প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেড় দশকের বেশি সময় পর দেশের জনগণ সরাসরি ভোট দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচিত করেছে। দীর্ঘদিন ধরে একটি জবাবদিহিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী শাসনব্যবস্থার প্রত্যাশায় থাকা সাধারণ মানুষের আশার প্রতিফলন হচ্ছে বর্তমান সরকার। গতকাল রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে ফাউন্ডেশনের ট্রেনিং কাম ডরমিটরি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।


মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার ও বিয়ামের মহাপরিচালক আবদুল মালেক উপস্থিত ছিলেন। জনপ্রশাসন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কারভাবে বলেন, রাষ্ট্রযন্ত্রের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধা, সততা, সৃজনশীলতা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাই সরকারের প্রধান বিবেচ্য। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ অভ্যুত্থান আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে এই রাষ্ট্রের মালিক এ দেশের জনগণ। তাই জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা হিসেবে জনগণের স্বার্থ ও কল্যাণ নিশ্চিত করা আপনাদের প্রধান দায়িত্ব। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ফাউন্ডেশনের (বিয়াম) যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৯১ সালের ২৯ ডিসেম্বর। এরপর ২০০২ সালের নভেম্বরে এটি বিয়াম ফাউন্ডেশনে রূপান্তরিত হয়। বিয়ামের প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত অগ্রযাত্রার দিন ও তারিখগুলো প্রমাণ করে দেশ ও জনগণের স্বার্থে বিএনপি সরকার বড় একটি সুদক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনপ্রশাসন দেখতে চেয়েছে এবং ভবিষ্যতেও দেখতে চায়। বিয়াম ফাউন্ডেশনের ট্রেনিং কাম ডরমিটরি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কেবল একটি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনই নয়, এটি প্রশাসনিক সক্ষমতা, প্রশাসনিক নেতৃত্ব গঠন ও মানবসম্পদ বিকাশের রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকারের প্রতিফলন।  তারেক রহমান বলেন, আজ যে ট্রেনিং কাম ডরমিটরি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হচ্ছে, তা ভবিষ্যতে প্রশাসনিক নেতৃত্ব গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই ভবন শুধু একটি অবকাঠামো নয়, এটি হয়ে উঠুক জ্ঞানচর্চা, নেতৃত্ব বিকাশ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের একটি প্রাণবন্ত কেন্দ্র।


দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি বিয়ামের অন্যতম একটি লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বিশেষ করে সরকারি কর্মে নিয়োজিত মানবসম্পদকে আধুনিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারে সক্ষম করে গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার মেধানির্ভর, আত্মবিশ্বাসী, সৃজনশীল ও দায়িত্ববান মানবসম্পদ গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।


প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে চাইলে সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে মেধাভিত্তিক, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তোলার বিকল্প নেই বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।


জনপ্রশাসন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আপনারা যথাযথভাবে সেই দায়িত্ব পালন করতে পেরেছিলেন কি না কিংবা পালন করতে সক্ষম হয়েছিলেন কি না, এই মুহূর্তে সেই প্রশ্ন না তুলে আমি আপনাদের বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের পক্ষ থেকে একটি বার্তা দিতে চাই। দেশ ও জনগণের কাছে আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছি, সেসব কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়। বরং জনগণের সঙ্গে করা আমাদের চুক্তি। জনগণ আমাদের ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছে। সুতরাং বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচনি ইশতেহার ও জনগণের সামনে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি দফা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে বদ্ধপরিকর। বর্তমান সরকার ‘মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রযন্ত্রের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধা, সততা, সৃজনশীলতা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাই প্রধান বিবেচ্য হিসেবে গ্রহণ করতে চায় এ সরকার।


রিজওয়ান রশীদের বানানো ‘রেসিং কার’ চালালেন প্রধানমন্ত্রী : কলেজছাত্র রিজওয়ান রশীদের বানানো গো-কার্ট (রেসিং কার) চালিয়ে তাঁকে উৎসাহ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল দুুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসেন রিজওয়ান রশীদ। সেখানে তিনি নিজের তৈরি গো-কার্টটি প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করেন। এ সময় আগ্রহভরে নতুন এই যানটি পর্যবেক্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী। একপর্যায়ে রিজওয়ান রশীদকে উৎসাহ দিতে তিনি নিজেই গো-কার্টটি চালিয়ে দেখেন। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানান। রাজধানী ঢাকার সড়ক থেকে উচ্ছেদকৃত হকারদের দ্রুত পুনর্বাসনের নির্দেশ : রাজধানী ঢাকার সড়ক থেকে উচ্ছেদ হওয়া হকারদের দ্রুত পুনর্বাসন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এই নির্দেশনা দেন বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে দ্রুত বিকল্প স্থান নির্ধারণ করতে বলেছেন। তিনি বলেন, উচ্ছেদ হওয়া হকারদের এমন জায়গায় পুনর্বাসন করতে হবে, যেখানে তাঁরা স্বাচ্ছন্দ্য ও উৎসাহের সঙ্গে ব্যবসা করতে পারেন। বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব শহীদুল হাসান, রাজউকের চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার ও ডিআইজি (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।


উদ্ভাবকদের যথাযথ স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, উদ্ভাবক, গবেষক, উদ্যোক্তা এবং সৃজনশীল ব্যক্তিদের প্রতিভার যথাযথ স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে সরকার একটি আধুনিক, সহজ ও কার্যকর সেবাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘অনলাইন নিবন্ধন, দ্রুত সেবা প্রদান, আইনি সুরক্ষা জোরদার এবং নকল পণ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ইতোমধ্যেই নেওয়া হয়েছে।’ অন্যান্য দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আজ বাংলাদেশে উদ্্যাপিত হবে ‘বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস’। এ উপলক্ষে গতকাল দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস ২০২৬’ এ বছরও বাংলাদেশে উদ্্যাপিত হচ্ছে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো। এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দেশের দ্রুত অগ্রগতির জন্য। মেধাস্বত্ব দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘মেধাস্বত্ব ও ক্রীড়া : প্রস্তুত হও, শুরু করো, উদ্ভাবন করো’। এ প্রতিপাদ্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সময়োপযোগী দেশের তরুণদের মেধাশক্তিকে কাজে লাগানোর জন্য।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি “মেধাস্বত্ব সুরক্ষা” যেকোনো নতুন ধারণা, উদ্ভাবন ও সৃজনশীল কর্মপ্রচেষ্টাকে উৎসাহিত করে। একই সঙ্গে ক্রীড়াপ্রযুক্তি, খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ পদ্ধতি, ক্রীড়াপণ্যের ব্র্যান্ডিং, সম্প্রচার শিল্প, ডিজিটাল কনটেন্ট এবং উদ্যোক্তা বিকাশে এর একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।’


তিনি বলেন, ‘এটা বেশ আনন্দের বিষয় যে বাংলাদেশ আজ তারুণ্যের শক্তিতে ভরপুর। আমি মনে করি, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি, শিল্প, গবেষণা, স্টার্টআপ এবং সৃজনশীল অর্থনীতির দ্রুত বিকাশের এই সময়ে মেধাস্বত্ব সুরক্ষা জাতীয় অগ্রগতির অন্যতম পূর্বশর্ত। বর্তমান সরকার এ বিষয়ে সচেতন।’


কাল যশোর যাচ্ছেন তারেক রহমান : শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত যশোরের শার্শা উপজেলার উলাসী-যদুনাথপুর খাল পুনঃখনন উদ্বোধন করতে আগামীকাল যশোর যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। খাল পুনঃখনন ছাড়াও এ দিন তিনি আরও কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। যা নিয়ে জেলাজুড়ে দলীয় নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাসের ঢেউ বইছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এটাই যশোরে প্রথম সফর। আর গত তিন মাসের মধ্যে যশোরে এটা তাঁর দ্বিতীয় সফর। এর আগে ২ ফেব্রুয়ারি যশোর উপশহর ডিগ্রি কলেজ মাঠে বিশাল নির্বাচনি জনসভায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি।