বাংলাদেশের ক্রিকেটে ‘পঞ্চপাণ্ডব’ অধ্যায় প্রায় শেষ। পাঁচ পাণ্ডবের অন্যতম মাশরাফি বিন মর্তুজা এখন পুরোপুরি ক্রিকেটের বাইরে। সাকিব আল হাসান ক্রিকেট বিশ্বের বিভিন্ন টি-২০ ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলছেন। তামিম ইকবাল খেলা ছেড়ে এখন বিসিবির সভাপতি। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেও ঘরোয়া ক্রিকেট খেলছেন এবং ক্রিকেটারদের মেন্টর হিসেবে এখন কাজ করছেন। পাঁচ পাণ্ডবের অন্যতম সিনিয়র মুশফিকুর রহিম ওয়ানডে ও টি-২০ ক্রিকেটকে বিদায় বললেও টেস্ট খেলছেন। সাবেক অধিনায়ক মুশফিক অস্ট্রেলিয়ায় স্বাগতিক দেশটির বিপক্ষে দুই টেস্ট ম্যাচ সিরিজ খেলবেন। তাসমান সাগর পাড়ের দেশটিতে বাংলাদেশ টেস্ট সিরিজ খেলবে ২৩ বছর পর। সফরে টাইগারদের বোলিংয়ের মূল অস্ত্র নাহিদ রানা নেই। খেলার সম্ভাবনা কম বাঁ-হাতি পেসার শরিফুল ইসলামের। প্যাট কামিন্সের শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের মূল ভরসা চার ব্যাটার-মুশফিক, মুমিনুল হক, লিটন দাস ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ২০০৩ সালে বাংলাদেশের সাবেক টেস্ট অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজন বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া সফরে চোখে চোখ রেখে লড়াই করতে দলের সব ব্যাটারের দায়িত্ব নিয়ে ব্যাটিং করতে হবে। কেননা, লড়াই করতে হবে ব্যাটারদের। তাদের ওপরই নির্ভর করবে দলের সাফল্য।’
বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত তিনটি টেস্ট সিরিজ খেলেছে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। দুটিতে হারলেও ২০১৭ সালে ১-১ ব্যবধানে ড্র করে। ওই সিরিজটিতে খেলেছিলেন টাইগারদের দুই সাবেক অধিনায়ক মুশফিক ও মুমিনুল। লিটনের অভিষেক ২০১৫ সালে হলেও তিনি খেলেননি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। অভিষেক হয়নি নাজমুলেরও। মুশফিকের টেস্ট ক্যারিয়ার প্রায় ২১ বছরের। টাইগারদের চার ব্যাটিং স্তম্ভ২০০৫ সালে লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেকের পর বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ১০০ টেস্ট খেলার বিরল কীর্তি গড়েন মুশফিক। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট খেলা পর্যন্ত সাবেক অধিনায়ক ১০৩ টেস্টের ১৯০ ইনিংসে ৩৯.১১ গড়ে ৬ হাজার ৮০৬ রান করেন। তিনটি ডাবল সেঞ্চুরিসহ তার সেঞ্চুরি ১৪টি, যা দেশের পক্ষে সর্বাধিক। হাফ সেঞ্চুরি ২৯টি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২০১৭ সালে দুই টেস্টের চার ইনিংসে একটি হাফ সেঞ্চুরিসহ ১৫৮ রান করেছিলেন তিনি। অভিষেক টেস্টে ১৯ রান করলেও শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করে বিরল রেকর্ড বইয়ে নাম লেখেন মুশফিক। চাপের মুখে তিনি ১০৬ রান করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ৫৩ রান।
মুমিনুলের টেস্ট ক্যারিয়ার ১৪ বছরের। ২০১২ সালে গলে অভিষেক টেস্টে ৫৫ রান করেন। দারুণ ছন্দে বাঁ-হাতি ব্যাটার। ৭৮ টেস্টে ১৪৫ ইনিংসে ৩৮ গড়ে রান করেছেন ৫ হাজার ১৩১। সেঞ্চুরি ১৩ এবং হাফ সেঞ্চুরি ২৮টি। সাবেক অধিনায়ক বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে টেস্টের উভয় ইনিংসে সেঞ্চুরি করেন। ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম টেস্টে তিনি রান করেন ১৭৬ ও ১০৫। ২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এক টেস্টের দুই ইনিংসে রান করেছিলেন ৩১ ও ২৯। সর্বশেষ ৯ ইনিংসের পাঁচটিতে টানা হাফ সেঞ্চুরি করেন। টানা হাফ সেঞ্চুরির ইনিংসগুলো ৫৬, ৯১, ৮৭, ৬৩ ও ৮২।
ইনজুরিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলারই সুযোগ ছিল না লিটনের। ম্যাকেইতে দ্বিতীয় টেস্ট খেলার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু নাটকীয়ভাবে ডারউইন টেস্টে সুযোগ পেয়ে যান ফিটনেস টেস্টে পাস করে। ২০১৫ সালে লিটনের অভিষেক ভারতের বিপক্ষে ফতুল্লায়। ১১ বছরের টেস্ট ক্যারিয়ারে ৩৬.৪৭ গড়ে রান করেছেন ৩ হাজার ৩৫৬। অধিনায়ক নাজমুল বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে টেস্টের উভয় ইনিংসে জোড়া সেঞ্চুরি করেছেন দুবার। ২০২৩ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে মিরপুরে খেলেন ১৪৬ ও ১২৪ রানের ইনিংস। ২০২৫ সালে গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৪৮ ও অপরাজিত ১২৫ রানের ইনিংস খেলেন। ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ডে হঠাৎ টেস্ট অভিষেক নাজমুলের। এরপর ৪২ টেস্টের ৭৯ ইনিংসে ৩৩.৪৯ গড়ে ২ হাজার ৫৭৯ রান করেন টাইগার অধিনায়ক। সেঞ্চুরি ৯টি ও হাফ সেঞ্চুরি ৬টি। এই চার ব্যাটারের পারফরম্যান্সের ওপরই নির্ভর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশের সাফল্য।