সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে তৎপর বিজিবির (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) সঙ্গে গ্রামবাসী। এ ছাড়া গ্রামপুলিশ, আনসার-ভিডিপি নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে সীমান্তের প্রতিটি ইঞ্চি পাহারা দেওয়া হচ্ছে। রাত্রিকালীন নিরাপত্তায় থার্মাল ও ইনফ্রারেড ড্রোন ব্যবহারের পাশাপাশি উঠান বৈঠক বাড়ানো হয়েছে। বিজিবি বলছে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় কোনো ছাড় নেই।
লালমনিরহাট প্রতিনিধি সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানান, গতকাল সকালে বিএসএফ (ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী) কয়েক শ লোক নিয়ে আসে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশইন) জন্য। কিন্তু গ্রামবাসী ও বিজিবির প্রতিরোধে সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে পাটগ্রাম উপজেলার পানবাড়ীর কলসিরমুখ সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। অপর দিকে পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৮৫৫ নম্বর মেইন পিলারের কাছে বিএসএফ মানসিক ভারসাম্যহীন এক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী লোকজন তাদের ধাওয়া করলে বিএসএফ পিছু হটে। এর আগে গত শুক্রবার ভোরে লালমনিরহাট সীমান্তে ৩৩ জনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশ পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ।
পরে গ্রামবাসী ও বিজিবির বাধায় তা ব্যর্থ হয়। লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম জানান, পুরো সীমন্ত এলাকায় বিজিবি ও গ্রামবাসী পাহারা বসিয়েছে। কোনোভাবেই ভারতীয়দের পুশইন করতে দেওয়া হবে না।
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি জানান, ৩৬ ঘণ্টার বেশি সময় কেটে গেলেও হরিপুর সীমান্ত বর্ডারের শূন্য রেখায় অবস্থান করছেন পুশইন করা ব্যক্তিরা। গত ৬ জুন ভোরে শিশুসহ ১১ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) অধিনায়ক আবদুল্লাহ আল মঈন হাসান জানান, ৬ জুন দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত পিলার ৩৪৯/৭-এস এর কাছে বিএসএফ ১১ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ঢুকানোর চেষ্টা করে। বিজিবির টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের শনাক্ত করে এবং বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেয়। ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে তারা শূন্য রেখা বরাবর অবস্থান করছে। পতাকা বৈঠকেও বিষয়টির সুরাহা হয়নি। এদিকে সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে পাহারায় রয়েছেন স্থানীয়রাও।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ : জেলার সব সীমান্তে কঠোর নজরদারি, লোকবল ও টহল বাড়িয়েছে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন, ৫৯ বিজিবি ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন, ৫৩ বিজিবি। জেলার ১৮৪ কি. মিটার সীমান্তে দিন ও রাতে জোরদার করা হয়েছে পাহারার কাজ। বিজিবির পাশাপাশি আনসার-ভিডিপি সদস্যরা সীমান্ত পাহারায় অংশ নিচ্ছে। সীমান্তের নাগরিকদের সহযোগিতা চেয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে বিজিবি। এতে করে সচেতন রয়েছে সীমান্তের বাসিন্দারাও।
হবিগঞ্জ : জেলার ১০৩.২ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় দায়িত্বরত ৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করেছে। ব্যাটালিয়নের আওতাধীন ১৬টি বিওপি থেকে ২৪ ঘণ্টা টহল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত হবিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে কোনো অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেনি। ৫৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান জানান, স্থানীয় জনগণ, গ্রাম পুলিশ, আনসার-ভিডিপি নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে সীমান্তের প্রতিটি ইঞ্চি পাহারা দেওয়া হচ্ছে। রাত্রিকালীন নিরাপত্তায় থার্মাল ও ইনফ্রারেড ড্রোন ব্যবহারের পাশাপাশি উঠান বৈঠকের ব্যাপকতা বাড়ানো হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় কোনো ছাড় নেই।
অবৈধ পুশইন চেষ্টাকে বাধা দেব : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সতর্ক আছে। সব অবৈধ পুশইনের চেষ্টাকে আমরা বাধা দেব। এ পর্যন্ত তাই হয়েছে। তবে বিষয়গুলো কূটনৈতিক চ্যানেলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা প্রয়োজন।’
আজ থেকে নয়াদিল্লিতে হতে যাওয়া বিজিবি ও বিএসএফের ডিজি পর্যায়ের চার দিনের বৈঠক নিয়ে তিনি আরও বলেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ চলমান রয়েছে। ডিজি পর্যায়ের ওই বৈঠকে সীমান্ত পরিস্থিতি, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা এবং বিশেষ করে অবৈধ পুশইনের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরা হবে।
গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এদিকে আলোচিত রামিসা হত্যা মামলা দেশের বিচারিক ইতিহাস ও পুলিশের তদন্ত কার্যক্রমে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মামলার ডেথ রেফারেন্স দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকার সুপ্রিম কোর্টের নজরে বিষয়টি আনবে এবং অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হবে। ডেথ রেফারেন্স শুনানির পর যদি মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে, তাহলে কার্যকর করতে আর কোনো সময়ের বিলম্ব হবে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, রামিসা হত্যার ঘটনাসহ বেশ কয়েকটি জটিল মামলার দ্রুত সময়ে তদন্ত সম্পন্ন ও আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশ বাহিনী অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও পেশাদারি ভূমিকা পালন করেছে। ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করা হবে। একইভাবে কোনো সদস্যের নিষ্ক্রিয়তা বা অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঘটনাকেও ছাড় দেওয়া হবে না।
গত শনিবার অনুষ্ঠিত সংসদীয় দলের বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, অপরাধ ও মাদক দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযান সবসময়ই চলমান রয়েছে। প্রচলিত কিছু আইনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা যেন পার পেয়ে যেতে না পারে, সেজন্য সরকার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ এবং জুয়া প্রতিরোধে যুগোপযোগী ও আধুনিক আইন প্রণয়নের কাজ করছে।