ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন ২২ জন সাবেক প্রভাবশালী মন্ত্রী-এমপি। এর বাইরে রয়েছেন ক্ষমতাধর সাবেক পাঁচজন সচিব, ১১ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক। সব মিলিয়ে ঢাকার কেরানীগঞ্জ বিশেষ কারাগারে থাকা ৮৯ জন বিশেষ বন্দি ভোট দিতে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন বলে নিশ্চিত করেছে কারা সূত্র।


কেরানীগঞ্জ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার তায়েব আলী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সংসদ ও গণভোটে অংশ নেওয়ার জন্য কারাগারগুলোতে প্রচার চালানো হয়েছিল। তিন সপ্তাহ ধরে অনলাইনে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এর মধ্যে কেরানীগঞ্জ বিশেষ কারাগারের ৮৯ জন বন্দি নিবন্ধনে অংশ নিয়েছেন। গত ৩১ ডিসেম্বর এ নিবন্ধন শেষ হয়েছে। তবে যারা ভোট দিতে নিবন্ধন করেননি তাদের মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার ও সাবেক এমপি হাজী মোহাম্মদ সেলিম অন্যতম।


যারা ভোট দিতে চান : রাজনৈতিক বন্দিদের মধ্যে অন্যতম হলো, সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান, সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, সাবেক মন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ বিশ্বাস, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, সাবেক এমপি ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, সাবেক এমপি হাজী রহিমুল্লাহ, সাবেক এমপি সালাম মুর্শেদী, সাবেক এমপি ডা. আজিজুল ইসলাম, সাবেক এমপি আমিরুল আলম মিলন ও সাবেক এমপি আবু রেজা নদভী। সাবেক সচিবদের মধ্যে অন্যতম হলেন, নির্বাচন কমিশনের সাবেক সচিব হেলাল উদ্দীন আহমেদ, মেজবাহ উদ্দীন, মোস্তাফা কামাল, এন এম জিয়াউল আলম। পুলিশ সদস্যদের মধ্যে অন্যতম সাবেক ডিআইজি মোল্লা নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মির্জা সালাউদ্দীন, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অনির্বাণ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট এসপি ইফতেখার মাহমুদ ও শাহ মশিউর রহমান। কারাবন্দি মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান শিবলী রুবায়েত ও ভোট দিতে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। জেল সুপার তায়েব আলী বলেন, বন্দি হিসেবে যারা ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন, তাদের মধ্যে কেউ জামিন পেলেও ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হলে তাকে আবার কারাগারের ভিতর নির্ধারিত বুথে যেতে হবে।


কারা সূত্র বলছে, দেশের কারাগারগুলোতে থাকা ৮৪ হাজার ৪০০ বন্দির মধ্যে ৭৮ হাজার ১৬০ জনই ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেননি। কারাগারে থাকা নির্ধারিত অ্যাপের মাধ্যমে ৬ হাজার ২৪০ বন্দি নিবন্ধন করলেও গতকাল পর্যন্ত তাদের মধ্যে কারাগারে আছেন ৫ হাজার ৯২০ জন। নিবন্ধন করা ৩২০ জন জামিনে কারাগার থেকে মুক্ত হয়েছেন। কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে ৭৫টি কারাগারের মাত্র ৬ হাজার ২৪০ বন্দি নিবন্ধন করেছেন। সূত্র আরও বলছে, সংশ্লিষ্ট এলাকার নিবন্ধিত ভোটারদের জন্য নির্বাচন কমিশন পৃথকভাবে খাম পাঠাবে। এতে তিনটি খামে থাকবে ভোট প্রদানের নিয়মাবলি, স্বাক্ষরের জন্য নির্ধারিত স্থান ও ব্যালট পেপার। বন্দিরা ব্যালট পেপারে ভোট দিয়ে খাম সিল করবেন। প্রতিটি কারাগারের নির্দিষ্ট একটি স্থান থাকবে, যেখানে বসে বন্দিরা ভোট দেবেন। ব্যালট পেপারের খাম ও স্বাক্ষরসংবলিত কপিটি আরেকটি খামে ভরে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেবেন বন্দিরা। কারা কর্তৃপক্ষ সেগুলো পোস্ট অফিসে পাঠাবেন। ডাক বিভাগ এক্সপ্রেস ব্যবস্থায় খামগুলো নির্বাচন কমিশনে পাঠাবে। এরপর নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় জমা পড়া ভোটের সংখ্যা যুক্ত করবে। কারা কর্মকর্তারাও পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে পারবেন।