ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুই দেশের সরকারের আনুষ্ঠানিক সমঝোতা ছাড়া বাংলাদেশে এসে সরাসরি আত্মসমর্পণের কোনো আইনি সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।


তিনি বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাঁকে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হবে। গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে শেখ হাসিনাকে ফেরত আনার জন্য ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে। বর্তমানে তিনি ভারত সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকায় সাধারণ নাগরিকের মতো নিজ উদ্যোগে বাংলাদেশে ফিরে আসার সুযোগ নেই। তাঁকে আনতে হলে হয় প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করতে হবে, অথবা ভারত সরকার নিজস্ব আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁকে ফেরত পাঠাতে পারে। যেভাবেই তিনি দেশে আসুন না কেন, বাংলাদেশে পৌঁছানোর পরপরই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে।


সম্প্রতি শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা একসঙ্গে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করবেন, এ ধরনের বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, এ দাবির কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। তিনি বলেন, বর্তমানে শেখ হাসিনা স্বাধীনভাবে চলাফেরা করছেন না এবং নিজ উদ্যোগে দেশে ফেরার সুযোগও নেই। তিনি মনে করেন, এ ধরনের বক্তব্য মূলত দলীয় নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত রাখা কিংবা দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির রাজনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে। মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আপিল প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১(৩) ধারায় রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা ৩০ দিন। নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর আপিলের সুযোগ থাকবে কি না, তা শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে এনে আইনগত প্রক্রিয়ায় আদালতের সামনে উপস্থাপনের পরই বিচারিকভাবে নির্ধারিত হবে। তবে বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর অবস্থায় রয়েছে। ফলে দেশে ফিরলে প্রথমেই তাঁকে কারাগারে যেতে হবে।


এদিকে ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে বলেও জানান চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, ২১ জুলাই এ মামলার আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে। এ ছাড়া ২০২৪ সালের গণ অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত নৃশংসতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধসংক্রান্ত মামলাসহ ট্রাইব্যুনালে চলমান আলোচিত ১০টি মামলার তদন্তও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। শিগগিরই এসব মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।