড় যুগের বেশি সময় নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে, কেউবা গুম হয়ে জীবন্ত লাশের দুঃসহ জীবন কাটিয়ে। অনেকেই এসেছেন মামলা, জুলুম, নির্যাতন ও কারাগারের দুঃসহ জীবন পার করে। এমন সংসদ আমাদের জাতীয় জীবনের ইতিহাসে আর কখনো দেখা যায়নি, এমনকি বিশ্বের ইতিহাসেও বিরল।
ডেপুটি স্পিকারের নিরপেক্ষতার প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের জনগণ এমনই একটি সংসদ প্রত্যাশা করে, যা হবে সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। ডেপুটি স্পিকার যদি নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করেন এবং যার যা প্রাপ্য তা নিশ্চিত করেন, তবে বিরোধী দল তার সব যৌক্তিক পদক্ষেপে সহযোগিতা করবে। মানুষ হিসেবে ভুল হওয়া স্বাভাবিক এ কথা উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ডেপুটি স্পিকার যদি কোনো ভুল করেন, তবে তা গঠনমূলকভাবে সংশোধনে সহযোগিতা করবে বিরোধী দল।