এক-দুই নয়, গুনে গুনে ২৩ বছর। এই দীর্ঘ সময়ে ছয়টি ওয়ানডে বিশ্বকাপ (২০০৩-২০২৩), টি-২০ বিশ্বকাপ হয়েছে ১০টি (২০০৭-২০২৬)। বিশ্বব্যাপী টেস্ট ম্যাচও হয়েছে অনেক। বাংলাদেশ টেস্ট খেলেছে এক শ-এর ওপর। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তানকে টেস্ট ক্রিকেটে হারিয়েছে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনাল, ওয়ানডে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে। তাসমান সাগর পাড়ের দেশটিতে ওয়ানডে, টি-২০ ম্যাচ খেলেছে বেশ কয়েকটি। কিন্তু ২৩ বছরে আর কখনই দেশটির মাটিতে টেস্ট খেলেনি। ২০০৩ সালে খালেদ মাহমুদ সুজনের নেতৃত্বে দুই টেস্ট ম্যাচ সিরিজ খেলেছিল। ২০২৬ সালে খেলবে নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে দুটি টেস্ট। এবার কি নতুন ইতিহাস লিখবেন নাজমুলরা? আজ সকালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট খেলবে ‘ফিশিং সিটি’ ডারউইনে। এর আগে তিন দিনে টেস্ট শেষ হলেও এবার পাঁচ দিনই খেলতে চাইছেন টাইগার অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, ‘আমরা পাঁচ দিন ভালো ক্রিকেট খেলতে চাই। সেশন বাই সেশন খেলতে চাই।’
দুই দেশের এটা চতুর্থ টেস্ট সিরিজ। ২০০৩ ও ২০০৬ সালে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। ২০১৭ সালে সিরিজের ব্যবধান ছিল ১-১। মিরপুরে ২০ রানের ঐতিহাসিক জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। ঐতিহাসিক টেস্টটি জিতেছিল মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বে। ওই টেস্টে খেলেছিলেন মুশফিক ছাড়া সৌম্য সরকার, তাইজুল ইসলাম ও মেহেদি হাসান মিরাজ। এই চার ক্রিকেটার ডারউইন টেস্ট স্কোয়াডেও রয়েছেন। সৌম্য পাঁচ বছর পর টেস্ট দলে ফিরেছেন। মুশফিক, মিরাজ ও তাইজুল একাদশের নিয়মিত ক্রিকেটার। বাংলাদেশের প্রথম ও একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে শততম (১০৩) টেস্ট খেলার বিরল রেকর্ড গড়েছেন সাবেক অধিনায়ক মুশফিক। মিরাজ স্পিন অলরাউন্ডার। তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে সেঞ্চুরিও করেন মিরাজ। ৫৮ টেস্টে তার রান ২২৩১ এবং উইকেট ২১৯টি। তাইজুল আরও অভিজ্ঞ বোলার। ৬০ টেস্টে তার উইকেট ২৭০টি ও রান ৯২০। মুশফিকের ১০৩ টেস্টে ১৪ সেঞ্চুরিতে ৬৮০৬ রান। সৌম্যর রান ১৬ টেস্টে ৮৩১।
ডারউইনে এর আগে যে টেস্টটি খেলেছিল বাংলাদেশ, সেটা হেরেছিল ইনিংস ও ১৩২ রানে। খেলা শেষ হয়েছিল তৃতীয় দিনে। খেলা হয়েছিল মোট ২১১.২ ওভার। স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার ৭ উইকেটে ৪০৭ রানের জবাবে দুই ইনিংসে টাইগারদের সংগ্রহ ছিল ৯৭ ও ১৭৮। ডারউইনের পর ২২ আগস্ট ম্যাকেইতে দ্বিতীয় টেস্ট। কন্ডিশন ও উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে আনতে বেশ আগে অস্ট্রেলিয়া গেছেন নাজমুলরা। একটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছেন। যদিও অস্ট্রেলিয়ান একাদশের বিপক্ষে ম্যাচটি নাজমুলরা হেরেছেন ইনিংস ব্যবধানে। ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে আজ যে টেস্ট খেলছেন, এখানে গত ২৩ বছরে টেস্ট হয়েছে মাত্র দুটি। স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলেছে বাংলাদেশ ছাড়া শ্রীলঙ্কা। দুটি টেস্টেই ফল হয়েছে তিন দিনে। এবার টেস্টে লম্বা সময় ধরে হোক চাইছেন ডারউইনের কিউরেটর জ্যাক পাভলিচ, ‘একটা মানসম্মত উইকেট হবে, যেখানে রান উঠবে। বোলাররা সহায়তা পাবে। সত্যি বলতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার মতো অবস্থায় আমরা নেই। এমন একটা ভারসাম্যপূর্ণ উইকেট হবে, যা সত্যিই খেলার জন্য উপযোগী।’