লিওনেল মেসির মতোই ছন্দে রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। আর্জেন্টাইন অধিনায়ক মেসির পেছন পেছন ছুটছেন ফ্রান্সের অধিনায়ক এমবাপ্পে। দুই অধিনায়ক একই দিনে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলছেন। দুজনে গোল করছেন এবং দলকে জেতাচ্ছেন। দুজনের নামের সঙ্গেই জার্মানির কিংবদন্তি তারকা মিরোসøাভ ক্লোসা জড়িয়ে আছেন। অস্ট্রিয়া ম্যাচে জোড়া গোল করে মেসি পেছনে ফেলেছেন ক্লোসাকে। মেসির গোল এখন ১৮টি। ক্লোসার ১৬টি। ইরাকের বিপক্ষে জোড়া গোলের পর এমবাপ্পের গোল ১৬টি। তিনি ছুঁয়েছেন ক্লোসাকে। পরশু রাতে ইরাকের বিপক্ষে বৃষ্টিবাধার সাড়ে তিন ঘণ্টার ম্যাচটি ৩-০ গোলে জিতেছে দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এমবাপ্পে। ফরাসি অধিনায়কের গোল এখন চারটি। মেসির গোল পাঁচটি এবং নরওয়ের আর্লিং হলান্ডের গোল চারটি। তিন তারকা ফুটবলারই রয়েছেন গোল বুট জেতার রেসে। ইরাককে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করে টানা দুই জয়ে গ্রুপ ‘আই’ থেকে গ্রুপচ্যাম্পিয়ন হয়েছে ফ্রান্স। সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা প্রথম ম্যাচে সেনেগালকে ৩-১ ও পরশু রাতে ইরাককে ৩-০ গোলে হারিয়েছে। শেষ ম্যাচে এমবাপ্পের মুখোমুখি হবে হলান্ডের নরওয়ের বিপক্ষে। দুই দেশই নকআউট পর্বে উঠেছে। দুই দেশ লড়াই করবে গ্রুপের শীর্ষস্থানের জন্য। 


ফিলাডেলফিয়ায় ফ্রান্স-ইরাক ম্যাচ শুরুর আগেই আবহাওয়ার পূর্বাভাস ছিল বজ্রপাতসহ বৃষ্টির। ম্যাচ শুরু হয় নির্ধারিত সময়ে। ম্যাচ চলাকালীন বৃষ্টি শুরু হয়। ম্যাচের এক সময় স্টেডিয়ামের ৮ কিলোমিটার দূরে বজ্রপাত হলে রেফারি খেলা বন্ধ করে দেন। স্টেডিয়ামের জায়ান্ট স্ত্রিনে সতর্কতামূলকভাবে দর্শকদের স্টেডিয়াম থেকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার অনুরোধ করে কর্তৃপক্ষ। খেলা বন্ধ হওয়ার সময় এমবাপ্পের গোলে এগিয়েছিল ফ্রান্স। ম্যাচে এমবাপ্পে জোড়া গোল করেন। বাকি গোলটি করেছেন ডেম্বেলে। কিন্তু ম্যাচের মূল আলোচনায় ছিল আবহাওয়া। ৯০ মিনিটের খেলা হয়েছে সাড়ে তিন ঘণ্টা। ম্যাচের বিরতি ছিল ১৫ মিনিট। সেই খেলা বন্ধ ছিল ২ ঘণ্টা ১১ মিনিট। চলতি বিশ্বকাপে এই প্রথম খেলা বন্ধ ছিল ঝোড়ো বৃষ্টিতে। খেলা বন্ধের সময় সাজঘরে বসে থাকাটা ক্লান্তিকর মনে হয়েছে এমবাপ্পের, ‘সন্ধ্যাটা খুব দীর্ঘ ছিল। আমরা অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেছি। মানসিক ও আবেগের দিক থেকে এটা ছিল খুবই ক্লান্তিকর। কারণ ড্রেসিং রুমে বসে থেকেও পুরো মনোযোগ ধরে রাখতে হয়েছে।’ ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম বলেন, ‘আমি খেলোয়াড়দের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছিলাম। আড্ডা দিয়েছি, মজা করেছি। এখানে নিরাপত্তার বিষয় জড়িত। বৃষ্টি বা বজ্রপাতের সঙ্গে তো লড়াই করা যায় না। ঝুঁকি না নেওয়া ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’