স্থানীয় সরকার নির্বাচন কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বইছে ভোটের হাওয়া। দীর্ঘদিন ঝিমিয়ে থাকা মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ। উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের তোড়জোড় ও দৌড়ঝাঁপ চোখে পড়ার মতো। ভোটাররাও নির্বাচন নিয়ে চায়ের কাপে ঝড় তুলছেন। কে হচ্ছেন প্রার্থী-এ আলোচনা সর্বত্র। সম্ভাব্য প্রার্থীরাও সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ছুটে চলছেন পাড়ামহল্লা, গ্রামগঞ্জে। তৃণমূলে জমজমাট লড়াইয়ের আভাস। নির্বাচন কমিশন (ইসি) এখনো স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেনি। এমনকি সরকারের পক্ষ থেকেও সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হয়নি। কিন্তু সম্ভাব্য প্রার্থীরা আগেই থেকেই প্রচারে নেমে পড়েছেন। ভোটারদের মন জয় করতে ছুটে বেড়াচ্ছেন।


দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সড়ক, মোড়, হাটবাজার এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ছবিসংবলিত রঙিন পোস্টার, ব্যানার ও বিলবোর্ড শোভা পাচ্ছে। ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবে শুভেচ্ছা জানানোর আড়ালে চলছে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও প্রচারে কেউ পিছিয়ে থাকতে রাজি নন। ফেসবুক ও ইউটিউবে প্রমোশন চালিয়ে প্রার্থীরা সুন্দর বাচনভঙ্গিতে ভোটারদের কাছে নিজের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির চেষ্টা করছেন। কেউ বা সামাজিক কর্মকাণ্ড, দান-অনুদান এবং অতীতের উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান তুলে ধরে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। তবে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সাত জেলায় কোনো নির্বাচনি আমেজ নেই বলে জানা গেছে।


সূত্রমতে এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হওয়ার সুযোগ নেই। নির্দলীয়ভাবে ভোট হবে। সে কারণে ভোটারদের মন জয়ে আগে থেকেই মাঠে নেমে পড়েছেন প্রার্থীরা। কেউ নিজের সাংগঠনিক দক্ষতা তুলে ধরছেন, কেউ আবার নির্বাচিত হওয়ার পর কী কী করবেন তা ভোটারদের সামনে উপস্থাপনের চেষ্টা করছেন। প্রার্থীর অধিকাংশই ক্ষমতাসীন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা। জামায়াতের একক প্রার্থীরাও মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। পিছিয়ে নেই নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আবার কোথাও কোথাও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরাও মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিজেদের প্রভাব বিস্তারে আটঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। সরেজমিনে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা ঘুরে স্থানীয় সরকারের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে। হাটবাজার, সামাজিক অনুষ্ঠান ও দলীয় কর্মসূচিতে প্রার্থীরা হাজির হচ্ছেন। ভোটারদের সঙ্গে কুশলবিনিময় এবং যোগাযোগ বাড়াতে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত উঠান বৈঠক করছেন অনেকে। বিএনপির তৃণমূলের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সংসদ নির্বাচনের পর স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনকে তারা গ্রামীণ ও নগর রাজনীতিতে নিজেদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চমক দেখানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। গত সংসদ নির্বাচনে আসনভিত্তিক সমঝোতা থাকলেও, স্থানীয় সরকারে জামায়াত কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়। গ্রামীণ জনপদে নিজেদের মজবুত সাংগঠনিক ভিত্তি কাজে লাগিয়ে উপজেলা ও ইউনিয়নগুলোতে সর্বোচ্চসংখ্যক চেয়ারম্যান ও মেম্বার পদ নিশ্চিত করতে চায় দলটি। সে লক্ষ্যে অনেক এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে নিজেদের প্রার্থিতা ঘোষণা করে গণসংযোগ শুরু করে দিয়েছেন।


সিরাজগঞ্জের ৮ নম্বর সলঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন জেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সহসম্পাদক এম দুলাল উদ্দিন আহমেদ। তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘প্রতিদিন আমি গণসংযোগ করছি, ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছি। জনগণের মধ্যে ব্যাপক সাড়াও পাচ্ছি। জনগণ আমাকে যেভাবে গ্রহণ করছে, তাতে আমার দৃঢ় বিশ্বাস-দল জন আকাক্সক্ষা পূরণে জনমত জরিপ করে যদি আমাকে সমর্থন দেয় তাহলে দল ও ব্যক্তি ইমেজ মিলে আমিই বিজয়ী হব ইনশাল্লাহ।’ রাজশাহীর চারঘাট পৌরসভার সাবেক মেয়র, উপজেলা বিএনপি সভাপতি জাকিরুল ইসলাম বিকুল বলেন, ‘পৌরসভা নির্বাচন সামনে রেখে গণসংযোগ করে যাচ্ছি। জনগণের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। আমি অতীতেও জনপ্রতিনিধি ছিলাম। কাজেই পৌরসভার মানুষ আমার সম্পর্কে সব জানেন। জনগণের ভোটে আবারও বিজয়ী হব ইনশাল্লাহ।’


মাদারীপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সরকারি নাজিম উদ্দিন কলেজের ভিপি ছিলাম। ৩০ বছর জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছি। আশা করি নির্বাচনে জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবে ইনশাল্লাহ।’