ভোলা থেকে এলএনজি না এনে সেখানে ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। এলএনজি না এনে সেখানে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হলে ৯ হাজার ৩০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।
গতকাল ভোলার প্রস্তাবিত এলএনজির (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) দাম নির্ধারণে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আয়োজিত গণশুনানিতে এই প্রস্তাব তুলে ধরেন পিডিবির অতিরিক্ত পরিচালক (অর্থ পরিদপ্তর) সৈয়দ জুলফিকার আলী। তিনি বলেন, ১ ঘনমিটার গ্যাস দিয়ে ৪ থেকে ৫ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। সেই বিদ্যুৎ সঞ্চালন করে ঢাকায় আনতে খরচ পড়বে ১ টাকা ২৪ পয়সা। এতে কোনো রকম বিনিয়োগের প্রয়োজন নেই। অন্যদিকে ভোলা থেকে এলএনজি আকারে গ্যাস আনার প্রস্তাবে প্রতি ঘনমিটারের পরিবহন খরচ প্রস্তাব করা হয়েছে ২৯ টাকা ৯০ পয়সা। প্রস্তাবিত ৩০ মিলিয়ন এলএনজি পরিবহনে বছরে খরচ হবে ৯৩০ কোটি টাকা। ১০ বছরের চুক্তির বিপরীতে ৯ হাজার ৩০০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। এই টাকা এলএনজি পরিবহনে খরচ না করে ভোলায় ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হোক। দুই বছরের এলএনজি পরিবহন খরচ হলেই বিদ্যুৎ কেন্দ্র হয়ে যাবে। রাজধানী ও তার আশপাশের এলাকার গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে সৈয়দ জুলফিকার আলী বলেন, ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাস প্রয়োজন হবে ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট। ঢাকায় আমাদের সেই পরিমাণ গ্যাস কমিয়ে দেওয়া যেতে পারে। এতে ঢাকায় গ্যাস সংকট দূর হবে, আবার বিদ্যুতের সংকটও দূর হবে। গণশুনানিতে বিইআরসি টেকনিক্যাল কমিটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ভোলার গ্যাস এলএনজি আকারে আনার বিষয়টি যেহেতু নতুন, তাই হিসাব করে সুনির্দিষ্ট খরচ বের করা কঠিন। কমিটির মতে, ২৯ টাকা ৯০ পয়সা ঊর্র্ধ্বসীমা করা যেতে পারে। এলএনজি আনার জন্য দরপত্র আহ্বান করার পর যে প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হবে তাদেরকে বিইআরসি লাইসেন্স নিতে হবে, তারপর গণশুনানি করে দর চূড়ান্ত করা যেতে পারে। গণশুনানিতে পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে বলা হয়, ভোলা থেকে এখন সিএনজি আকারে গ্যাস আনা হচ্ছে। সেই গ্যাসের পরিবহন খরচ নির্বাহী আদেশে ২৯ টাকা ৯০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই গ্যাসের দামসহ ভোক্তাকে দিতে হচ্ছে ৪৭ টাকা ৫০ পয়সা। আগের সরকারের নির্বাহী আদেশে নির্ধারিত গ্যাসের দামের সমান এলএনজির দামও নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
শুনানি শেষে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, আমরা সবার মতামত শুনেছি। আরও কারও কোনো মতামত থাকলে ২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে লিখিত মতামত দিতে পারবেন। তারপর যাচাইবাছাই করে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। শুনানিতে পেট্রোবাংলা, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড, বাপেক্স, জিটিসিএল, আরপিজিসিএলসহ ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা আলোচনায় অংশ নেন।