সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবলে বাংলাদেশ বরাবরই ফেবারিট। অথচ আসরে একবারই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে জাতীয় দল। ২০০৩ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাফ ফুটবলে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয় ফাইনালে মালদ্বীপকে হারিয়ে। এরপর দুবার ফাইনাল খেললেও দীর্ঘ ২৩ বছর ট্রফি থেকে বঞ্চিত লাল-সবুজের দল। ব্যর্থতা এমন পর্যায়ে গিয়েছিল, সেমিফাইনাল খেলাটাও স্বপ্নে পরিণত হয়েছিল। ২০২৩ সালে পাঁচ আসরের পর ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছিল তারা। ২০১৮ সালে ঢাকায় শেষবার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ হয়।
আট বছর পর ঘরের মাঠে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই হচ্ছে। ৪ থেকে ১৭ নভেম্বর খেলা। গ্রুপও নির্ধারণ হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে-প্রায় দুই যুগ পর হারানো গৌরব উদ্ধার করা সম্ভব ডশ না? সত্যি বলতে কী, অতীতে যাই ঘটুক এবার সাফল্যের ব্যাপারে অনেকে আশাবাদী। কারণটা সবারই জানা। হামজা দেওয়ান চৌধুরী, সামিত সোম, জায়ান আহমেদ, ফাহামিদুল ইসলামরা আসার পর জাতীয় দলের শক্তি অনেক বেড়েছে। এসব প্রবাসীকে খেলিয়েও এশিয়ান কাপ বাছাই পর্ব পার হতে পারেনি। কিন্তু মানের যে উন্নতি ঘটেছে এ নিয়ে সংশয় নেই। মান নিচে নেমে যাওয়ায় ঘরের মাঠেও জাতীয় দলের খেলা হলে গ্যালারি থাকত প্রায় ফাঁকা। ফুটবলের প্রতি দর্শকরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন। হামজারা খেলায় দৃশ্যটা বদলে গেছে।
শোনা যাচ্ছে, সাফে দলের শক্তি বাড়াতে আরও কয়েকজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রবাসী ফুটবলাররা জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত হবেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম ইংলিশ লিগে ফুলহ্যামে যোগ দেওয়া ফারহান আলি ওয়াহিদ। প্রবাসীদের সংখ্যা বাড়লে সাফে দলের শক্তি বাড়বেই। আগে ভারতকে ঘিরে জুজুর ভয় থাকলেও তা কেটে গেছে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে ঘরের মাঠে জয় পেয়ে। হামজাদের যখন সাফ চ্যাম্পিয়ন শিপে অভিষেক হতে যাচ্ছে তখন শিরোপা জেতার সম্ভাবনা থাকবে। একসঙ্গে পরীক্ষিত ৬-৭ জন প্রবাসী ফুটবলার খেলা মানেই জাতীয় দলের চেহারা বদলে যাওয়া। তার পর আবার নিজের মাঠ, গ্যালারি ভরা সমর্থক থাকবে।
বাংলাদেশের সাফল্যটা নির্ভর করছে মূলত প্রবাসীদের পারফরম্যান্সের ওপর। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে হামজা, সামিতরা সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের হয়ে সব ম্যাচ খেলতে পারবেন কি না? সাফ যখন শুরু হচ্ছে তখন ৯ থেকে ১৭ নভেম্বর ফিফা উইন্ডো অর্থাৎ দল বদল শুরু হবে। বাংলাদেশের প্রবাসীরা তো আবার বিভিন্ন দেশে লিগ খেলে থাকেন।
এই সময় তাদের ক্লাব সাফ খেলার অনুমতি দেবে কি না। সাফ শুরু হচ্ছে ৪ নভেম্বর থেকে। উদ্বোধনী দিনে স্বাগতিক হিসেবে বাংলাদেশের খেলা থাকার সম্ভাবনা বেশি। ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা ও ভুটান। নেপালের নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে তারাও ‘এ’ গ্রুপে খেলবে। তাহলে গ্রুপে তিন ম্যাচ খেলতে হবে। হামজা খেলেন লেস্টারসিটিতে। সে ক্ষেত্রে ৪ নভেম্বর বাংলাদেশের ম্যাচ থাকলে হামজার খেলার সম্ভাবনা বেশি। কেননা, ওই সময় লেস্টারের খেলা নেই। সামিতের নতুন ক্লাব এখনো ঠিক হয়নি। তার খেলা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
প্রশ্ন উঠতে পারে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে হামজাদের খেলতে তো সমস্যা হয়নি। তখন বাংলাদেশের ম্যাচ হতো ঘরে ও বাইরে। দেখা গেছে এক ম্যাচের পর ২৫ দিন বা এক মাস পর আরেক খেলা। ৩-৪ দিনের জন্য প্রবাসীরা উড়ে আসতেন এবং খেলেই ফিরে যেতেন। সাফের বাংলাদেশের খেলা তো আর এত লম্বা গ্যাপে হবে না। তাই প্রবাসীদের সব ম্যাচ খেলা নিয়ে শঙ্কা তো থাকছেই। বাফুফে থেকে বলা হচ্ছে, কোনো সমস্যা হবে না। প্রবাসীরা সব ম্যাচই খেলতে পারবেন। ৪ থেকে ১৭ নভেম্বর অর্থাৎ টানা ১৩ দিন। বিদেশি ক্লাবগুলো নিজেদের খেলা বাদ দিয়ে হামজাদের অনুমতি দেবে কি না, সেটাই এখন বড় শঙ্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে।